রাজধানী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত ও কোলাহলপূর্ণ এলাকা মগবাজার। শত শত যানবাহন আর মানুষের ব্যস্ততার মাঝে এই বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার ফুটপাত ও রোড ডিভাইডারগুলোতে প্রতিদিন ফুটে ওঠে সামাজিক বৈষম্যের এক করুণ চিত্র। খোলা আকাশের নিচে রাস্তার ধুলোবালি ও ময়লা-আবর্জনা পরিবেষ্টিত হয়ে মানবেতর দিনযাপন করছেন বহু গৃহহীন ও ভাসমান মানুষ।সম্প্রতি মগবাজার, নিউ ইস্কাটন রোড ও অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।
মাঠপর্যায়ের চিত্র
বাস্তবচিত্র পর্যালোচনায় মগবাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অত্যন্ত করুণ পরিস্থিতিতে ছিন্নমূল মানুষকে অবস্থান করতে দেখা যায়:
ফুটপাত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে: বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্স ও বন্ধ দোকানের সিঁড়িতে খালি জায়গায় কোনোপ্রকার বিছানা ছাড়া কেবল চরম ক্লান্তি নিয়ে ঘুমিয়ে আছেন অনেকে।
বিপজ্জনক রোড ডিভাইডারে: চলন্ত গাড়ির তীব্র শব্দ ও ধোঁয়ার পরোয়া না করে সিমেন্টের শক্ত রোড ডিভাইডারের ওপর সামান্য ছেঁড়া কাঁথা বা কাপড়ে শরীর ঢেকে শুয়ে থাকতে দেখা যায় এদের।
বস্তা ও পলিথিনই সম্বল: তীব্র রোদ বা ধুলোবালি থেকে বাঁচতে অনেকেই স্রেফ একটি প্লাস্টিকের চটের বস্তা বা পলিথিন গায়ে দিয়ে রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিত্যদিনের দুর্ভোগ
দীর্ঘদিন ধরে খোলা জায়গায় অবস্থান করায় মৌলিক অধিকার থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত এসব মানুষ নানা সামাজিক ও শারীরিক ঝুঁকিতে রয়েছেন:
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ: জমে থাকা আবর্জনা, ড্রেনের দুর্গন্ধ এবং উড়ন্ত ধুলোবালির মধ্যে ২৪ ঘণ্টা অবস্থান করায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন তারা।
মৌলিক সুবিধার অভাব: বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে চর্মরোগসহ নানা জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন ভাসমান বাসিন্দারা।
আবহাওয়াগত ভোগান্তি: বর্ষার কাদা-পানি কিংবা তীব্র রোদে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ব্যাহত হয়।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও সমাধানের তাগিদ
এলাকার পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মতে, মগবাজার ও আশপাশের এলাকায় দিন দিন ভাসমান মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। দিনের বেলা দিনমজুরি বা ভিক্ষাবৃত্তি করে পেটের ভাত জোগালেও রাতে নিরাপদ আশ্রয়ের কোনো সুযোগ এদের নেই। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এদের মানবিক দুর্দশা লাঘবের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন জরুরি।
জরুরি করণীয় ও দাবি:
১. সামাজিক পুনর্বাসন: সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষের জন্য দ্রুত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
২. জরুরি চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা: স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং পরিমিত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা।
৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: কর্মক্ষম ব্যক্তিদের কাজের সুযোগ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা।
অসহায় এসব মানুষের মানবিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং রাজপথকে নিরাপদ রাখতে দ্রুত সমন্বিত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোড় দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার 


















