ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিভাগীয় কমিশনার পরিদর্শন করলেন পাবনার আটঘরিয়া ভূমি অফিস আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম দেশের বাজারে যতবার ইচ্ছা হবে, যখন ইচ্ছা হবে, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট জানাবো বললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক পানির পাইপলাইনে বিষ প্রয়োগ ‘সাবভার্সিভ অ্যাক্টিভিটিজ’বলে মন্তব্য করেছেন এসপি মাসুদ শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলা: ট্রাইব্যুনালে আজ অভিযোগ দাখিল চূড়ান্ত অনুমোদনের পথে নবম পে-স্কেল: শিগগিরই কার্যকরের জোরালো প্রস্তুতি মদনে ভুয়া বায়া দলিলে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ: দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কেন্দুয়ায় নতুন ইউএনও সানজিদা চৌধুরী রংপুর প্রাণিসম্পদ অফিসে কী ঘটছে এসব?
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সাব-রেজিস্ট্রার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় ভূমি সেবা ব্যাহত

ফরিদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড (AC Land) গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় ভূমি সংক্রান্ত সেবায় চরম স্থবিরতা এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এটি মাঠ প্রশাসনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। এসিল্যান্ড না থাকলে প্রধান যে সমস্যা গুলো হয়:

নামজারি (Mutation) ও জমাখারিজ বন্ধ: জমির নামজারি, জমাখারিজ (Mutation), এবং বাটোয়ারা (Partition) কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বা দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে হচ্ছে। ভূমি উন্নয়ন কর ও রেকর্ড সংশোধন: জমির খতিয়ান সংশোধন, ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা আদায়ের মত জরুরি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। দলিল রেজিস্ট্রীতে জটিলতা: নামজারি না হওয়ায় জমির দলিল রেজিস্ট্রী বা হস্তান্তরে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে সাধারণ মানুষ জমি কেনা-বেচায় বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

মোবাইল কোর্ট ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি: এসিল্যান্ড নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ নানা অনিয়ম বৃদ্ধি পাচ্ছে। জমি সংক্রান্ত মিসকেস বন্ধ: জমির রেকর্ড সংক্রান্ত মিসকেস বা শুনানির দিন থাকলেও এসিল্যান্ড না থাকায় শুনানি হয় না। অতিরিক্ত কাজের চাপ: সাধারণত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভূমি অফিসের কাজ সামলান, এতে ভূমি সেবায় ধীরগতি এবং দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন এ পদ শূন্য থাকায় সাধারণ মানুষ জমি সংক্রান্ত কাজ করতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এবং দালালের দৌরাত্ম্য বাড়ছে।

ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য থাকায় বা অনুপস্থিত থাকায় জমি রেজিস্ট্রেশন বা দলিল সম্পাদন সংক্রান্ত কাজগুলো সরাসরি প্রভাবিত হয়। রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী, সাব-রেজিস্ট্রার শূন্য থাকায় সাধারণত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ঘটে:

দলিল রেজিস্ট্রেশন বন্ধ বা বিলম্বিত: নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় জমি কেনা-বেচা ও দলিল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ বা ধীরগতিতে সম্পন্ন হচ্ছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান (Link Officer): সাধারণত কাছের উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রারকে ঐ শূন্য পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সপ্তাহে ১ দিন এসে দলিল স্বাক্ষর করেন। যার ফলে সেবা গ্রহীতাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। জরুরি দলিল স্বাক্ষর: নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে বদলি জনিত কারণে স্বাক্ষর না হওয়া দলিলের জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। রাজস্ব ক্ষতি: সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য থাকায় জমি কেনা-বেচা কম হয়। যার ফলে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে হয়। সহজ কথায়, সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে জমির দলিল দস্তখত বা রেজিস্ট্রেশন কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

ভূমি ব্যবস্থাপনা ও দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড (AC Land) এবং সাব-রেজিস্ট্রার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ, কিন্তু পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন যাবত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সাব-রেজিস্ট্রার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় ভূমি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন স্তরের ভূমি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। কার্যক্রমের সমন্বয়:

ভূমি রেকর্ড ও দলিল রেজিস্ট্রী ঠিক রাখতে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এবং এসিল্যান্ড অফিস পারস্পরিক তথ্যের আদান-প্রদান করে থাকে। জমি কেনা-বেচার পর রেকর্ড হালনাগাদের দায়িত্ব এসিল্যান্ডের, আর দলিলের দায়িত্ব সাব-রেজিস্ট্রারের।

এমতাবস্থায় পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সাব-রেজিস্ট্রার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় ভূমি সেবার খুবই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বিক্রেতাগণরা-ক্রেতাগণরা।এভাবে সরকারি দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকে তাহলে একদিকে ভূমি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে সরকার প্রচুর পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিভাগীয় কমিশনার পরিদর্শন করলেন পাবনার আটঘরিয়া ভূমি অফিস

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সাব-রেজিস্ট্রার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় ভূমি সেবা ব্যাহত

আপডেট সময় ০২:২৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড (AC Land) গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় ভূমি সংক্রান্ত সেবায় চরম স্থবিরতা এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এটি মাঠ প্রশাসনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। এসিল্যান্ড না থাকলে প্রধান যে সমস্যা গুলো হয়:

নামজারি (Mutation) ও জমাখারিজ বন্ধ: জমির নামজারি, জমাখারিজ (Mutation), এবং বাটোয়ারা (Partition) কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বা দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে হচ্ছে। ভূমি উন্নয়ন কর ও রেকর্ড সংশোধন: জমির খতিয়ান সংশোধন, ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা আদায়ের মত জরুরি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। দলিল রেজিস্ট্রীতে জটিলতা: নামজারি না হওয়ায় জমির দলিল রেজিস্ট্রী বা হস্তান্তরে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে সাধারণ মানুষ জমি কেনা-বেচায় বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

মোবাইল কোর্ট ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি: এসিল্যান্ড নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ নানা অনিয়ম বৃদ্ধি পাচ্ছে। জমি সংক্রান্ত মিসকেস বন্ধ: জমির রেকর্ড সংক্রান্ত মিসকেস বা শুনানির দিন থাকলেও এসিল্যান্ড না থাকায় শুনানি হয় না। অতিরিক্ত কাজের চাপ: সাধারণত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভূমি অফিসের কাজ সামলান, এতে ভূমি সেবায় ধীরগতি এবং দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন এ পদ শূন্য থাকায় সাধারণ মানুষ জমি সংক্রান্ত কাজ করতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এবং দালালের দৌরাত্ম্য বাড়ছে।

ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য থাকায় বা অনুপস্থিত থাকায় জমি রেজিস্ট্রেশন বা দলিল সম্পাদন সংক্রান্ত কাজগুলো সরাসরি প্রভাবিত হয়। রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী, সাব-রেজিস্ট্রার শূন্য থাকায় সাধারণত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ঘটে:

দলিল রেজিস্ট্রেশন বন্ধ বা বিলম্বিত: নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় জমি কেনা-বেচা ও দলিল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ বা ধীরগতিতে সম্পন্ন হচ্ছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান (Link Officer): সাধারণত কাছের উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রারকে ঐ শূন্য পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সপ্তাহে ১ দিন এসে দলিল স্বাক্ষর করেন। যার ফলে সেবা গ্রহীতাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। জরুরি দলিল স্বাক্ষর: নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে বদলি জনিত কারণে স্বাক্ষর না হওয়া দলিলের জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। রাজস্ব ক্ষতি: সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য থাকায় জমি কেনা-বেচা কম হয়। যার ফলে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে হয়। সহজ কথায়, সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে জমির দলিল দস্তখত বা রেজিস্ট্রেশন কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

ভূমি ব্যবস্থাপনা ও দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড (AC Land) এবং সাব-রেজিস্ট্রার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ, কিন্তু পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন যাবত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সাব-রেজিস্ট্রার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় ভূমি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন স্তরের ভূমি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। কার্যক্রমের সমন্বয়:

ভূমি রেকর্ড ও দলিল রেজিস্ট্রী ঠিক রাখতে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এবং এসিল্যান্ড অফিস পারস্পরিক তথ্যের আদান-প্রদান করে থাকে। জমি কেনা-বেচার পর রেকর্ড হালনাগাদের দায়িত্ব এসিল্যান্ডের, আর দলিলের দায়িত্ব সাব-রেজিস্ট্রারের।

এমতাবস্থায় পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সাব-রেজিস্ট্রার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় ভূমি সেবার খুবই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বিক্রেতাগণরা-ক্রেতাগণরা।এভাবে সরকারি দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকে তাহলে একদিকে ভূমি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে সরকার প্রচুর পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।