ময়মনসিংহ , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
​তিন দশক পর অনুশোচনা: সহকর্মীকে চড় মারার ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন রিমা খান জয় ও পলকের বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্য দেবেন বিটিসিএল কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাঠাবে না ইরান: কড়া অবস্থান তেহরানের নেত্রকোনার পূর্বধলায় দুই দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত “চেষ্টা “র উদ্যোগে বীরকন্যাদের সম্মাননায় মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ট্রেবল মেডেল নিলামে তুলছেন ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড় কাল বগুড়া সিটি কর্পোরেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অভিষেককে রাহুলের ফোন: জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস গণভবনে গভীর রাত অবধি নারী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন ক্রিকেটার যুজবেন্দ্র চাহাল
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

আইএমএফের ঋণের কাছে দেশের মানুষ জিম্মি বলেছেন অর্থ উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, আইএমএফের কঠোর শর্তে নেওয়া ঋণের কারণে দেশের মানুষ এখন এক ধরনের আর্থিক চাপে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার জনগণের কথা বিবেচনা না করে স্বজনতোষী পৃষ্ঠপোষকতা টিকিয়ে রাখতে এই বেইলআউট নিয়েছিল।

গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পাঁচটি প্রধান অগ্রাধিকার হলো- রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সংস্কার, সমতাভিত্তিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন, আঞ্চলিক সমতা ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করা।

ব্যাংক রেজুলেশন আইন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আইনে সবার জন্য সুযোগ রাখা হয়েছে। কারও কাছে আইনটি সংবিধানবিরোধী মনে হলে আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে সেমিনারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অতীতের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, আইএমএফের শর্ত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, দেশে আয় বৈষম্য উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০১০ সালে ধনী-দরিদ্র আয়ের ব্যবধান ছিল ৩২ গুণ, যা ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ গুণে। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়তে শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় জিডিপির বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

ব্যাংকিং খাত নিয়ে তিনি বলেন, কেবল ঋণ পুনঃতফসিল করে খেলাপি ঋণ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; এজন্য সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, বাংলাদেশ ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদ’ ও ‘ঋণ ফাঁদ’ এর ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে ঋণের সুদ পরিশোধ বাজেটের অন্যতম বড় ব্যয় খাতে পরিণত হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা আনতে আকস্মিক নীতি পরিবর্তন বন্ধ করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে শিল্পনীতি অন্তত পাঁচ বছরের জন্য স্থায়ী করা প্রয়োজন।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে সোলার প্যানেল কার্যকর হতে পারে। তবে করনীতি ও ব্যবসায়িক সীমাবদ্ধতার কারণে এই খাত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

​তিন দশক পর অনুশোচনা: সহকর্মীকে চড় মারার ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন রিমা খান

আইএমএফের ঋণের কাছে দেশের মানুষ জিম্মি বলেছেন অর্থ উপদেষ্টা

আপডেট সময় ১০:০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, আইএমএফের কঠোর শর্তে নেওয়া ঋণের কারণে দেশের মানুষ এখন এক ধরনের আর্থিক চাপে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার জনগণের কথা বিবেচনা না করে স্বজনতোষী পৃষ্ঠপোষকতা টিকিয়ে রাখতে এই বেইলআউট নিয়েছিল।

গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পাঁচটি প্রধান অগ্রাধিকার হলো- রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সংস্কার, সমতাভিত্তিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন, আঞ্চলিক সমতা ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করা।

ব্যাংক রেজুলেশন আইন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আইনে সবার জন্য সুযোগ রাখা হয়েছে। কারও কাছে আইনটি সংবিধানবিরোধী মনে হলে আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে সেমিনারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অতীতের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, আইএমএফের শর্ত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, দেশে আয় বৈষম্য উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০১০ সালে ধনী-দরিদ্র আয়ের ব্যবধান ছিল ৩২ গুণ, যা ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ গুণে। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়তে শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় জিডিপির বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

ব্যাংকিং খাত নিয়ে তিনি বলেন, কেবল ঋণ পুনঃতফসিল করে খেলাপি ঋণ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; এজন্য সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, বাংলাদেশ ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদ’ ও ‘ঋণ ফাঁদ’ এর ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে ঋণের সুদ পরিশোধ বাজেটের অন্যতম বড় ব্যয় খাতে পরিণত হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা আনতে আকস্মিক নীতি পরিবর্তন বন্ধ করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে শিল্পনীতি অন্তত পাঁচ বছরের জন্য স্থায়ী করা প্রয়োজন।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে সোলার প্যানেল কার্যকর হতে পারে। তবে করনীতি ও ব্যবসায়িক সীমাবদ্ধতার কারণে এই খাত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না।