ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ‘ব্লু টাইড’; কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের হারিয়ে চমক শেরপুরে জেলা প্রশাসকের গণশুনানি অনুষ্ঠিত, ৯৯ জন পেলেন আর্থিক সহায়তা পূর্বধলায় শিক্ষকদের জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, অস্ত্রের মুখে পদত্যাগের দাবি নাকচ বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিনের শার্শায় গোগা সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ৪৮৬ বোতল ভারতীয় সিরাপ উদ্ধার গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নতুন উত্তেজনা, দিনভর সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি শান্ত ব্রজগোপালকে আহ্বায়ক ও রতীশকে সদস্য সচিব করে সুনামগঞ্জ পৌর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন নেত্রকোণায় ওয়েসিস-বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে পাঁচটি ক্লাবের যাত্রা শুরু, উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুবার্ষিকীতে ময়মনসিংহ প্রজন্ম দলের দোয়া ও খাবার বিতরণ ময়মনসিংহে ‘নাগরিকতা’র উদ্যোগে নাগরিক অংশগ্রহণে সংলাপ অনুস্ঠিত ​পূর্বধলায় মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

পূর্বধলায় শিক্ষকদের জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, অস্ত্রের মুখে পদত্যাগের দাবি নাকচ বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিনের

নেত্রকোণার পূর্বধলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সেলিম উদ্দিনকে জড়িয়ে অ্যাডহক কমিটির সভাপতিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিন।

গত বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় পূর্বধলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং এ ঘটনায় থানায় দায়ের করা অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন জানান, গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় কালডোয়ার কুমারখালী বাজার মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে তিনি তাঁর আঞ্জুমান অটো রাইস মিলের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বধলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন প্রধান ও সহকারী শিক্ষক সেখানে উপস্থিত হন।

তাঁদের মধ্যে ছিলেন আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদরুজ্জামান, পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী মামুন, দেওটকোন আবদুল গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিউটন চন্দ্র সরকার, আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আশিক মাহমুদ এবং হোগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম।

সেলিম উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার একপর্যায়ে মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তাঁকে আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। তবে অন্য একটি বিদ্যালয়ের তুলনামূলক জুনিয়র সহকারী শিক্ষক হওয়ায় এ দায়িত্ব পালনে তিনি বিব্রত বোধ করছেন। এ কারণে পরদিন ২ নভেম্বর শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে পদত্যাগ করার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। পরে চা ও কোমল পানীয় পান শেষে উপস্থিত সবাই সেখান থেকে চলে যান।

সেলিম উদ্দিন আরও জানান, ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁকে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। এ ঘটনায় মধ্যরাতে সেলিম উদ্দিনসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেন তিনি।

তবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের সময়কাল ও পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার তারিখ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সেলিম উদ্দিন। তাঁর দাবি, শিক্ষা বোর্ড থেকে সংগৃহীত পদত্যাগপত্রে দেখা যায়, আমিনুল ইসলাম ২ নভেম্বর স্বাক্ষর করে ৩ নভেম্বর সেটি বোর্ডে জমা দিয়েছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।

সেলিম উদ্দিন বলেন, এ ধরনের অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রচারের ফলে তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সুনামের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সম্মানও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক ফকির সাইয়েদ আল মামুন শহীদ, আবুল হাসনাত বেপারী, সালাউদ্দিন আহম্মদ নওয়াব, উপজেলা বিএনপির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. আবুল কাশেম আব্দুর রব মিয়াসহ উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকেরাও উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ‘ব্লু টাইড’; কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের হারিয়ে চমক

পূর্বধলায় শিক্ষকদের জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, অস্ত্রের মুখে পদত্যাগের দাবি নাকচ বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিনের

আপডেট সময় ১০:৩৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

নেত্রকোণার পূর্বধলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সেলিম উদ্দিনকে জড়িয়ে অ্যাডহক কমিটির সভাপতিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিন।

গত বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় পূর্বধলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং এ ঘটনায় থানায় দায়ের করা অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন জানান, গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় কালডোয়ার কুমারখালী বাজার মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে তিনি তাঁর আঞ্জুমান অটো রাইস মিলের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বধলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন প্রধান ও সহকারী শিক্ষক সেখানে উপস্থিত হন।

তাঁদের মধ্যে ছিলেন আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদরুজ্জামান, পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী মামুন, দেওটকোন আবদুল গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিউটন চন্দ্র সরকার, আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আশিক মাহমুদ এবং হোগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম।

সেলিম উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার একপর্যায়ে মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তাঁকে আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। তবে অন্য একটি বিদ্যালয়ের তুলনামূলক জুনিয়র সহকারী শিক্ষক হওয়ায় এ দায়িত্ব পালনে তিনি বিব্রত বোধ করছেন। এ কারণে পরদিন ২ নভেম্বর শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে পদত্যাগ করার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। পরে চা ও কোমল পানীয় পান শেষে উপস্থিত সবাই সেখান থেকে চলে যান।

সেলিম উদ্দিন আরও জানান, ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁকে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। এ ঘটনায় মধ্যরাতে সেলিম উদ্দিনসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেন তিনি।

তবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের সময়কাল ও পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার তারিখ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সেলিম উদ্দিন। তাঁর দাবি, শিক্ষা বোর্ড থেকে সংগৃহীত পদত্যাগপত্রে দেখা যায়, আমিনুল ইসলাম ২ নভেম্বর স্বাক্ষর করে ৩ নভেম্বর সেটি বোর্ডে জমা দিয়েছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।

সেলিম উদ্দিন বলেন, এ ধরনের অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রচারের ফলে তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সুনামের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সম্মানও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক ফকির সাইয়েদ আল মামুন শহীদ, আবুল হাসনাত বেপারী, সালাউদ্দিন আহম্মদ নওয়াব, উপজেলা বিএনপির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. আবুল কাশেম আব্দুর রব মিয়াসহ উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকেরাও উপস্থিত ছিলেন।