ময়মনসিংহ , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফেরাতে উদ্যোগ: আলিমের সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক জুলাই থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে নবম পে-স্কেল! প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা: অনুমোদনের অপেক্ষায় ৮,১০৬ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্মবিরতি শেষে কাজে যোগ দিচ্ছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দুই পয়েন্ট থেকে ২১ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ পূর্বধলায় ৪৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ​টাইগারদের বড় পরীক্ষা: আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশ সাময়িক যুদ্ধবিরতি: ইসরায়েলের সঙ্গে হামলা বন্ধে একমত ইরান ভয়াবহ কম্পন ইরানে: আঘাত হানল ৫ মাত্রার ভূমিকম্প
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

শিক্ষার্থীরা সাঁকো বানিয়ে দেখিয়ে দিল সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৩:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে একটি ভাঙ্গা সেতুর সংযোগ সাঁকো নির্মাণ করেছে শিক্ষার্থীরা। যমুনার চরে অবস্থিত চরগিরিশ ইউনিয়নের চরনাটিপাড়ায় গত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পাকা সেতুর সংযোগ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ বর্ষায় পানি বেড়ে সেই সেতু দিয়ে চলাচল একেবারেই কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।

ঠিক এমন পরিস্তিতিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সরকারি বরাদ্দ না আসার কথা জানানো হয়েছে। এই কথা শুনে শিক্ষার্থীরাই নিজ উদ্যোগে বানিয়েছে সাঁকো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কয়েক বছর পূর্বে চরগিরিশ থেকে মনসুর নগর হয়ে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলায়  যাওয়ার মূল রাস্তায় ওই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের দুই বছরের মাথায় বন্যার পানির তোড়ে সেতুটির পিলার মাটিতে দেবে যায়। সেতুতে ওঠার একপাশ দিয়ে পানি গড়ায় সেখানকার মাটি ধসে যায়। এর ফলে মূল সেতুটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ওই সেতু ব্যবহার করে প্রতিদিন চলাচলকারী স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে পায়ে হেঁটে চলা সাধারণ মানুষদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

পূর্ব কাজিপুর ছাত্র কল্যাণ পরিষদের শিক্ষার্থী এল ডব্লিউ রাসেল বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের বন্যার সময়ে চলাচলের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে সাঁকোটি নির্মাণ করি। এই কাজে স্থানীয় বিএনপির নেতা আয়নাল হক ও জামায়াত নেতা সাইদুর রহমান আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমাদের শিক্ষার্থী বিপ্লব শেখ, নিরব তালুকদার, মুরাদ সামনে থেকে এই কাজ বাস্তবায়নে অংশ নেন।
শিক্ষার্থী নিরব শেখ বলেন, আমরা বাঁশ, কাঠ, পেরেক, সিমেন্টের খুঁটি ব্যবহার করে সাঁকোটির নির্মাণ কাজ মঙ্গলবার শেষ করেছি।

নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের দেখিয়ে দিলো কিভাবে ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে বলীয়ান হয়ে কাজ করতে হয়। অনেক মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করে চলাচল করে। সবার পক্ষ থেকে আমি এই শিক্ষার্থীদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আয়নাল হক বলেন, ওরা (শিক্ষার্থীরা) আমাকে এই উদ্যোগের কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ওদের উৎসাহিত করেছি। নিঃসন্দেহে এটি প্রশংসনীয় কাজ।

কাজিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিক্ষার্থীদের সাঁকো নির্মাণের বিষয়টি শুনেছি। সরকারিভাবে ওই কাজের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফেরাতে উদ্যোগ: আলিমের সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক

শিক্ষার্থীরা সাঁকো বানিয়ে দেখিয়ে দিল সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই

আপডেট সময় ০৩:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে একটি ভাঙ্গা সেতুর সংযোগ সাঁকো নির্মাণ করেছে শিক্ষার্থীরা। যমুনার চরে অবস্থিত চরগিরিশ ইউনিয়নের চরনাটিপাড়ায় গত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পাকা সেতুর সংযোগ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ বর্ষায় পানি বেড়ে সেই সেতু দিয়ে চলাচল একেবারেই কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।

ঠিক এমন পরিস্তিতিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সরকারি বরাদ্দ না আসার কথা জানানো হয়েছে। এই কথা শুনে শিক্ষার্থীরাই নিজ উদ্যোগে বানিয়েছে সাঁকো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কয়েক বছর পূর্বে চরগিরিশ থেকে মনসুর নগর হয়ে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলায়  যাওয়ার মূল রাস্তায় ওই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের দুই বছরের মাথায় বন্যার পানির তোড়ে সেতুটির পিলার মাটিতে দেবে যায়। সেতুতে ওঠার একপাশ দিয়ে পানি গড়ায় সেখানকার মাটি ধসে যায়। এর ফলে মূল সেতুটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ওই সেতু ব্যবহার করে প্রতিদিন চলাচলকারী স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে পায়ে হেঁটে চলা সাধারণ মানুষদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

পূর্ব কাজিপুর ছাত্র কল্যাণ পরিষদের শিক্ষার্থী এল ডব্লিউ রাসেল বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের বন্যার সময়ে চলাচলের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে সাঁকোটি নির্মাণ করি। এই কাজে স্থানীয় বিএনপির নেতা আয়নাল হক ও জামায়াত নেতা সাইদুর রহমান আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমাদের শিক্ষার্থী বিপ্লব শেখ, নিরব তালুকদার, মুরাদ সামনে থেকে এই কাজ বাস্তবায়নে অংশ নেন।
শিক্ষার্থী নিরব শেখ বলেন, আমরা বাঁশ, কাঠ, পেরেক, সিমেন্টের খুঁটি ব্যবহার করে সাঁকোটির নির্মাণ কাজ মঙ্গলবার শেষ করেছি।

নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের দেখিয়ে দিলো কিভাবে ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে বলীয়ান হয়ে কাজ করতে হয়। অনেক মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করে চলাচল করে। সবার পক্ষ থেকে আমি এই শিক্ষার্থীদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আয়নাল হক বলেন, ওরা (শিক্ষার্থীরা) আমাকে এই উদ্যোগের কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ওদের উৎসাহিত করেছি। নিঃসন্দেহে এটি প্রশংসনীয় কাজ।

কাজিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিক্ষার্থীদের সাঁকো নির্মাণের বিষয়টি শুনেছি। সরকারিভাবে ওই কাজের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।