গত সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এ বিষয়ে আয়োজক ক্লাবের সভাপতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে এতে ভারত সরকারের কোনো আপত্তি নেই—এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং কার্যক্রম-নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান। তিনি কোথায় কী বলছেন, সেটির জবাব দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের কাজ নয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে, ভারতে অবস্থানরত পলাতক আসামিরা যদি রাজনৈতিক বক্তব্য দেন বা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো ষড়যন্ত্রে জড়ান, তাহলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়েছে এবং দুই দেশ ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করছে। সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা আমরা চাই না এবং আমার গভীর বিশ্বাস, ভারতও তা চায় না।
এ বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও ব্যাখ্যা চাওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, অনুষ্ঠানটি ভারত সরকার আয়োজন করছে না। তবে প্রয়োজন মনে করলে সরকার কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।
তিনি আরও জানান, অতীতেও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও যোগাযোগে বাংলাদেশ এ বিষয়টি একাধিকবার ভারতের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে তুলে ধরেছে। তাদের সঙ্গে যখনই আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, মতবিনিময় হচ্ছে, বিষয়টি আমরা আমাদের তরফ থেকে পরিষ্কার করছি। সুতরাং যেহেতু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রিত, তাই এ বিষয়ে ভারত সরকারকেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।
এ ধরনের কর্মসূচি দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে কি না—জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের মানুষ কেউই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি চায় না। বরং সম্পর্ক আরও উন্নত হোক, সেটিই সরকারের প্রত্যাশা। ভারতও সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডিজিটাল রিপোর্ট 




















