ময়মনসিংহ , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পরিচয় অনুসন্ধান নাকি পাসপোর্ট জালিয়াতি? নেত্রকোণায় আটক রোহিঙ্গা যুবককে ঘিরে ঘনীভূত রহস্য পূর্বধলায় কৃষি প্রণোদনা তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ঘাগড়া চৌরাস্তায় সংবাদ সম্মেলন ​লোহালিয়া নদীর ওপর ৯ম মৈত্রী সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ ও চীনের চুক্তি রামিসা হত্যা মামলা: বিচার চেয়ে রোববার শুনানি করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল ​আসছে নবম পে-স্কেল: ১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন বেতন কাঠামো ​হঠাৎ জার্সি বদলের চাপে হাইতি: ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে এসেই সংকটে দলটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জনসহ দগ্ধ, ৫ ফুটবল বিশ্বকাপ: স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী জাতির প্রত্যাশা পূরণের লক্ষেই এবারের বাজেট প্রণয়ন জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি পাবনার উদ্যোগে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

আইএমএফের ঋণের কাছে দেশের মানুষ জিম্মি বলেছেন অর্থ উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, আইএমএফের কঠোর শর্তে নেওয়া ঋণের কারণে দেশের মানুষ এখন এক ধরনের আর্থিক চাপে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার জনগণের কথা বিবেচনা না করে স্বজনতোষী পৃষ্ঠপোষকতা টিকিয়ে রাখতে এই বেইলআউট নিয়েছিল।

গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পাঁচটি প্রধান অগ্রাধিকার হলো- রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সংস্কার, সমতাভিত্তিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন, আঞ্চলিক সমতা ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করা।

ব্যাংক রেজুলেশন আইন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আইনে সবার জন্য সুযোগ রাখা হয়েছে। কারও কাছে আইনটি সংবিধানবিরোধী মনে হলে আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে সেমিনারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অতীতের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, আইএমএফের শর্ত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, দেশে আয় বৈষম্য উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০১০ সালে ধনী-দরিদ্র আয়ের ব্যবধান ছিল ৩২ গুণ, যা ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ গুণে। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়তে শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় জিডিপির বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

ব্যাংকিং খাত নিয়ে তিনি বলেন, কেবল ঋণ পুনঃতফসিল করে খেলাপি ঋণ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; এজন্য সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, বাংলাদেশ ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদ’ ও ‘ঋণ ফাঁদ’ এর ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে ঋণের সুদ পরিশোধ বাজেটের অন্যতম বড় ব্যয় খাতে পরিণত হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা আনতে আকস্মিক নীতি পরিবর্তন বন্ধ করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে শিল্পনীতি অন্তত পাঁচ বছরের জন্য স্থায়ী করা প্রয়োজন।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে সোলার প্যানেল কার্যকর হতে পারে। তবে করনীতি ও ব্যবসায়িক সীমাবদ্ধতার কারণে এই খাত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিচয় অনুসন্ধান নাকি পাসপোর্ট জালিয়াতি? নেত্রকোণায় আটক রোহিঙ্গা যুবককে ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

আইএমএফের ঋণের কাছে দেশের মানুষ জিম্মি বলেছেন অর্থ উপদেষ্টা

আপডেট সময় ১০:০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, আইএমএফের কঠোর শর্তে নেওয়া ঋণের কারণে দেশের মানুষ এখন এক ধরনের আর্থিক চাপে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার জনগণের কথা বিবেচনা না করে স্বজনতোষী পৃষ্ঠপোষকতা টিকিয়ে রাখতে এই বেইলআউট নিয়েছিল।

গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পাঁচটি প্রধান অগ্রাধিকার হলো- রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সংস্কার, সমতাভিত্তিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন, আঞ্চলিক সমতা ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করা।

ব্যাংক রেজুলেশন আইন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আইনে সবার জন্য সুযোগ রাখা হয়েছে। কারও কাছে আইনটি সংবিধানবিরোধী মনে হলে আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে সেমিনারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অতীতের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, আইএমএফের শর্ত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, দেশে আয় বৈষম্য উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০১০ সালে ধনী-দরিদ্র আয়ের ব্যবধান ছিল ৩২ গুণ, যা ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ গুণে। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়তে শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় জিডিপির বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

ব্যাংকিং খাত নিয়ে তিনি বলেন, কেবল ঋণ পুনঃতফসিল করে খেলাপি ঋণ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; এজন্য সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, বাংলাদেশ ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদ’ ও ‘ঋণ ফাঁদ’ এর ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে ঋণের সুদ পরিশোধ বাজেটের অন্যতম বড় ব্যয় খাতে পরিণত হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা আনতে আকস্মিক নীতি পরিবর্তন বন্ধ করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে শিল্পনীতি অন্তত পাঁচ বছরের জন্য স্থায়ী করা প্রয়োজন।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে সোলার প্যানেল কার্যকর হতে পারে। তবে করনীতি ও ব্যবসায়িক সীমাবদ্ধতার কারণে এই খাত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না।