ময়মনসিংহ , বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে যেকোনো বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে প্রস্তুত জানিয়েছেন জামায়াত আমির মদনে উচিপুর হাওরে অবৈধ বেড় ও চায়না জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস শেখ হাসিনা রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন কি না, তা ভারতকেই স্পষ্ট করতে হবে বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উত্তাল সেই দিনগুলো: জুলাই অভ্যুত্থানের এই সময়েই ঘোষণা করা হয়েছিল তিন দিনের সাধারণ ছুটি আন্দোলনের উত্তাল পরিস্থিতিতে সারাদেশের সব পোশাক কারখানা বন্ধের ঘোষণা জাতীয় মৎস্য পক্ষ সফল করতে শেরপুরে প্রস্তুতি সভা যেকোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে প্রস্তুত: জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবসে র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: ১০ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী পূর্বধলায় ৩০ অসহায় পরিবার পেলেন অনুদান, বেশ কিছু উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করলেন এমপি মানসুরা নরসিংদীতে কক্ষে আটকে পড়া দুই বছরের শিশুকে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

​মেসির চোখের জল: গোল উদযাপনের আড়ালে লুকিয়ে কোন আবেগ?

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ম্যাজিক দেখালেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে জাদুকরের মতো খেলে হ্যাটট্রিক করেছেন, ভেঙেছেন একাধিক বিশ্বরেকর্ড। কিন্তু ম্যাচ শেষে মাঠের সেই চেনা হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্য মেসিকে দেখলো ফুটবল বিশ্ব। 

প্রথম গোলটি করার পর কেন তার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়েছিল, ম্যাচ শেষে তার এক আবেগঘন ব্যাখ্যা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

তিনি জানিয়েছেন, ফুটবল মাঠের বাইরে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত জীবনে এক অত্যন্ত কঠিন ও জটিল সময় পার করছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটি সম্পূর্ণ খেলাধুলার বাইরের একটি বিষয়। আমি গত কয়েকটা দিন খুব কঠিন এবং জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি। তবে আমি আমাদের পুরো দলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমার সতীর্থরা সবসময় আমার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আমাকে অনেক শক্তি দিয়েছে যাতে আমি মাঠে ঠিক থাকতে পারি।’

তিনি এই কঠিন পরিস্থিতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও এটা স্পষ্ট যে, এক বিশাল মানসিক চাপ ও আবেগঘন বোঝা মাথায় নিয়ে তিনি বিশ্বকাপের এই বিশেষ মিশনটি শুরু করেছেন।

দেশের হয়ে ২০০তম ম্যাচ খেলার রাতে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড স্পর্শ করার পর মেসি তার বর্তমান ফুটবল জীবন নিয়ে বলেন, ‘আমি এখন যা উপভোগ করছি তার সবই আমার জন্য বাড়তি পাওনা। দলগত বা ব্যক্তিগতভাবে আমি আমার ছোটবেলার স্বপ্নের চেয়েও অনেক বেশি কিছু অর্জন করার ভাগ্য নিয়ে এসেছি। আজ আমি একটি চমৎকার দল উপভোগ করছি, মাঠে ভালো বোধ করছি। ছোটবেলা থেকেই যেভাবে ফুটবল ভালোবাসতাম, আজীবন ঠিক সেভাবেই খেলে যেতে চাই।’

ম্যাচের প্রথমার্ধের কঠিন লড়াই নিয়ে মেসি বলেন, ‘আমরা জানতাম তারা খুব গতিশীল ও শারীরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকা একটি দল। যদি আমরা তাদের পায়ে বল বেশি সময় রাখতাম, তবে তারা আমাদের বিপদে ফেলতে পারত। প্রথমার্ধে আমাদের বল পজিশন রাখতে কিছুটা কষ্ট হয়েছিল, তবে রক্ষণভাগে আমরা দারুণভাবে নিজেদের ধরে রেখেছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের খেলা পুরোপুরি বদলে যায়। কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের অভিজ্ঞতা আমাদের মাথায় ছিল। এই বিশ্বকাপে কোনো দলই কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দেবে না, প্রতিটি ম্যাচই খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।’

ফুটবলের প্রতি নিজের চিরন্তন ক্ষুধা নিয়ে কথা বলার সময় মেসি টেনিস কিংবদন্তি রাফা নাদালের উদাহরণ টানেন।

মেসি বলেন, ‘আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, ছোটবেলা থেকেই এটা আমার একমাত্র প্যাশন। আমি যখন মাঠে থাকি, নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা সম্প্রতি রাফা নাদালের একটি সিরিজ দেখছিলাম এবং আমি তার সাথে নিজের অনেক মিল খুঁজে পেয়েছি। আমরা দুজনেই এই দিক থেকে এক রকম যে, মাঠে নামলে সবসময় নিজের সেরাটা দিতে চাই এবং খেলাটাকে এভাবেই উপভোগ করি। যতদিন শরীর সায় দেবে, আমি এভাবেই দলকে সাহায্য করে যাব।’

মাঠের বাইরের ব্যক্তিগত জীবনের শত ঝড় সামলেও মেসি প্রমাণ করলেন, কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়। কোচের ভালোবাসা এবং দলের সমর্থনে এই মানসিক চাপ জয় করেই তিনি আর্জেন্টিনাকে এনে দিলেন টুর্নামেন্টের প্রথম দুর্দান্ত জয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের স্বার্থে যেকোনো বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে প্রস্তুত জানিয়েছেন জামায়াত আমির

​মেসির চোখের জল: গোল উদযাপনের আড়ালে লুকিয়ে কোন আবেগ?

আপডেট সময় ১২:২৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ম্যাজিক দেখালেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে জাদুকরের মতো খেলে হ্যাটট্রিক করেছেন, ভেঙেছেন একাধিক বিশ্বরেকর্ড। কিন্তু ম্যাচ শেষে মাঠের সেই চেনা হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্য মেসিকে দেখলো ফুটবল বিশ্ব। 

প্রথম গোলটি করার পর কেন তার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়েছিল, ম্যাচ শেষে তার এক আবেগঘন ব্যাখ্যা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

তিনি জানিয়েছেন, ফুটবল মাঠের বাইরে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত জীবনে এক অত্যন্ত কঠিন ও জটিল সময় পার করছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটি সম্পূর্ণ খেলাধুলার বাইরের একটি বিষয়। আমি গত কয়েকটা দিন খুব কঠিন এবং জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি। তবে আমি আমাদের পুরো দলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমার সতীর্থরা সবসময় আমার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আমাকে অনেক শক্তি দিয়েছে যাতে আমি মাঠে ঠিক থাকতে পারি।’

তিনি এই কঠিন পরিস্থিতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও এটা স্পষ্ট যে, এক বিশাল মানসিক চাপ ও আবেগঘন বোঝা মাথায় নিয়ে তিনি বিশ্বকাপের এই বিশেষ মিশনটি শুরু করেছেন।

দেশের হয়ে ২০০তম ম্যাচ খেলার রাতে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড স্পর্শ করার পর মেসি তার বর্তমান ফুটবল জীবন নিয়ে বলেন, ‘আমি এখন যা উপভোগ করছি তার সবই আমার জন্য বাড়তি পাওনা। দলগত বা ব্যক্তিগতভাবে আমি আমার ছোটবেলার স্বপ্নের চেয়েও অনেক বেশি কিছু অর্জন করার ভাগ্য নিয়ে এসেছি। আজ আমি একটি চমৎকার দল উপভোগ করছি, মাঠে ভালো বোধ করছি। ছোটবেলা থেকেই যেভাবে ফুটবল ভালোবাসতাম, আজীবন ঠিক সেভাবেই খেলে যেতে চাই।’

ম্যাচের প্রথমার্ধের কঠিন লড়াই নিয়ে মেসি বলেন, ‘আমরা জানতাম তারা খুব গতিশীল ও শারীরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকা একটি দল। যদি আমরা তাদের পায়ে বল বেশি সময় রাখতাম, তবে তারা আমাদের বিপদে ফেলতে পারত। প্রথমার্ধে আমাদের বল পজিশন রাখতে কিছুটা কষ্ট হয়েছিল, তবে রক্ষণভাগে আমরা দারুণভাবে নিজেদের ধরে রেখেছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের খেলা পুরোপুরি বদলে যায়। কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের অভিজ্ঞতা আমাদের মাথায় ছিল। এই বিশ্বকাপে কোনো দলই কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দেবে না, প্রতিটি ম্যাচই খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।’

ফুটবলের প্রতি নিজের চিরন্তন ক্ষুধা নিয়ে কথা বলার সময় মেসি টেনিস কিংবদন্তি রাফা নাদালের উদাহরণ টানেন।

মেসি বলেন, ‘আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, ছোটবেলা থেকেই এটা আমার একমাত্র প্যাশন। আমি যখন মাঠে থাকি, নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা সম্প্রতি রাফা নাদালের একটি সিরিজ দেখছিলাম এবং আমি তার সাথে নিজের অনেক মিল খুঁজে পেয়েছি। আমরা দুজনেই এই দিক থেকে এক রকম যে, মাঠে নামলে সবসময় নিজের সেরাটা দিতে চাই এবং খেলাটাকে এভাবেই উপভোগ করি। যতদিন শরীর সায় দেবে, আমি এভাবেই দলকে সাহায্য করে যাব।’

মাঠের বাইরের ব্যক্তিগত জীবনের শত ঝড় সামলেও মেসি প্রমাণ করলেন, কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়। কোচের ভালোবাসা এবং দলের সমর্থনে এই মানসিক চাপ জয় করেই তিনি আর্জেন্টিনাকে এনে দিলেন টুর্নামেন্টের প্রথম দুর্দান্ত জয়।