শিক্ষক নিহতের ঘটনায় আন্দোলনের মুখে বন্ধ ও সিলগালা হওয়া নওগাঁ সদর উপজেলার বিতর্কিত ‘বিবিসি BRICK’ (বিবিসি ব্রিকস) ইটভাটাটি প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন এই অবৈধ ইটভাটায় আবারও ইট পোড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (২৭ জুলাই) সরেজমিনে নওগাঁ-বদলগাছী আঞ্চলিক মহাসড়কের শশীর মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জনবসতি ও প্রধান সড়কের পাশেই অবস্থিত ‘বিবিসি ব্রিকস’ ইটভাটাটিতে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করার তোড়জোড় চলছে। ভাটায় ইট পোড়ানোর জন্য চুলা প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মার্চ বেলা ১১টার দিকে কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের কাদিমপুর এলাকায় বিবিসি ব্রিকসের মাটি বহনকারী একটি দ্রুতগতির ট্রাক্টরের চাপায় রিমন হোসেন (৩০) নামে এক কোচিং শিক্ষক নিহত হন। মোটরসাইকেলে করে পড়াতে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা ভাটাটিতে হামলা চালিয়ে চারটি ট্রাক্টর ও একটি এক্সকাভেটর আগুনে পুড়িয়ে দেয় এবং মহাসড়ক অবরোধ করে।
পরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইটভাটাটি স্থায়ীভাবে বন্ধের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। সে সময় প্রশাসনের উদ্যোগে ইটভাটার চুল্লি ভেঙে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ও ভাটাটি সিলগালা করা হয়েছিল।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় মালিকপক্ষ প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে আবারও ভাটাটি চালুর চেষ্টা করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই তৎপরতায় এলাকায় নতুন করে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে বিবিসি ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী শহীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকার কথা স্বীকার করেন এবং একপর্যায়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জরিপ অনুযায়ী নওগাঁ জেলায় সচল ১৫০টি ইটভাটার মধ্যে ১২৫টিরই পরিবেশগত কোনো ছাড়পত্র নেই। ‘বিবিসি ব্রিকস’ও সেই তালিকাভুক্ত একটি অবৈধ ইটভাটা।
নওগাঁ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হোসাইন জানান, “ভাটাটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। শিক্ষক নিহতের ঘটনার পর এর চুল্লি ভেঙে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এটি পুনরায় চালুর অপচেষ্টা চলছে খবর পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধভাবে কোনো ইটভাটা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।”
জনস্বার্থ, পরিবেশ রক্ষা এবং সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে এই খুনি ও অবৈধ ইটভাটাটি স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্টাফ রিপোর্টার 



















