ময়মনসিংহ , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেরপুরে মাইগভ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার এমপির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর মূল হোতা শ্যালক ওবায়দুর বললেন মরিয়মের বাবা অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম অনেক কম বলে মন্তব্য করেছেন রিজভী ​অপ্রতিম হত্যা মামলা: বাবার ব্যবসার ডেলিভারিম্যান ছিলেন প্রধান আসামি ফাহাদ এইচএসসি পাসেই আড়ংয়ে ৫০০ জনের চাকরির সুযোগ নাসের রিকাবদারসহ পুলিশের শীর্ষ ৪ কর্মকর্তা পদে রদবদল জাতিসংঘ অধিবেশনে যাচ্ছেন যারা: সফরসঙ্গীদের তালিকা প্রকাশ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ : কাতারের প্রধানমন্ত্রী আজ ২১শে সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর, লিটারে বাড়ল ২০ টাকা
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

​ময়মনসিংহে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ২৪, বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা

​ময়মনসিংহ অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ২৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। আজ সোমবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বর্তমান চিত্র ও পরিসংখ্যান
​হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৯টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নতুন রোগীদের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে হামে আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত মোট ৭২ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়:
​মোট ভর্তি (১৭ মার্চ – ৬ এপ্রিল): ২৪৮ জন শিশু।
​সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে: ১৭০ জন (গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন)।
​মোট মৃত্যু: ৬ জন।
​ল্যাব নিশ্চিত আক্রান্ত: ৬৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
​সংক্রমণের শুরু ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা

​চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে দু-একজন করে শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হতে শুরু করে। তবে গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:
​বিশেষায়িত ওয়ার্ড: বর্তমানে হাসপাতালে ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে।
​মেডিকেল টিম: রোগীদের দিনরাত নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে গঠন করা হয়েছে বিশেষায়িত ৩টি মেডিকেল টিম।
​লক্ষণ: আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশই তীব্র জ্বর এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে হাসপাতালে আসছে।
​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও স্বাস্থ্য সতর্কতা

​মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, “গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো শিশুর মৃত্যু না হওয়া কিছুটা স্বস্তির হলেও সংক্রমণের হার এখনো উদ্বেগজনক। আমরা পর্যাপ্ত ওষুধ ও জনবল দিয়ে আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করছি।”

​তিনি আরও যোগ করেন, এলাকাভিত্তিক সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। একইসঙ্গে অভিভাবকদের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা মাত্রই কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
​সতর্কতা: আপনার শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর ও র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং টিকা নিশ্চিত করুন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরপুরে মাইগভ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

​ময়মনসিংহে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ২৪, বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা

আপডেট সময় ০১:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

​ময়মনসিংহ অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ২৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। আজ সোমবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বর্তমান চিত্র ও পরিসংখ্যান
​হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৯টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নতুন রোগীদের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে হামে আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত মোট ৭২ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়:
​মোট ভর্তি (১৭ মার্চ – ৬ এপ্রিল): ২৪৮ জন শিশু।
​সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে: ১৭০ জন (গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন)।
​মোট মৃত্যু: ৬ জন।
​ল্যাব নিশ্চিত আক্রান্ত: ৬৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
​সংক্রমণের শুরু ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা

​চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে দু-একজন করে শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হতে শুরু করে। তবে গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:
​বিশেষায়িত ওয়ার্ড: বর্তমানে হাসপাতালে ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে।
​মেডিকেল টিম: রোগীদের দিনরাত নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে গঠন করা হয়েছে বিশেষায়িত ৩টি মেডিকেল টিম।
​লক্ষণ: আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশই তীব্র জ্বর এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে হাসপাতালে আসছে।
​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও স্বাস্থ্য সতর্কতা

​মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, “গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো শিশুর মৃত্যু না হওয়া কিছুটা স্বস্তির হলেও সংক্রমণের হার এখনো উদ্বেগজনক। আমরা পর্যাপ্ত ওষুধ ও জনবল দিয়ে আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করছি।”

​তিনি আরও যোগ করেন, এলাকাভিত্তিক সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। একইসঙ্গে অভিভাবকদের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা মাত্রই কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
​সতর্কতা: আপনার শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর ও র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং টিকা নিশ্চিত করুন।