ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
​আলিমে রেজিস্ট্রেশন বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর: সময় বাড়ালো মাদ্রাসা বোর্ড স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট মোকাবিলায় তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা সরকারি চাকরিতে নতুন পে-স্কেল: বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সম্ভাবনা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার কাজ করছে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী কৃষক ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণের জন্য কোমরে দড়ি পড়ে, আর হাজার কোটি টাকার ক্ষমতাশালী গ্রহীতাদের বেলায় আইন তার নিজের গতি হারিয়ে ফেলে? এনসিপির সমাবেশে হামলা: দোষীদের শাস্তির দাবি গোলাম পরওয়ারের কলেজগুলোর জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নিয়ম ৬ দিনের বিরতি শেষে আজ ফের বসছে জাতীয় সংসদ অধিবেশন ​ঢাকাসহ ১৭ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস: দুপুরের মধ্যেই বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

টানা ৩০ দিন জেলে থাকলেই মন্ত্রিত্ব শেষ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
  • ৭২ বার পড়া হয়েছে

টানা ৩০ দিন জেলে থাকলেই মন্ত্রিত্ব শেষ- এমন প্রস্তাব দিয়ে ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটি দেশটির রাজনীতিতে চরম বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

নরেন্দ্র মোদি সরকারের দাবি, প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখাই এর মূল লক্ষ্য। তবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিলের কড়া সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, নতুন এই বিলের মাধ্যমে হিটলারি কায়দায় গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হানা হচ্ছে।

গত বুধবার (২০ আগস্ট) লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘সংবিধান সংশোধনী বিল’ উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবে বলা হয়, গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে অন্তত ৩০ দিনের জন্য জেলে থাকলে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রীকে পদ হারাতে হবে। সরকারের দাবি, প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখাই এর মূল লক্ষ্য। তবে সরকারি এমন পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, ‘দেশ মধ্যযুগে ফিরে যাচ্ছে। তখন রাজা যাকে খুশি সরিয়ে দিতেন। আজও একই অবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।’এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে হাতিয়ার করে বিরোধী রাজনীতিবিদদের এক মাস আটক রেখে অপসারণের আশঙ্কার কথাও বলেন রাহুল। তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মর্যাদা ধ্বংস করে বিজেপি ক্ষমতাকে সর্বগ্রাসী করতে চাইছে।

 পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিলটিকে ‘হিটলারি কায়দায় গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সিবিআই ও ইডির হাতে সীমাহীন ক্ষমতা তুলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিচারব্যবস্থার অধিকার খর্ব হবে এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধসে পড়বে। তার মতে, এই বিল জরুরি অবস্থার চেয়েও ভয়ংকর।
 এই বিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা, নাকি বিরোধী দমন অভিযানের নতুন অস্ত্র তা নিয়ে সরগরম ভারতের রাজনৈতিক মহল। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একদিকে শাসকের ভাবমূর্তি সাদা রাখার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে বিরোধীদের ভীত করার ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

​আলিমে রেজিস্ট্রেশন বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর: সময় বাড়ালো মাদ্রাসা বোর্ড

টানা ৩০ দিন জেলে থাকলেই মন্ত্রিত্ব শেষ

আপডেট সময় ১১:২২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

টানা ৩০ দিন জেলে থাকলেই মন্ত্রিত্ব শেষ- এমন প্রস্তাব দিয়ে ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটি দেশটির রাজনীতিতে চরম বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

নরেন্দ্র মোদি সরকারের দাবি, প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখাই এর মূল লক্ষ্য। তবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিলের কড়া সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, নতুন এই বিলের মাধ্যমে হিটলারি কায়দায় গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হানা হচ্ছে।

গত বুধবার (২০ আগস্ট) লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘সংবিধান সংশোধনী বিল’ উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবে বলা হয়, গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে অন্তত ৩০ দিনের জন্য জেলে থাকলে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রীকে পদ হারাতে হবে। সরকারের দাবি, প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখাই এর মূল লক্ষ্য। তবে সরকারি এমন পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, ‘দেশ মধ্যযুগে ফিরে যাচ্ছে। তখন রাজা যাকে খুশি সরিয়ে দিতেন। আজও একই অবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।’এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে হাতিয়ার করে বিরোধী রাজনীতিবিদদের এক মাস আটক রেখে অপসারণের আশঙ্কার কথাও বলেন রাহুল। তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মর্যাদা ধ্বংস করে বিজেপি ক্ষমতাকে সর্বগ্রাসী করতে চাইছে।

 পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিলটিকে ‘হিটলারি কায়দায় গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সিবিআই ও ইডির হাতে সীমাহীন ক্ষমতা তুলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিচারব্যবস্থার অধিকার খর্ব হবে এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধসে পড়বে। তার মতে, এই বিল জরুরি অবস্থার চেয়েও ভয়ংকর।
 এই বিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা, নাকি বিরোধী দমন অভিযানের নতুন অস্ত্র তা নিয়ে সরগরম ভারতের রাজনৈতিক মহল। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একদিকে শাসকের ভাবমূর্তি সাদা রাখার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে বিরোধীদের ভীত করার ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে।