নাগরিক অধিকার, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং সবার জন্য সমতাভিত্তিক সরকারি ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ব্রিজিং দ্য গ্যাপ: ইনক্লুসিভ ডায়ালগস, ইকুইটেবল সার্ভিসেস’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপ।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) ময়মনসিংহ নগরীর ট্রিপল ট্রি ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে। ‘নাগরিকতা’ (NAGORIKATA)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিক ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে অংশগ্রহণমূলক আলোচনা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবাব্যবস্থার পথ সুগম করা।
আয়োজকদের উদ্যোগের মূল প্রতিপাদ্য ‘Bridging the Gap: Inclusive Dialogues, Equitable Services’। অর্থাৎ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ব্যবধান কমিয়ে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের মতামত, প্রয়োজন ও অধিকার সমান গুরুত্ব পাবে।
নাগরিক জীবনে উন্নয়ন ও সেবার সুফল তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষ সমানভাবে সেই সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। বাস্তবে অনেক সময় তথ্যের অভাব, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা, সামাজিক বৈষম্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার কারণে নাগরিকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। এসব ব্যবধান চিহ্নিত করা এবং সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই এ ধরনের সংলাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
বিশেষ করে নাগরিকদের মতামত গ্রহণ, স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার ওপর এ উদ্যোগ গুরুত্ব দিচ্ছে। সংলাপের মাধ্যমে নাগরিকদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা তুলে ধরার পাশাপাশি সেবাব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব, সহজলভ্য ও বৈষম্যহীন করার বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হবে।
এ উদ্যোগে অংশীদার হিসেবে রয়েছে কানাডা (In Partnership with Canada), সুইজারল্যান্ড (Switzerland) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (Co-funded by the European Union)। পাশাপাশি ‘নাগরিকতা—সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (CEF)’-এর সহায়তায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
নাগরিক সম্পৃক্ততা ও সামাজিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ একটি কার্যকর নাগরিক সমাজ গড়ে তুলতে শুধু উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানুষের কথা শোনার মানসিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীন পরিবেশ এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার।
কবির ভাষায়—
“মানুষের তরে মানুষ, জীবনের তরে জীবন,
সমতার আলোয় গড়ে উঠুক আগামীর ভুবন।”
নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হলে তবেই একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। সেই প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই ময়মনসিংহে ‘নাগরিকতা’র এ সংলাপ নাগরিক ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরির একটি প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, এ ধরনের সংলাপ শুধু আলোচনা বা মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব সমস্যার সমাধান, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সেবার মানোন্নয়নে কার্যকর সুপারিশ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
সবার জন্য সমান অধিকার, মর্যাদা ও সেবা নিশ্চিত হোক, এই প্রত্যাশায় নাগরিক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকার।
উক্ত সংলাপে স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের নাগরিকবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গনমাধ্যমকর্মী এবং হিজরা জনগোষ্ঠীর সদস্য ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 


















