ময়মনসিংহ , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত জানিয়েছেন সিইসি শাপলা চত্বরের ঘটনা সরকার উপেক্ষা করবে না, ভালো বিচার হবে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত: এসকে সুরের ৩ বছরের জেল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী হাসনাত- সারজিস গণঅভ্যুত্থানের সাথে বেইমানি করার কারণে ছাত্র উপদেষ্টা হতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন রাশেদ খাঁন লন্ডনে ওয়াটফোর্ড বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের মেজবান অনুষ্ঠিত শিক্ষককে ভিডিও ছড়িয়ে হেনস্তা, আইনি পদক্ষেপ পূর্বধলার সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি জানাতে এমপি মানসুরার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পূর্বধলা থানা পরিদর্শন করলেন নেত্রকোণার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

জুলাই হত্যা মামলা: আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ গুলি চালানো

আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, চট্টগ্রাম সিটি মেয়রসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ২০০ নেতা-কর্মীকে।

তবে মামলার গুরুত্বপূর্ণ এক আসামিকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই ফয়সাল।

পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামি হিসেবে থাকা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ও নির্দেশনায় ছোড়া গুলিতে ঘটনার দিন শহীদুল নিহত হয়েছেন। তার বুক, পেট ও পিঠে ১০টি গুলি লাগে। ২৫ আগস্ট বাদীর উপস্থিতিতে অভিযোগপত্রের ওপর শুনানির সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া ১৫টি ভিডিও ও ৪১টি স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করেও ঘটনায় জড়িত আসামিদের শনাক্ত করে পুলিশ। এসব ভিডিও ও ছবি যে সম্পাদিত নয়, তা ঢাকায় সিআইডির ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় পুলিশ। প্রথম গুলি ছুড়েছিলেন যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন। তার পিস্তলের গুলিতে মাটিতে লুটে পড়েন শহীদুল। তার সঙ্গে মামলার এজাহারনামীয় আসামি ফিরোজ, তৌহিদুল ইসলাম ওরফে ফরিদ ও দেলোয়ার শটগান দিয়ে গুলি করতে থাকেন। এ ছাড়া ঘটনার সময় এজাহারনামীয় আসামি জালাল, জাফর, এইচ এম মিঠু, তাসিন, কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিনু ও ঋভু মজুমদারদের হাতে থাকা পিস্তল, শটগান, বন্দুক ও পাইপগানের এলোপাতাড়ি গুলিতে আরও অনেকে গুলিবিদ্ধ হন।

অভিযোগপত্রে শহীদুলের শরীরে ১০টি ছোট ছোট গুলি (পিলেট) লাগে বলে সিআইডির ব্যালিস্টিক ও ফরেনসিক ল্যাবের পরীক্ষার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে।

পুলিশের অভিযোগপত্রের একটি অংশে পিস্তলের গুলিতে শহীদুলের মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ার কথা বলা হয়েছে। তবে আরেকটি অংশে নিহতের শরীরে শটগানের গুলি বিদ্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আট আসামির মধ্যে ৬ নম্বর আসামি মো. জাফরের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থানে অস্ত্রসহ গুলি করার যে কজনের ছবি গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছিল, সেখানে জাফরও রয়েছেন। যুবলীগ ক্যাডার বাবরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে পরিচিত এই জাফর।

এজাহারনামীয় আসামি জাফরকে অব্যাহতির বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই ফয়সাল বলেন, ‘তদন্তে পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় জাফরের নাম আসামি থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছি। পরে কোনো সময় যদি তাকে শনাক্ত করা যায়, তাহলে আমরা তাকে আসামি করে সম্পূরক চার্জশিট আদালতে দাখিল করব।’

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত জানিয়েছেন সিইসি

জুলাই হত্যা মামলা: আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ গুলি চালানো

আপডেট সময় ১০:১৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, চট্টগ্রাম সিটি মেয়রসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ২০০ নেতা-কর্মীকে।

তবে মামলার গুরুত্বপূর্ণ এক আসামিকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই ফয়সাল।

পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামি হিসেবে থাকা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ও নির্দেশনায় ছোড়া গুলিতে ঘটনার দিন শহীদুল নিহত হয়েছেন। তার বুক, পেট ও পিঠে ১০টি গুলি লাগে। ২৫ আগস্ট বাদীর উপস্থিতিতে অভিযোগপত্রের ওপর শুনানির সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া ১৫টি ভিডিও ও ৪১টি স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করেও ঘটনায় জড়িত আসামিদের শনাক্ত করে পুলিশ। এসব ভিডিও ও ছবি যে সম্পাদিত নয়, তা ঢাকায় সিআইডির ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় পুলিশ। প্রথম গুলি ছুড়েছিলেন যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন। তার পিস্তলের গুলিতে মাটিতে লুটে পড়েন শহীদুল। তার সঙ্গে মামলার এজাহারনামীয় আসামি ফিরোজ, তৌহিদুল ইসলাম ওরফে ফরিদ ও দেলোয়ার শটগান দিয়ে গুলি করতে থাকেন। এ ছাড়া ঘটনার সময় এজাহারনামীয় আসামি জালাল, জাফর, এইচ এম মিঠু, তাসিন, কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিনু ও ঋভু মজুমদারদের হাতে থাকা পিস্তল, শটগান, বন্দুক ও পাইপগানের এলোপাতাড়ি গুলিতে আরও অনেকে গুলিবিদ্ধ হন।

অভিযোগপত্রে শহীদুলের শরীরে ১০টি ছোট ছোট গুলি (পিলেট) লাগে বলে সিআইডির ব্যালিস্টিক ও ফরেনসিক ল্যাবের পরীক্ষার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে।

পুলিশের অভিযোগপত্রের একটি অংশে পিস্তলের গুলিতে শহীদুলের মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ার কথা বলা হয়েছে। তবে আরেকটি অংশে নিহতের শরীরে শটগানের গুলি বিদ্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আট আসামির মধ্যে ৬ নম্বর আসামি মো. জাফরের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থানে অস্ত্রসহ গুলি করার যে কজনের ছবি গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছিল, সেখানে জাফরও রয়েছেন। যুবলীগ ক্যাডার বাবরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে পরিচিত এই জাফর।

এজাহারনামীয় আসামি জাফরকে অব্যাহতির বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই ফয়সাল বলেন, ‘তদন্তে পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় জাফরের নাম আসামি থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছি। পরে কোনো সময় যদি তাকে শনাক্ত করা যায়, তাহলে আমরা তাকে আসামি করে সম্পূরক চার্জশিট আদালতে দাখিল করব।’