ময়মনসিংহ , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বস্ত্র খাতের সমস্যা সমাধানে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী যখনই বাংলাদেশের জনগণ বিপদে পড়েছে, চীন পাশে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত নলছিটির বিভিন্ন খাল-বিলে অবাধে চলছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল পরকীয়া প্রেমের চরম পরিণতি: চাচিকে নিয়ে পালালো ভাতিজা, থানায় আইনি পদক্ষেপ পূর্বধলায় বিএনপি নেতা মোবারক তালুকদারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত ধরা পড়ার আগে রোমান্টিক, ধরা পড়লে কয় বউ জানিয়েছেন তাহেরী চলছে একনেক সভা, সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক ফটিকছড়িতে ​গ্যাসের তীব্র হাহাকার: ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ি দীর্ঘ সারিতে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিরাপত্তা প্যানেলের যৌথ-সভাপতি রবিউল আলম
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

পরকীয়া প্রেমের চরম পরিণতি: চাচিকে নিয়ে পালালো ভাতিজা, থানায় আইনি পদক্ষেপ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পরকীয়ার অভিযোগে নিজের স্ত্রী ও প্রতিবেশী এক ভাতিজার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্বামী। অভিযোগে বলা হয়, গত ১ জুলাই নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রতিবেশী ভাতিজা রুদ্র চন্দ্র দের (২৭) হাত ধরে বাড়ি ছেড়েছেন চাচি ঝরনা রানি।

অভিযোগকারী স্বামী মনি চন্দ্র দে (৩২) দাবি করেছেন, তার স্ত্রী ঝরনা দে ওরফে মায়ার (২৫) সঙ্গে তার সাত বছরের সংসার। দাম্পত্য জীবনে তাদের ছয় বছরের এক ছেলে সন্তানও রয়েছে। ছেলেকে রেখেই দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করেন ঝরনা রানি। একপর্যায়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি ছাড়েন।

গত ১৫ জুলাই বিষয়টি নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন মনি চন্দ্র দে। অভিযোগে তিনি স্ত্রী এবং একই এলাকার প্রতিবেশী ভাতিজা রুদ্র চন্দ্র দেকে অভিযুক্ত করেছেন।
লিখিত অভিযোগে মনি চন্দ্র দে উল্লেখ করেন, জীবিকার তাগিদে হোটেল কর্মচারী হিসেবে কাজ করার সুবাদে দীর্ঘ সময় তাকে বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। এ সুযোগে তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের পক্ষ থেকে স্ত্রীকে সতর্ক করা হলেও তিনি পরকীয়া থেকে সরে আসেননি। ১ জুলাই অভিযুক্ত রুদ্র চন্দ্র দে কৌশলে তার স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যান বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। এ সময় ঘরের আলমারিতে থাকা প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং নগদ প্রায় ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যান তিনি।
মনি চন্দ্র দে আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে রাজিবপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জনি দে বলেন, রুদ্র চন্দ্র দে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। প্রতিবেশী চাচির সঙ্গে পরকীয়ার ঘটনাটি সত্য। সুষ্ঠু বিচার চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মনি চন্দ্রকে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পরামর্শ দিয়েছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুদ্র ও তার পরিবারের ব্যবহৃত দুটি নম্বরে একাধিকবার কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে অভিযুক্ত রুদ্র চন্দের চাচা রনজিত চন্দ্র দে নম্বরে কল দিলে তিনি বলেন, আমার ভাতিজা রুদ্রের সঙ্গে ঝরনার মোবাইল ফোনের মধ্যে সম্পর্ক হয়। ঝরনা তার স্বামী মনি চন্দ্র দেকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রবোধ রঞ্জন সরকার বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) রবিউল আজম বলেন, এ নিয়ে মনি চন্দ্র দে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বস্ত্র খাতের সমস্যা সমাধানে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পরকীয়া প্রেমের চরম পরিণতি: চাচিকে নিয়ে পালালো ভাতিজা, থানায় আইনি পদক্ষেপ

আপডেট সময় ০২:২৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পরকীয়ার অভিযোগে নিজের স্ত্রী ও প্রতিবেশী এক ভাতিজার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্বামী। অভিযোগে বলা হয়, গত ১ জুলাই নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রতিবেশী ভাতিজা রুদ্র চন্দ্র দের (২৭) হাত ধরে বাড়ি ছেড়েছেন চাচি ঝরনা রানি।

অভিযোগকারী স্বামী মনি চন্দ্র দে (৩২) দাবি করেছেন, তার স্ত্রী ঝরনা দে ওরফে মায়ার (২৫) সঙ্গে তার সাত বছরের সংসার। দাম্পত্য জীবনে তাদের ছয় বছরের এক ছেলে সন্তানও রয়েছে। ছেলেকে রেখেই দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করেন ঝরনা রানি। একপর্যায়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি ছাড়েন।

গত ১৫ জুলাই বিষয়টি নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন মনি চন্দ্র দে। অভিযোগে তিনি স্ত্রী এবং একই এলাকার প্রতিবেশী ভাতিজা রুদ্র চন্দ্র দেকে অভিযুক্ত করেছেন।
লিখিত অভিযোগে মনি চন্দ্র দে উল্লেখ করেন, জীবিকার তাগিদে হোটেল কর্মচারী হিসেবে কাজ করার সুবাদে দীর্ঘ সময় তাকে বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। এ সুযোগে তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের পক্ষ থেকে স্ত্রীকে সতর্ক করা হলেও তিনি পরকীয়া থেকে সরে আসেননি। ১ জুলাই অভিযুক্ত রুদ্র চন্দ্র দে কৌশলে তার স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যান বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। এ সময় ঘরের আলমারিতে থাকা প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং নগদ প্রায় ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যান তিনি।
মনি চন্দ্র দে আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে রাজিবপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জনি দে বলেন, রুদ্র চন্দ্র দে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। প্রতিবেশী চাচির সঙ্গে পরকীয়ার ঘটনাটি সত্য। সুষ্ঠু বিচার চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মনি চন্দ্রকে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পরামর্শ দিয়েছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুদ্র ও তার পরিবারের ব্যবহৃত দুটি নম্বরে একাধিকবার কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে অভিযুক্ত রুদ্র চন্দের চাচা রনজিত চন্দ্র দে নম্বরে কল দিলে তিনি বলেন, আমার ভাতিজা রুদ্রের সঙ্গে ঝরনার মোবাইল ফোনের মধ্যে সম্পর্ক হয়। ঝরনা তার স্বামী মনি চন্দ্র দেকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রবোধ রঞ্জন সরকার বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) রবিউল আজম বলেন, এ নিয়ে মনি চন্দ্র দে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।