ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে যেকোনো বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে প্রস্তুত জানিয়েছেন জামায়াত আমির মদনে উচিপুর হাওরে অবৈধ বেড় ও চায়না জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস শেখ হাসিনা রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন কি না, তা ভারতকেই স্পষ্ট করতে হবে বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উত্তাল সেই দিনগুলো: জুলাই অভ্যুত্থানের এই সময়েই ঘোষণা করা হয়েছিল তিন দিনের সাধারণ ছুটি আন্দোলনের উত্তাল পরিস্থিতিতে সারাদেশের সব পোশাক কারখানা বন্ধের ঘোষণা জাতীয় মৎস্য পক্ষ সফল করতে শেরপুরে প্রস্তুতি সভা যেকোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে প্রস্তুত: জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবসে র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: ১০ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী পূর্বধলায় ৩০ অসহায় পরিবার পেলেন অনুদান, বেশ কিছু উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করলেন এমপি মানসুরা নরসিংদীতে কক্ষে আটকে পড়া দুই বছরের শিশুকে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

‘হয়তো অনেক ভুল করেছি’,সোহেল রানা সবার কাছে ক্ষমা চাইলেন

  • ডিজিটাল রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৫২ বার পড়া হয়েছে

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক, প্রযোজক ও পরিচালক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা। বয়সের ভারে এখন আর ক্যামেরার সামনে নিয়মিত দেখা যায় না তাকে। বার্ধক্যের কারণে বেশিরভাগ সময় কাটছে বাসাতেই। তবে চলচ্চিত্রের প্রতি টান, সহকর্মীদের প্রতি আবেগ আর দেশবাসীর প্রতি দায়িত্ববোধ এখনো অনুভব করেন তিনি।

সেই টান থেকেই সহকর্মী ও দেশবাসীর উদ্দেশে ছুঁড়ে দিলেন হৃদয়ছোঁয়া কথা, ‘যদি কোনো ভুল-ত্রুটি কিংবা অন্যায় করে থাকি, আজ এই মুহূর্তে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’

গত রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিএফডিসিতে প্রয়াত চলচ্চিত্রশিল্পীদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সোহেল রানা। নতুন ও পুরোনো শিল্পীদের ভিড়ে তিনি সেখানে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

এদিন তার কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে জীবনের নানা উপলব্ধি। বিনীতভাবে বললেন, ‘আমি ভুল করেছি, ভুল অনেক করেছি। তাই সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। যেন মৃত্যুর পর মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নীতি ও আদর্শ নিয়ে দাঁড়াতে পারি।’

প্রয়াত চলচ্চিত্রশিল্পীদের স্মরণে রোববার বিএফডিসিতে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে কথা বলছেন সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত

সোহেল রানার পারিবারিক নাম মাসুদ পারভেজ। নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশের পর তিনি সোহেল রানা নামেই ব্যাপক পরিচিতি পান। তবে প্রযোজক হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয় ১৯৭২ সালে, মাসুদ পারভেজ নামেই।

সোহেল রানা শুধু অভিনেতাই নন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পরেই প্রযোজনা করেন ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’। নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মিলে তিনি সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েই ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেছিলেন যুদ্ধের বাস্তবতা। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে তখন চলচ্চিত্র নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব ছিল, কিন্তু সোহেল রানা সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছিলেন।

১৯৭২ সালে ‘পারভেজ ফিল্মস’ নামে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। প্রযোজনা করেন প্রায় ৩০টিরও বেশি চলচ্চিত্র। তবে জনপ্রিয়তা পান নায়ক হিসেবেই। ১৯৭৪ সালে কাজী আনোয়ার হোসেনের বিখ্যাত চরিত্র অবলম্বনে নির্মিত ‘মাসুদ রানা’ চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। একই সিনেমায় পরিচালক হিসেবেও যাত্রা শুরু করেন তিনি।

এরপর একে একে ‘এপার ওপার’, ‘দস্যু বনহুর’, ‘জীবন নৌকা’সহ প্রায় তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন সোহেল রানা। ‘লালু ভুলু’, ‘অজান্তে’ ও ‘সাহসী মানুষ চাই’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৯ সালে পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের স্বার্থে যেকোনো বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে প্রস্তুত জানিয়েছেন জামায়াত আমির

‘হয়তো অনেক ভুল করেছি’,সোহেল রানা সবার কাছে ক্ষমা চাইলেন

আপডেট সময় ১২:০৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক, প্রযোজক ও পরিচালক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা। বয়সের ভারে এখন আর ক্যামেরার সামনে নিয়মিত দেখা যায় না তাকে। বার্ধক্যের কারণে বেশিরভাগ সময় কাটছে বাসাতেই। তবে চলচ্চিত্রের প্রতি টান, সহকর্মীদের প্রতি আবেগ আর দেশবাসীর প্রতি দায়িত্ববোধ এখনো অনুভব করেন তিনি।

সেই টান থেকেই সহকর্মী ও দেশবাসীর উদ্দেশে ছুঁড়ে দিলেন হৃদয়ছোঁয়া কথা, ‘যদি কোনো ভুল-ত্রুটি কিংবা অন্যায় করে থাকি, আজ এই মুহূর্তে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’

গত রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিএফডিসিতে প্রয়াত চলচ্চিত্রশিল্পীদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সোহেল রানা। নতুন ও পুরোনো শিল্পীদের ভিড়ে তিনি সেখানে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

এদিন তার কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে জীবনের নানা উপলব্ধি। বিনীতভাবে বললেন, ‘আমি ভুল করেছি, ভুল অনেক করেছি। তাই সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। যেন মৃত্যুর পর মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নীতি ও আদর্শ নিয়ে দাঁড়াতে পারি।’

প্রয়াত চলচ্চিত্রশিল্পীদের স্মরণে রোববার বিএফডিসিতে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে কথা বলছেন সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত

সোহেল রানার পারিবারিক নাম মাসুদ পারভেজ। নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশের পর তিনি সোহেল রানা নামেই ব্যাপক পরিচিতি পান। তবে প্রযোজক হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয় ১৯৭২ সালে, মাসুদ পারভেজ নামেই।

সোহেল রানা শুধু অভিনেতাই নন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পরেই প্রযোজনা করেন ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’। নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মিলে তিনি সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েই ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেছিলেন যুদ্ধের বাস্তবতা। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে তখন চলচ্চিত্র নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব ছিল, কিন্তু সোহেল রানা সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছিলেন।

১৯৭২ সালে ‘পারভেজ ফিল্মস’ নামে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। প্রযোজনা করেন প্রায় ৩০টিরও বেশি চলচ্চিত্র। তবে জনপ্রিয়তা পান নায়ক হিসেবেই। ১৯৭৪ সালে কাজী আনোয়ার হোসেনের বিখ্যাত চরিত্র অবলম্বনে নির্মিত ‘মাসুদ রানা’ চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। একই সিনেমায় পরিচালক হিসেবেও যাত্রা শুরু করেন তিনি।

এরপর একে একে ‘এপার ওপার’, ‘দস্যু বনহুর’, ‘জীবন নৌকা’সহ প্রায় তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন সোহেল রানা। ‘লালু ভুলু’, ‘অজান্তে’ ও ‘সাহসী মানুষ চাই’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৯ সালে পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা।