ইসরায়েলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘকালীন শাসনের অবসান ঘটাতে একজোট হয়েছেন দেশটির বিরোধী শিবিরের প্রভাবশালী নেতারা।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার লাপিদ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন, তারা নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শগত পার্থক্য ভুলে নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী সরকারকে পরাজিত করতে হাত মিলিয়েছেন।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইয়ার লাপিদ বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই তারা একত্রিত হয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলকে এখন তার বর্তমান ধ্বংসাত্মক পথ পরিবর্তন করতে হবে এবং একটি স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল সরকার গঠন করতে হবে।ইসয়ায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েলি নাগরিকদের কাছে নেতানিয়াহুর তথাকথিত ‘নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী’ ভাবমূর্তি এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। দেশটির সাধারণ মানুষ এখন দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি চাইছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী অক্টোবরের শেষে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এই নতুন ‘টুগেদার’ জোট নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন সুতার ওপর ঝুলছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ বিরোধী দলগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ভোটারদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে কেবল যুদ্ধ নয়, বরং বিচার বিভাগীয় সংস্কার এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও ইসরায়েলের রাজপথে নিয়মিত বিক্ষোভ চলছে। এই পরিস্থিতিতে বেনেট ও লাপিদের জোটবদ্ধ হওয়াকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহু কি পারবেন এই নতুন জোটের মোকাবিলা করে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে, নাকি ‘টুগেদার’ জোটের হাত ধরে ইসরায়েলের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হবে—সেদিকেই এখন নজর পুরো বিশ্ব রাজনীতির। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এখন চরম উত্তেজনাপূর্ণ মোড় নিয়েছে।

ডিজিটাল ডেস্ক 





















