অসহায় কৃষকের জমিও কি জোরপূর্বক লিখে নিতে হবে? শামীম সাহেব ১৬ বছর যাবত জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছেন অসংখ্য দরিদ্র কৃষক পরিবারের । এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দাখিল করেছেন এক অসহায় কৃষক, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার বরাবরে । ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ড, দিগারকান্দার ছত্রপুর মৌজার চড়া বিলে নামে-বেনামে, ছলে-বলে প্রায় আট একর জমি ক্রয় করেছেন জনশ্রুতিতে ভূমিদস্যু খ্যাত আমিনুল হক শামীম, শামীম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ও ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।
এসব তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায় একাধিক ভুক্তভোগী কৃষকের অভিযোগ ও মামলার কাগজপত্র থেকে এবং শামীম এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধির দায়ের করা পাল্টা অভিযোগ ও মামলার নথি থেকে।
চলুন, দেখে আসি নথিতে কী উল্লেখ করা হয়েছে
আব্দুল মান্নান জানান, তিনি বি.আর.এস. খতিয়ান নং- ৪২৯ এবং বি.আর.এস. দাগ নং-১১০১৯-এর একজন বৈধ অংশীদার ও দখলকার।
বি.আর.এস. খতিয়ান নং- ৪২৯ এবং বি.আর.এস. দাগ নং-১১০১৯ মূলে আব্দুল মান্নান, ফুলবানু, খাদেজা খাতুন ও ফাতেমা খাতুন, সর্বপিতা-সমশের আলী-এর যৌথ নামে মোট ০.৩৪৬০ একর ভূমি খতিয়ানভুক্ত রয়েছে।
উক্ত খতিয়ানে অভিযোগকারীর প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী তিনি ০.১৩৮৪ একর ভূমির অংশীদার ও বৈধ দাবিদার।
আব্দুল মান্নান আরও জানান, উক্ত ভূমির বৈধ মালিক ও দখলকার থাকা অবস্থায় পারিবারিক প্রয়োজন, পরিবারের সদস্যের বিবাহ এবং তাঁর চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের প্রয়োজনে উক্ত ভূমি বিক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা করেন। সে সময় ১৮/০১/২০১০ ইং তারিখে, পরবর্তীতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে সাফ কবলা দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার শর্তে ০.১৩৮৪ একর ভূমির বায়না সম্পাদিত হয়।
পরবর্তীতে তিনি দেখতে পান, তাঁর বোনদের হিস্যাসহ মোট ০.৩৪৬০ একর ভূমি তাঁকে না জানিয়ে বায়না করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি পড়ালেখা জানি না। আমার বোনদের হিস্যা বিক্রি করার এখতিয়ার আমি রাখি না। আমি বারবার বলেছি, আমার প্রাপ্য ০.১৩৮৪ একর ভূমির বেশি দলিল সম্পাদন করে দিতে পারবো না।”
কিন্তু বায়নার পর থেকে সংশ্লিষ্ট পক্ষ বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা সাক্ষাৎ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। পাওনা টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন সময় তাঁকে ভয়ভীতি ও পুলিশি হয়রানির আশঙ্কা দেখানো হয়। এমনকি বিভিন্ন সময়ে তাঁকে এবং তাঁর অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের হয়রানি করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
আব্দুল মান্নান আরও অভিযোগ করেন, শামীম সাহেব ও তাঁর লোকজনের দ্বারা তিনি অনেকবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর বর্তমানে তাঁর পৈত্রিকসূত্রে তিনি ও তাঁর বোনদের নামে খতিয়ানভুক্ত ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত অধিগ্রহণকৃত ভূমির ক্ষতিপূরণের প্রাপ্য অর্থ উত্তোলনের জন্য তিনি আবেদন করতে গেলে, ১০/০৮/২০২৬ ইং তারিখে ৫৫ নং এওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত ১১০১৯ নং দাগের ভূমি সম্পর্কে শামীম এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি একটি অভিযোগ দাখিল করেন।
তিনি উক্ত অভিযোগের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগটি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেন।
পৈত্রিকসূত্রে তিনি ও তাঁর বোনদের নামে খতিয়ানভুক্ত ভূমির ক্ষতিপূরণের প্রাপ্য অর্থ উত্তোলনে অযৌক্তিকভাবে বাধা প্রদান বা আপত্তি উত্থাপন করা তাঁর ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযোগকারী উল্লেখ করেন, নামীয় ও প্রাপ্য অংশের ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে শামীম এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধির দাখিলকৃত উক্ত অযৌক্তিক অভিযোগটি যথাযথ তদন্ত ও কাগজপত্র যাচাই ব্যতীত আমলে না নিয়ে তাঁর বৈধ মালিকানা ও প্রাপ্য অংশ বিবেচনায় নিয়ে অধিগ্রহণকৃত ভূমির ক্ষতিপূরণের প্রাপ্য অর্থ তাঁকে প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
অভিযোগকারী আরও উল্লেখ করেন, দাখিলকৃত খতিয়ান, মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দলিলাদি যাচাইপূর্বক ৫৫ নং এওয়ার্ডভুক্ত ১১০১৯ নং দাগে তাঁর প্রাপ্য অংশের অধিগ্রহণকৃত ভূমির ক্ষতিপূরণের অর্থ তাঁকে প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী আরও জানান,গত সপ্তাহে দিগারকান্দা বাইপাস মোড়ে তাঁর ছেলে বাইপাস আড়ত থেকে বাজার করে বাড়ি ফেরার পথে শামীম সাহেবের ক্যাডার বাহিনী আরিফ,রফিকুল ইসলাম ও স্বপনসহ ৬-৭ জনের একটি দল বায়নাকৃত জমি লিখে না দিলে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করেন।

আমিনুল ইসলাম(রুবেল) 



















