জামালপুরের মাদারগঞ্জের বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাংলা বাঁধের মাথায় পাকা সড়ক ও যমুনার শাখা নদীর ওপর সেতু নির্মিত না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই উপজেলার অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষ। স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও যোগাযোগের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না হওয়ায় স্থানীয় প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ২০০ মিটার দীর্ঘ এক নড়বড়ে কাঠের সাঁকো পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সড়ক ও সাঁকো দিয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার নাংলা, নাদাগাড়ী, পশ্চিম সুখনগরী, ফুলজোড়, কাইজেরচর, আতামারী এবং পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দী উপজেলার শোনপঁচা, নান্দিনার চর, ডাকাতমারী, ধারাভর্ষা, শংকরপুর ও জাওনেরচরসহ ১৫টি গ্রামের অধিবাসীরা যাতায়াত করেন। সড়ক ও সেতু না থাকায় এলাকাটিতে কোনো অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারে না। ফলে মুমূর্ষু রোগী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয় স্বজনদের। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হচ্ছে বৃদ্ধ, শিশু ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
যোগাযোগ ব্যবস্থার এই হালহকিকতে চরম ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। স্থানীয় কৃষক সোলাইমান মণ্ডল জানান, উপযুক্ত রাস্তা ও সেতু না থাকায় তারা উৎপাদিত কৃষিপণ্য সঠিক সময়ে বাজারে পৌঁছাতে পারেন না, যার ফলে ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এলাকাবাসী যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে এই এলাকায় কেউ সামাজিক বা পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি করতে চায় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা পাকা সড়কের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর তা আর বাস্তবায়ন করেন না।
বালিজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “একটি মাত্র পাকা সেতু ও সড়কের অভাবে ১৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। এখানে দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, গাবেরগ্রাম-নাংলা সড়কের নাংলা বাঁধের মাথা এলাকায় একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলেই দ্রুত প্রাক্কলন তৈরি করে প্রয়োজনীয় নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

স্টাফ রিপোর্টার 


















