গ্রামবাংলার প্রাণের খেলা হাডুডু। সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যবাহী খেলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে আনতে দিনাজপুরের বিরামপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে ‘হাডুডু টুর্নামেন্ট-২০২৬’। খেলাটি কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দর্শক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিরামপুর উপজেলার ৪ নম্বর দিওড় ইউনিয়নের কেন্দুয়া গ্রামে ‘কেন্দুয়া যুব সমাজ’-এর উদ্যোগে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মন্ডল। তিনি ফিতা কেটে প্রতিযোগিতার শুভ সূচনা করেন।
উদ্বোধনের পরপরই মাঠে গড়ায় প্রথম রাউন্ডের খেলা। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় হরিল্যাকুর ও গরিবপাড়া দল। দুই দলের খেলোয়াড়দের চোখধাঁধানো প্রদর্শনীতে শুরুতেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই জমে ওঠে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী রুবেল।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এস এম আশরাফ আল মূতি (সায়েম), ইব্রাহীম বাবু, জীবন চৌধুরী শাহিন, তাজুল ইসলাম অমি, এ কে এম মামুনুর রশিদ (লিটন), ৪ নম্বর দিওড় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম মোস্তফা, বিরামপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান বাবু এবং ৪ নম্বর দিওড় ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান।
আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডে মোট আটটি দল চারটি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ম্যাচগুলো হলো— হরিল্যাকুর বনাম গরিবপাড়া, নয়াপাড়া বনাম মালিপাড়া, হরিল্যাকুর বনাম খুদাইপুর এবং কেন্দুয়া বনাম শ্রীপুর।
খেলার মাঠে খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত উপস্থিতি আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো আয়োজন যেন পরিণত হয়েছে গ্রামীণ মিলনমেলায়। চিরচেনা এই খেলাকে ঘিরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
আয়োজকরা জানান, এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য কেবল প্রতিযোগিতা নয়; বরং হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ক্রীড়া ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা, যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করা। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ গড়ে তোলাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা, এমন আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে হাডুডুর মতো ঐতিহ্যবাহী খেলা আবারও মানুষের হৃদয়ে নতুন করে জায়গা করে নেবে। মাঠের খেলাধুলার মধ্য দিয়ে বিকাশ ঘটবে নতুন প্রতিভার, জোরদার হবে সামাজিক বন্ধন এবং প্রাণ ফিরে পাবে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংস্কৃতি।

স্টাফ রিপোর্টার 


















