ময়মনসিংহ , বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
​সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, মাছ ধরার নৌকায় সতর্কতা জুলাই নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার করতে হবে বললেন আখতার হোসেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বড় রদবদল: স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান ​জাতীয় নির্বাচনের পাঠ নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে নামছে নির্বাচন কমিশন পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায় বৃহস্পতিবার জনদুর্ভোগ লাঘবে নারী এমপির অনুদান; সড়ক সংস্কারে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল ​আর্জেন্টিনার প্রতি শুভকামনা মোস্তফা জিকোর, প্রত্যাশা আরও এক বিশ্বকাপের রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ: ‘টাকার বিনিময়ে ম্যাচ হেরেছি’, অভিযোগ মিশর কোচের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ-পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত ​কারবালার পথে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

শিক্ষার আলো থেকে রাজনীতির রাজপথ: সংরক্ষিত আসনে আস্থার নাম রাবেয়া খাতুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতির মাঝেই এখন রাজনীতির মূল আলোচনায় পরিণত হয়েছে জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শীঘ্রই এই আসনগুলোর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। আনুপাতিক হারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোটের ভাগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল—সর্বত্রই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই প্রেক্ষাপটে নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় সংরক্ষিত নারী আসনের শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং শিক্ষা বিস্তারে অনবদ্য অবদান তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুনের রাজনৈতিক জীবন কেবল পদের লড়াই নয়, বরং এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৬৯ সালের উত্তাল গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ছাত্রজীবনে মুমিনুন্নিসা উইমেন্স কলেজ ছাত্রী সংসদের সম্পাদক হিসেবে তাঁর নেতৃত্বের হাতেখড়ি। পরবর্তীতে তেজগাঁও থানা বিএনপি ও মহিলা দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯৩ সালে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং বর্তমানেও একই পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল তাঁকে নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রদান করেছিল।
রাজনৈতিক আভিজাত্যের পাশাপাশি রাবেয়া খাতুন একজন সফল শিক্ষাবিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তন শিক্ষার্থী নারী শিক্ষার প্রসারে ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন রাবেয়া আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ। প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করে তিনি এলাকার হাজারো নারীকে সুশিক্ষায় আলোকিত করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই সামাজিক ও শিক্ষামূলক ভাবমূর্তি সাধারণ মানুষের কাছে তাঁকে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। পিতা মরহুম অ্যাডভোকেট মৌলভী আকবর আলী ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং স্বামী মরহুম ডা. মোহাম্মদ আলী ছিলেন নেত্রকোণা-৫ আসনের একাধিকবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় সংসদ সদস্য। স্বামীর প্রয়াণের পর তাঁর জনসেবার আদর্শকে রাবেয়া খাতুন পরম মমতায় বয়ে চলেছেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পূর্বধলায় রাবেয়া খাতুনের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষক ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়লাভ করতে না পারায় এলাকায় রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুনকে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য মনোনীত করা হলে তিনি কেবল নারীদের কণ্ঠস্বরই হবেন না, বরং তৃণমূলের কর্মীদের হতাশা দূর করে দলকে পুনরায় সুসংগঠিত করতে পারবেন। এলাকার থমকে যাওয়া উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং সরকারি বরাদ্দের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ ও জনঘনিষ্ঠ অভিভাবকের উপস্থিতি এখন সময়ের দাবি।
তৃণমূলের কর্মীরা মনে করেন, বর্তমান সাংগঠনিক সংকট কাটিয়ে উঠতে হাইকমান্ড যদি রাবেয়া খাতুনের ওপর আস্থা রাখে, তবে পূর্বধলায় বিএনপির হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করা সহজতর হবে।
নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুন স্পষ্ট জানিয়েছেন, দল যদি তাঁকে যোগ্য মনে করে দায়িত্ব প্রদান করে, তবে তিনি তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও নারী নেতৃত্বের বিকাশে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার দলীয় হাইকমান্ডের ওপর থাকলেও, নেত্রকোণার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে এখন একই সুর—যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সমন্বয়ে রাবেয়া খাতুনই হতে পারেন সংরক্ষিত নারী আসনের সবচেয়ে যোগ্য প্রতিনিধি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

​সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, মাছ ধরার নৌকায় সতর্কতা

শিক্ষার আলো থেকে রাজনীতির রাজপথ: সংরক্ষিত আসনে আস্থার নাম রাবেয়া খাতুন

আপডেট সময় ০৯:০৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতির মাঝেই এখন রাজনীতির মূল আলোচনায় পরিণত হয়েছে জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শীঘ্রই এই আসনগুলোর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। আনুপাতিক হারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোটের ভাগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল—সর্বত্রই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই প্রেক্ষাপটে নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় সংরক্ষিত নারী আসনের শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং শিক্ষা বিস্তারে অনবদ্য অবদান তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুনের রাজনৈতিক জীবন কেবল পদের লড়াই নয়, বরং এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৬৯ সালের উত্তাল গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ছাত্রজীবনে মুমিনুন্নিসা উইমেন্স কলেজ ছাত্রী সংসদের সম্পাদক হিসেবে তাঁর নেতৃত্বের হাতেখড়ি। পরবর্তীতে তেজগাঁও থানা বিএনপি ও মহিলা দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯৩ সালে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং বর্তমানেও একই পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল তাঁকে নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রদান করেছিল।
রাজনৈতিক আভিজাত্যের পাশাপাশি রাবেয়া খাতুন একজন সফল শিক্ষাবিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তন শিক্ষার্থী নারী শিক্ষার প্রসারে ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন রাবেয়া আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ। প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করে তিনি এলাকার হাজারো নারীকে সুশিক্ষায় আলোকিত করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই সামাজিক ও শিক্ষামূলক ভাবমূর্তি সাধারণ মানুষের কাছে তাঁকে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। পিতা মরহুম অ্যাডভোকেট মৌলভী আকবর আলী ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং স্বামী মরহুম ডা. মোহাম্মদ আলী ছিলেন নেত্রকোণা-৫ আসনের একাধিকবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় সংসদ সদস্য। স্বামীর প্রয়াণের পর তাঁর জনসেবার আদর্শকে রাবেয়া খাতুন পরম মমতায় বয়ে চলেছেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পূর্বধলায় রাবেয়া খাতুনের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষক ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়লাভ করতে না পারায় এলাকায় রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুনকে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য মনোনীত করা হলে তিনি কেবল নারীদের কণ্ঠস্বরই হবেন না, বরং তৃণমূলের কর্মীদের হতাশা দূর করে দলকে পুনরায় সুসংগঠিত করতে পারবেন। এলাকার থমকে যাওয়া উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং সরকারি বরাদ্দের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ ও জনঘনিষ্ঠ অভিভাবকের উপস্থিতি এখন সময়ের দাবি।
তৃণমূলের কর্মীরা মনে করেন, বর্তমান সাংগঠনিক সংকট কাটিয়ে উঠতে হাইকমান্ড যদি রাবেয়া খাতুনের ওপর আস্থা রাখে, তবে পূর্বধলায় বিএনপির হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করা সহজতর হবে।
নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুন স্পষ্ট জানিয়েছেন, দল যদি তাঁকে যোগ্য মনে করে দায়িত্ব প্রদান করে, তবে তিনি তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও নারী নেতৃত্বের বিকাশে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার দলীয় হাইকমান্ডের ওপর থাকলেও, নেত্রকোণার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে এখন একই সুর—যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সমন্বয়ে রাবেয়া খাতুনই হতে পারেন সংরক্ষিত নারী আসনের সবচেয়ে যোগ্য প্রতিনিধি।