ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঢাকায় পৌঁছেছে আমিরাতে নিহত আহমেদ আলীর লাশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা বেইলি ব্রিজ পার হচ্ছে মানুষ গৌরীপুরে নারী নির্যাতন বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ থাকতে হবে । দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবস উপলক্ষে বিপ্লবী নারী মুক্তি ময়মনসিংহে পথসভা মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় ময়মনসিংহে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে টিসিবি’র পন‍্য বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতি ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি ঈদে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকবে বিএনপির এমপি কারামুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাকে জেলগেটে ফুল দিয়ে বরণ করলেন সারাদেশে প্রতীকী ব্ল্যাকআউটের সিদ্ধান্ত সরকারের ২৫শে মার্চ মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ সৌদি আরব ছাড়তে
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

তেহরানে সড়কের পাশে ‘আগুনের নদী’: তেল স্থাপনায় হামলা

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:১৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবার ইরানের তেল স্থাপনাকে নিশানা করেছে। রোববার (৮ মার্চ) যুদ্ধের নবম দিনে দেশটির তেল স্থাপনায় দফায় দফায় হামলায় হয়েছে। রাজধানী তেহরান ও এর পশ্চিমে কয়েকটি তেলের ডিপো ও শোধনাগারে হামলার পর ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কুণ্ডলী পাকানো আগুনে রাতের আকাশ রক্তাভ রং ধারণ করে। নালায় ছড়িয়ে পড়া তেল থেকে সড়কের পাশে ‘আগুনের নদী’ তৈরি হয়। আর দিনের বেলায় তেহরানের আকাশ ছিল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। এসব হামলায় অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার শুরুতে নিশানা ছিল মূলত তেহরানের সামরিক স্থাপনা ও শীর্ষস্থানীয় নেতারা। যদিও তারা বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালিয়েছে। গতকাল তাদের হামলার নিশানা করা হয় ইরানের তেল তথা জ্বালানি স্থাপনাকে।

কুয়েতে বিমানবন্দর, জ্বালানি ডিপো, নিরাপত্তা ভবনে হামলা হয়েছে। এসব হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে কুয়েত। গতকাল ইসরায়েলের তেল আবিব, হাইফাসহ কয়েকটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে ইসরায়েলে তিনজন আহত হয়েছেন। বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার সময় টুকরা অংশ পড়ে আহত হয়েছেন তিনজন। ইরাকের এরবিলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে।

ইরানে বেসামরিক স্থাপনায় নজিরবিহীন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, একটা সময় আসবে যখন ইরানে ‘আত্মসমর্পণ করছি’ বলার মতো কোনো লোক থাকবে না। তবে তাঁর এ হুঁশিয়ারির মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানের বিশেষজ্ঞ পর্ষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট)। যদিও গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নাম ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, হামলার বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে ইরান। এসব হামলার কঠোর জবাব দেবে তাঁর দেশ।

২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন নেতৃস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পর থেকে দফায় দফায় দেশটিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাতে থাকে ইরান।

চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান ছাড়া এসব দেশে ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। ইরানে নিহতের সংখ্যার হালনাগাদ তথ্য দুই দিন ধরে জানানো হচ্ছে না। গত শুক্রবার দেশটির রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছিল, দেশটিতে ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন। দেশটিতে গতকালের হামলায় নিহত ৪১ জন হিসাবে আনলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৭৩।

‘মনে হচ্ছিল যেন শেষ সময়’

তেহরান ও এর পশ্চিমে আলবোরজ প্রদেশের কারাজ শহরে কয়েকটি তেল স্থাপনায় গতকাল হামলা হয়েছে বলে জানায় ইরানের তেল মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার পরমুহূর্তেই কুণ্ডলী পাকানো ভয়াবহ আগুনে দিনের মতো আলোর সৃষ্টি হয়।

তেহরানের শাহরান তেলের ডিপোতে হামলার পরের দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিধ্বস্ত ডিপোর তেল নালা দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করলে সড়কের পাশে ‘আগুনের নদীর’ মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে কিয়ামতের সঙ্গে তুলনা করেন তেহরানের এক বাসিন্দা। গতকাল সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘গত রাতে আমি বিস্ফোরণ দেখেছি, যা আগে কখনো দেখিনি। মনে হচ্ছিল যেন কিয়ামত শুরু হয়েছে কিংবা আমি দোজখকে ঠিক যেভাবে কল্পনা করি, এটি ছিল অনেকটা তেমনই।’

এদিকে তেলের স্থাপনায় হামলার ফলে বিষাক্ত বৃষ্টি ঝরার বিষয়ে সতর্ক করেছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। এটি ত্বক ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ ধরনের বৃষ্টির সময় লোকজনকে বাসাবাড়িতে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তেল স্থাপনায় হামলার পর নাগরিকদের তেল নেওয়ার সীমা কমিয়ে দিয়েছে তেহরানের প্রশাসন। শহরের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামেদিয়ান বলেছেন, একজন ব্যক্তি দিনে ২০ লিটার তেল নিতে পারবেন। আগে দিনে ৩০ লিটার নেওয়া যেত। তবে জনগণকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে গভর্নর বলেন, শিগগিরই জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি আল-জাজিরাকে বলেছেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলা এ যুদ্ধের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তেহরানসহ ইরানের শহরগুলো এই প্রথম এ ধরনের হামলা দেখেছে। তিনি আরও বলেন, ‘এখন স্থানীয় সময় প্রায় দুপুর, কিন্তু ধোঁয়ার কারণে মনে হচ্ছে যেন রাত নেমে এসেছে। আমরা সূর্য দেখতে পাচ্ছি না।’

এদিকে গতকাল ইরানের ইসফাহানে একটি বিমানবন্দর, কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও একটি ক্লাবে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে। তেহরান ও কারাজে তেলের ডিপোতে হামলায় নিহত হয়েছেন ১০ জন। নাজাফাবাদ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২০ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন। সেখানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর উদ্ধারকাজ চলাকালে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইরানের পানি শোধনাগারেও হামলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় পৌঁছেছে আমিরাতে নিহত আহমেদ আলীর লাশ

তেহরানে সড়কের পাশে ‘আগুনের নদী’: তেল স্থাপনায় হামলা

আপডেট সময় ০৯:১৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবার ইরানের তেল স্থাপনাকে নিশানা করেছে। রোববার (৮ মার্চ) যুদ্ধের নবম দিনে দেশটির তেল স্থাপনায় দফায় দফায় হামলায় হয়েছে। রাজধানী তেহরান ও এর পশ্চিমে কয়েকটি তেলের ডিপো ও শোধনাগারে হামলার পর ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কুণ্ডলী পাকানো আগুনে রাতের আকাশ রক্তাভ রং ধারণ করে। নালায় ছড়িয়ে পড়া তেল থেকে সড়কের পাশে ‘আগুনের নদী’ তৈরি হয়। আর দিনের বেলায় তেহরানের আকাশ ছিল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। এসব হামলায় অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার শুরুতে নিশানা ছিল মূলত তেহরানের সামরিক স্থাপনা ও শীর্ষস্থানীয় নেতারা। যদিও তারা বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালিয়েছে। গতকাল তাদের হামলার নিশানা করা হয় ইরানের তেল তথা জ্বালানি স্থাপনাকে।

কুয়েতে বিমানবন্দর, জ্বালানি ডিপো, নিরাপত্তা ভবনে হামলা হয়েছে। এসব হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে কুয়েত। গতকাল ইসরায়েলের তেল আবিব, হাইফাসহ কয়েকটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে ইসরায়েলে তিনজন আহত হয়েছেন। বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার সময় টুকরা অংশ পড়ে আহত হয়েছেন তিনজন। ইরাকের এরবিলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে।

ইরানে বেসামরিক স্থাপনায় নজিরবিহীন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, একটা সময় আসবে যখন ইরানে ‘আত্মসমর্পণ করছি’ বলার মতো কোনো লোক থাকবে না। তবে তাঁর এ হুঁশিয়ারির মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানের বিশেষজ্ঞ পর্ষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট)। যদিও গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নাম ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, হামলার বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে ইরান। এসব হামলার কঠোর জবাব দেবে তাঁর দেশ।

২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন নেতৃস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পর থেকে দফায় দফায় দেশটিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাতে থাকে ইরান।

চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান ছাড়া এসব দেশে ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। ইরানে নিহতের সংখ্যার হালনাগাদ তথ্য দুই দিন ধরে জানানো হচ্ছে না। গত শুক্রবার দেশটির রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছিল, দেশটিতে ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন। দেশটিতে গতকালের হামলায় নিহত ৪১ জন হিসাবে আনলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৭৩।

‘মনে হচ্ছিল যেন শেষ সময়’

তেহরান ও এর পশ্চিমে আলবোরজ প্রদেশের কারাজ শহরে কয়েকটি তেল স্থাপনায় গতকাল হামলা হয়েছে বলে জানায় ইরানের তেল মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার পরমুহূর্তেই কুণ্ডলী পাকানো ভয়াবহ আগুনে দিনের মতো আলোর সৃষ্টি হয়।

তেহরানের শাহরান তেলের ডিপোতে হামলার পরের দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিধ্বস্ত ডিপোর তেল নালা দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করলে সড়কের পাশে ‘আগুনের নদীর’ মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে কিয়ামতের সঙ্গে তুলনা করেন তেহরানের এক বাসিন্দা। গতকাল সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘গত রাতে আমি বিস্ফোরণ দেখেছি, যা আগে কখনো দেখিনি। মনে হচ্ছিল যেন কিয়ামত শুরু হয়েছে কিংবা আমি দোজখকে ঠিক যেভাবে কল্পনা করি, এটি ছিল অনেকটা তেমনই।’

এদিকে তেলের স্থাপনায় হামলার ফলে বিষাক্ত বৃষ্টি ঝরার বিষয়ে সতর্ক করেছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। এটি ত্বক ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ ধরনের বৃষ্টির সময় লোকজনকে বাসাবাড়িতে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তেল স্থাপনায় হামলার পর নাগরিকদের তেল নেওয়ার সীমা কমিয়ে দিয়েছে তেহরানের প্রশাসন। শহরের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামেদিয়ান বলেছেন, একজন ব্যক্তি দিনে ২০ লিটার তেল নিতে পারবেন। আগে দিনে ৩০ লিটার নেওয়া যেত। তবে জনগণকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে গভর্নর বলেন, শিগগিরই জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি আল-জাজিরাকে বলেছেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলা এ যুদ্ধের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তেহরানসহ ইরানের শহরগুলো এই প্রথম এ ধরনের হামলা দেখেছে। তিনি আরও বলেন, ‘এখন স্থানীয় সময় প্রায় দুপুর, কিন্তু ধোঁয়ার কারণে মনে হচ্ছে যেন রাত নেমে এসেছে। আমরা সূর্য দেখতে পাচ্ছি না।’

এদিকে গতকাল ইরানের ইসফাহানে একটি বিমানবন্দর, কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও একটি ক্লাবে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে। তেহরান ও কারাজে তেলের ডিপোতে হামলায় নিহত হয়েছেন ১০ জন। নাজাফাবাদ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২০ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন। সেখানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর উদ্ধারকাজ চলাকালে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইরানের পানি শোধনাগারেও হামলা হয়েছে।