আসন্ন পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন হাওয়া বইতে শুরু করেছে। উপজেলার তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মাঝে তুমুল উদ্দীপনা সৃষ্টি করে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার দৃঢ় ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন জননেতা ইশতিয়াক আহামেদ বাবু। তিনি পূর্বধলার রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, তিন মেয়াদের সফল বি আর ডিবির চেয়ারম্যান এবং দুই মেয়াদের অত্যন্ত জনপ্রিয় সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মরহুম মোস্তাক আহমেদের জ্যেষ্ঠ সন্তান।
পারিবারিক ঐতিহ্য ও বাবার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পাথেয় করে তরুণ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এই নেতা নির্বাচনী মাঠে নামার ঘোষণা দেওয়ায় পূর্বধলার আপামর জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।
এক আবেগঘন ও নীতিগুরুত্বপূর্ণ বার্তায় ইশতিয়াক আহামেদ বাবু পূর্বধলাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন,
”আপনারা সবাই আমার পরম শ্রদ্ধেয় বাবা মোস্তাক আহমেদকে চেনেন ও গভীরভাবে ভালোবাসেন। তাঁর সততা, কর্মদক্ষতা এবং দীর্ঘদিনের নিঃস্বার্থ জনসেবার মাধ্যমে পূর্বধলার প্রতিটি কোণ আজ উপকৃত। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ—সর্বত্র তিনি আজীবন আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন। বাবার সেই গৌরবময় উত্তরাধিকার এবং আদর্শকে বুকে ধারণ করেই আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। আপনাদের প্রতি আমার আকুল प्रार्थना, অতীতের মতোই আপনারা আমার পাশে থাকুন, আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন।”
তিনি আরও যোগ করেন,
”আমি যেন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে আমার বাবার সততার সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে পারি এবং পূর্বধলার অসমাপ্ত জনসেবা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে আরও বেগবান ও আধুনিক করতে পারি—এটাই আমার মূল লক্ষ্য।”
জনকল্যাণে ইশতিয়াক আহামেদ বাবুর বিশেষ প্রতিশ্রুতিসমূহ:
নির্বাচনে জয়ী হলে পূর্বধলাকে একটি আধুনিক, স্মার্ট ও বৈষম্যহীন মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে নিজের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন ইশতিয়াক আহামেদ বাবু। তিনি বলেন—
* দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন: উপজেলা পরিষদকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং সকল সেবা সম্পূর্ণ হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করা হবে।
* তরুণদের কর্মসংস্থান ও আইটি পার্ক: পূর্বধলার বেকারত্ব দূরীকরণে যুবসমাজকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে একটি বিশেষ আইটি ও ট্রেনিং জোন গড়ে তোলা হবে।
* কৃষি ও মৎস্য চাষের আধুনিকায়ন: পূর্বধলার মূল চালিকাশক্তি কৃষি ও মৎস্য খাত। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং মৎস্য চাষিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
* যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন: গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার টেকসই সংস্কারের মাধ্যমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের সাথে সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করা হবে।
* শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন: প্রত্য অঞ্চলের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ গ্রামীণ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি করা হবে, যেন কোনো মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।
মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ: যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি এবং পূর্বধলাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত ও নিরাপদ একটি জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং সাধারণ ভোটারদের মতে, মরহুম মোস্তাক আহমেদ যেভাবে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন, তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে ইশতিয়াক আহামেদ বাবুও পূর্বধলার উন্নয়ন ও সম্প্রীতির রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবেন। মাঠপর্যায়ে ইতিমধ্যেই তাঁর পক্ষে একটি শক্তিশালী জনমত তৈরি হতে শুরু করেছে।

হারাধন সূত্রধর: পূর্বধলা (নেত্রকোনা): বিশেষ প্রতিনিধি 


















