ময়মনসিংহ , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব গ্রহণযোগ্য নয় জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জরুরি সহায়তা হিসেবে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চায় ইসলামী ব্যাংক বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর শান্তিরক্ষীরা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ​শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ: আদালতের কাঠগড়ায় ১২ জন সরকার ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতি পরিচালনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন শামা ওবায়েদ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ১৭ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা আলোচিত নাসির-তামিমা মামলার রায় আজ, নজরে আদালত ​মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে হামলার হুমকি দিলো ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে পূর্বধলায় বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া আদায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ২০৬ সংযোগ বিচ্ছিন্ন সরকারি চাকরিজীবীদের সুখবর: জুনেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট, আসছে গ্রেড ও পেনশন সুবিধায় বড় পরিবর্তন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

দৃষ্টিহীনতা দমাতে পারেনি অদম্য শরীফকে: শ্রুতিলিখকের সহায়তায় লড়ছেন এসএসসিতে

​ময়মনসিংহ: চোখের দৃষ্টি নেই, কিন্তু মনের কোণে জমানো আকাশছোঁয়া স্বপ্ন পূরণে কোনো বাধাই মানছেন না শরীফ আলী। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এক অদম্য যোদ্ধার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন তিনি। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ার সীমাবদ্ধতাকে জয় করে শ্রুতিলিখকের সহায়তায় পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন এই সাহসী শিক্ষার্থী।

​শরীরের বিশেষ সক্ষমতাকে হার মানিয়ে শরীফের এই পথচলা এখন অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণার উৎস। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকালীন ছবিতে দেখা যায়, কালো চশমা পরিহিত শরীফ মনোযোগ দিয়ে তার শ্রুতিলিখককে নির্দেশ দিচ্ছেন, আর তার হয়ে খাতার পাতায় কলম চালিয়ে যাচ্ছে অন্য এক শিক্ষার্থী।

​অদম্য ইচ্ছাশক্তি:
শরীফ আলীর স্বজন ও শিক্ষকদের মতে, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার প্রবল ঝোঁক ছিল। দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও প্রখর স্মৃতিশক্তি আর মেধার জোরে তিনি ক্লাসের পাঠ্যবই আয়ত্ত করেছেন। ব্রেইল পদ্ধতি এবং অন্যদের সহযোগিতা নিয়ে তিনি আজ মাধ্যমিক পরীক্ষার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছেন।

​শ্রুতিলিখকের সহায়তা:
শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা শ্রুতিলিখকের সহায়তা পান। শরীফের ক্ষেত্রেও তার চেয়ে নিচের শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী তার হয়ে উত্তর লিখে দিচ্ছে। শরীফ মুখে উত্তর বলছেন, আর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা কাগজে রূপান্তর করছে তার সহযোদ্ধা।

​স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ:
শরীফের এই লড়াই কেবল একটি সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য নয়, বরং সমাজের প্রচলিত ধারণা ভেঙে দেওয়ার জন্য। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে শারীরিক কোনো সীমাবদ্ধতাই শিক্ষার পথে অন্তরায় হতে পারে না। ভবিষ্যৎ জীবনে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান তিনি।

​শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া:
পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিব এবং শিক্ষকরা জানান, শরীফের জন্য বিশেষ সিট প্ল্যান এবং অতিরিক্ত সময়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তার এই সাহসিকতা দেখে সহপাঠীরাও যেমন গর্বিত, তেমনি শিক্ষকরাও আশাবাদী যে তিনি ভালো ফলাফল অর্জন করবেন।
​শরীফ আলীর এই সংগ্রাম আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বপ্ন যদি অটুট থাকে, তবে অন্ধকারের ভেতরেও আলোর পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব গ্রহণযোগ্য নয় জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দৃষ্টিহীনতা দমাতে পারেনি অদম্য শরীফকে: শ্রুতিলিখকের সহায়তায় লড়ছেন এসএসসিতে

আপডেট সময় ১২:১১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

​ময়মনসিংহ: চোখের দৃষ্টি নেই, কিন্তু মনের কোণে জমানো আকাশছোঁয়া স্বপ্ন পূরণে কোনো বাধাই মানছেন না শরীফ আলী। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এক অদম্য যোদ্ধার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন তিনি। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ার সীমাবদ্ধতাকে জয় করে শ্রুতিলিখকের সহায়তায় পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন এই সাহসী শিক্ষার্থী।

​শরীরের বিশেষ সক্ষমতাকে হার মানিয়ে শরীফের এই পথচলা এখন অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণার উৎস। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকালীন ছবিতে দেখা যায়, কালো চশমা পরিহিত শরীফ মনোযোগ দিয়ে তার শ্রুতিলিখককে নির্দেশ দিচ্ছেন, আর তার হয়ে খাতার পাতায় কলম চালিয়ে যাচ্ছে অন্য এক শিক্ষার্থী।

​অদম্য ইচ্ছাশক্তি:
শরীফ আলীর স্বজন ও শিক্ষকদের মতে, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার প্রবল ঝোঁক ছিল। দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও প্রখর স্মৃতিশক্তি আর মেধার জোরে তিনি ক্লাসের পাঠ্যবই আয়ত্ত করেছেন। ব্রেইল পদ্ধতি এবং অন্যদের সহযোগিতা নিয়ে তিনি আজ মাধ্যমিক পরীক্ষার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছেন।

​শ্রুতিলিখকের সহায়তা:
শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা শ্রুতিলিখকের সহায়তা পান। শরীফের ক্ষেত্রেও তার চেয়ে নিচের শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী তার হয়ে উত্তর লিখে দিচ্ছে। শরীফ মুখে উত্তর বলছেন, আর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা কাগজে রূপান্তর করছে তার সহযোদ্ধা।

​স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ:
শরীফের এই লড়াই কেবল একটি সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য নয়, বরং সমাজের প্রচলিত ধারণা ভেঙে দেওয়ার জন্য। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে শারীরিক কোনো সীমাবদ্ধতাই শিক্ষার পথে অন্তরায় হতে পারে না। ভবিষ্যৎ জীবনে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান তিনি।

​শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া:
পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিব এবং শিক্ষকরা জানান, শরীফের জন্য বিশেষ সিট প্ল্যান এবং অতিরিক্ত সময়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তার এই সাহসিকতা দেখে সহপাঠীরাও যেমন গর্বিত, তেমনি শিক্ষকরাও আশাবাদী যে তিনি ভালো ফলাফল অর্জন করবেন।
​শরীফ আলীর এই সংগ্রাম আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বপ্ন যদি অটুট থাকে, তবে অন্ধকারের ভেতরেও আলোর পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।