ময়মনসিংহ , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কারাগারে মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ: নেত্রকোণায় জেলা প্রশাসকের সরেজমিন পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপণ রংপুর পুলিশ কমিশনারের বদলি দুই সপ্তাহ আগেই হয়েছে বললেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্ম মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা পাবনা জেলার ফরিদপুর বনওয়ারীনগর ইউনিয়নে কৃষক কার্ড এর তথ্য সংগ্রহ রাঙ্গামাটিতে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা: অপরাধ দমনে ডিআইজির কঠোর হুঁশিয়ারি গ্যাস সংকট কাটাতে আরও দুই বছর লাগতে পারে জানিয়েছেন ডা. জাহেদ “একজন বাবার ভূমিকা” বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর জন্ম ও ওফাত দিবস ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুতই নীতিমালা প্রণয়ন করবে সরকার বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ২৬ আগস্ট হিলি বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

“ওজন ১১০ কেজি হলেও কোনো বাধা নেই!”: শৌভিককে নিয়ে চাঞ্চল্যকর উড্ডয়নের অনুমতি

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে খুলনার পর্যটক শৌভিক রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক অনুসন্ধানে একাধিক নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসনের দাবি, অনুমোদনহীন একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিকূল আবহাওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজনের যাত্রীকে উড্ডয়নের অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেনি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ২০২৫ সালের পর থেকে জেলার কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্যারাসেইলিং পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান সিয়াম বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারের বেশি বেগে বাতাস প্রবাহিত হলে প্যারাসেইলিং বন্ধ রাখতে হয়। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন কক্সবাজারে বাতাসের গতি ছিল প্রায় ৪০ কিলোমিটার। এ অবস্থাতেও পর্যটকদের নিয়ে উড্ডয়ন চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণ পরই শৌভিক রায় সমুদ্রে পড়ে যান। স্পিডবোট তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও দ্রুত পৌঁছাতে পারেনি। পরে সৈকত থেকে কয়েকজন কর্মী সাঁতরে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। উদ্ধারকালে তার শরীরে লাইফ জ্যাকেট ছিল না বলেও দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্যারাসেইলিং প্রশিক্ষক সোহেল রানা বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি প্যারাসেইলিং স্পটে বাতাসের গতি পরিমাপের যন্ত্র, অংশগ্রহণকারীর ওজন ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই, উপযুক্ত লাইফ জ্যাকেট ও হারনেস ব্যবহার এবং উদ্ধারকারী জেট স্কি প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক।

এদিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুবক্তবিন সোহেল জানান, প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবে শৌভিক রায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কারাগারে মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ: নেত্রকোণায় জেলা প্রশাসকের সরেজমিন পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপণ

“ওজন ১১০ কেজি হলেও কোনো বাধা নেই!”: শৌভিককে নিয়ে চাঞ্চল্যকর উড্ডয়নের অনুমতি

আপডেট সময় ১০:৪৯:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে খুলনার পর্যটক শৌভিক রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক অনুসন্ধানে একাধিক নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসনের দাবি, অনুমোদনহীন একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিকূল আবহাওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজনের যাত্রীকে উড্ডয়নের অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেনি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ২০২৫ সালের পর থেকে জেলার কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্যারাসেইলিং পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান সিয়াম বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারের বেশি বেগে বাতাস প্রবাহিত হলে প্যারাসেইলিং বন্ধ রাখতে হয়। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন কক্সবাজারে বাতাসের গতি ছিল প্রায় ৪০ কিলোমিটার। এ অবস্থাতেও পর্যটকদের নিয়ে উড্ডয়ন চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণ পরই শৌভিক রায় সমুদ্রে পড়ে যান। স্পিডবোট তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও দ্রুত পৌঁছাতে পারেনি। পরে সৈকত থেকে কয়েকজন কর্মী সাঁতরে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। উদ্ধারকালে তার শরীরে লাইফ জ্যাকেট ছিল না বলেও দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্যারাসেইলিং প্রশিক্ষক সোহেল রানা বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি প্যারাসেইলিং স্পটে বাতাসের গতি পরিমাপের যন্ত্র, অংশগ্রহণকারীর ওজন ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই, উপযুক্ত লাইফ জ্যাকেট ও হারনেস ব্যবহার এবং উদ্ধারকারী জেট স্কি প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক।

এদিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুবক্তবিন সোহেল জানান, প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবে শৌভিক রায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।