ময়মনসিংহ , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেরপুরে মাইগভ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার এমপির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর মূল হোতা শ্যালক ওবায়দুর বললেন মরিয়মের বাবা অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম অনেক কম বলে মন্তব্য করেছেন রিজভী ​অপ্রতিম হত্যা মামলা: বাবার ব্যবসার ডেলিভারিম্যান ছিলেন প্রধান আসামি ফাহাদ এইচএসসি পাসেই আড়ংয়ে ৫০০ জনের চাকরির সুযোগ নাসের রিকাবদারসহ পুলিশের শীর্ষ ৪ কর্মকর্তা পদে রদবদল জাতিসংঘ অধিবেশনে যাচ্ছেন যারা: সফরসঙ্গীদের তালিকা প্রকাশ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ : কাতারের প্রধানমন্ত্রী আজ ২১শে সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর, লিটারে বাড়ল ২০ টাকা
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ২১ শিশু, মোট আক্রান্ত ১৪৩

  • তানিয়া খানম
  • আপডেট সময় ১১:৫১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৫৯ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২১টি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত এসব শিশুকে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালের বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি একটি পৃথক আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৪৩টি শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৪টি শিশু এবং বাকিদের সুস্থ হয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালের ৮ম তলার কেবিন এলাকায় ৬৪ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২১টি শিশু ভর্তি হয়েছে, যা পরিস্থিতির ওপর আমাদের বাড়তি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।”

এদিকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ফয়সল আহমেদ জানিয়েছেন, জনসংখ্যার তুলনায় আক্রান্তের হার এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। তবে আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ বয়সসীমায় রয়েছে। তিনি বলেন, “হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৮০ শতাংশই ৯ মাসের নিচে বয়সী, যাদের এখনো টিকা নেওয়ার সময় হয়নি। বাকি শিশুদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ এক ডোজ এবং ১০ শতাংশ দুই ডোজ টিকা পেয়েছে।”

তিনি আরও জানান, গত বছর থেকে বিভিন্ন ধরনের টিকার সংকট পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে হাম ও বিসিজি ছাড়া অন্য কোনো টিকা মজুত নেই। উপজেলার কোথাও টিকা রয়েছে, কোথাও নেই—এমন অসম অবস্থা বিরাজ করছে। এছাড়া গত বছর দীর্ঘ সময় ধরে হামের টিকা সরবরাহে ঘাটতি ছিল এবং স্বাস্থ্য সহকারীদের ধর্মঘটের কারণেও টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ফলে অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়, যার প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরপুরে মাইগভ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ২১ শিশু, মোট আক্রান্ত ১৪৩

আপডেট সময় ১১:৫১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২১টি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত এসব শিশুকে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালের বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি একটি পৃথক আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৪৩টি শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৪টি শিশু এবং বাকিদের সুস্থ হয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালের ৮ম তলার কেবিন এলাকায় ৬৪ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২১টি শিশু ভর্তি হয়েছে, যা পরিস্থিতির ওপর আমাদের বাড়তি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।”

এদিকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ফয়সল আহমেদ জানিয়েছেন, জনসংখ্যার তুলনায় আক্রান্তের হার এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। তবে আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ বয়সসীমায় রয়েছে। তিনি বলেন, “হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৮০ শতাংশই ৯ মাসের নিচে বয়সী, যাদের এখনো টিকা নেওয়ার সময় হয়নি। বাকি শিশুদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ এক ডোজ এবং ১০ শতাংশ দুই ডোজ টিকা পেয়েছে।”

তিনি আরও জানান, গত বছর থেকে বিভিন্ন ধরনের টিকার সংকট পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে হাম ও বিসিজি ছাড়া অন্য কোনো টিকা মজুত নেই। উপজেলার কোথাও টিকা রয়েছে, কোথাও নেই—এমন অসম অবস্থা বিরাজ করছে। এছাড়া গত বছর দীর্ঘ সময় ধরে হামের টিকা সরবরাহে ঘাটতি ছিল এবং স্বাস্থ্য সহকারীদের ধর্মঘটের কারণেও টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ফলে অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়, যার প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।