ঢাকা: স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত এসব সংশোধনীর মধ্যে রয়েছে—এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপি ও সেবা খাতের বিলখেলাপিদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং লাভজনক পদে আসীন ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের ১২তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় অন্য নির্বাচন কমিশনারগণ ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ইসি সচিব জানান, প্রস্তাবিত আইন সংশোধনের এই খসড়া শিগগিরই স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রস্তাবিত সংশোধনের মূল পয়েন্টসমূহ:
এমপিওভুক্ত শিক্ষক: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্যতার আওতায় আনার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
ঋণখেলাপি ও জামিনদার: কেবল মূল ঋণগ্রহীতাই নন, বরং ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে যারা ব্যক্তিগতভাবে ‘জামিনদার’ (গ্যারান্টর) হয়েছেন, তাদেরও খেলাপি হিসেবে গণ্য করে নির্বাচনে অযোগ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিলখেলাপি: বিদ্যুৎ, ভূমি কর, ওয়াসা সহ বিভিন্ন সেবা খাতের বিলখেলাপিদের বিষয়ে কড়া বিধান আনার কথা বলা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি নিজে কিংবা তার প্রতিষ্ঠানের নামে বিলখেলাপি থাকলে তিনিও প্রার্থী হতে পারবেন না।
দ্বৈত নাগরিক ও লাভজনক পদ: দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়ে কমিশন নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এ ছাড়া লাভজনক পদে আসীন ব্যক্তিদের প্রার্থিতা বাতিলের স্পষ্ট বিধান যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিধি: ইসি সচিব জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞা সব আইনে একইভাবে উল্লেখ নেই। সে কারণে নির্বাচনী আইনি কাঠামোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি ‘সশস্ত্র বাহিনী’কে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন।

স্টাফ রিপোর্টার 

















