ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। লটারিতে প্রথম হয়েও ডিলারশিপ না পাওয়া এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে আবেদনকারীদের মধ্যে। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে, নিয়োগের তালিকায় আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬ ইং) দুপুরে গৌরীপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের মেসার্স মুন্সী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম কাজীয়েল হাজাত মুন্সী (শাহী মুন্সী)।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সার ডিলার নিয়োগের লটারি অনুষ্ঠিত হয়। ওই লটারিতে ডৌহাখলা ইউনিয়ন থেকে তাঁর নাম প্রথম ওঠে। এর ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম রাখা হয়নি।
শাহী মুন্সী অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ ও ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব আব্দুর রহমান বাবুলের নেতৃত্বে একটি চক্র ডিলারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডিলারশিপ পাইয়ে দিয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
এদিকে উপজেলার ২ নম্বর গৌরীপুর সদর ইউনিয়নের মেসার্স আরিফ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. নুরুজ্জামান জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে তিনি সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন। অথচ প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকার পরও রাজনৈতিক প্রভাবে তাঁর আবেদন বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগ নীতিমালার শর্ত উপেক্ষা করে ‘মাহফুজ বিল্ডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ। উল্টো সার ডিলার নিয়োগের তালিকায় আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনর্বাসন করা হয়েছে বলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ বলেন, ‘প্রশাসন এখনো ফ্যাসিস্টমুক্ত হতে পারেনি। তারাই মূলত ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করেছে। সার ডিলার নিয়োগের এই তালিকার বিষয়ে আমাদের দল কিংবা প্রতিমন্ত্রী মহোদয় কিছুই জানেন না। এ বিষয়ে আমাদের একেবারেই অবহিত করা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, বিতর্কিত এই তালিকা বাতিলের দাবিতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির চার শীর্ষ নেতার যৌথ স্বাক্ষরে কৃষি মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, মন্ত্রী মহোদয় তালিকা বাতিলের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, ‘ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়মের বিষয় আমার জানা নেই। ডিলার তালিকা করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।’
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৪-১৫ জন করে আবেদন করেছেন, দেওয়া হয়েছে একজনকে। তাই অন্যরা সংক্ষুব্ধ হয়েছেন।
যাঁদের দেওয়া হয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে। কেউ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মোঃ মাহফুজুর রহমান, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 



















