যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ফের তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। গত সপ্তাহের শেষের দিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার খবর দিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
এদিকে তেলের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ার পর বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ব্যারেলপ্রতি এর দাম দাঁড়ায় ১০৬ দশমিক ৯৯ ডলারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করেন। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদ ত্যাগ করায় দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়নি।
রোববার ওমানে সংক্ষিপ্ত সফরের পর এই রাশিয়া সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এমন এক সময়ে যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
এদিকে গত সপ্তাহে ট্রাম্প দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন, তবে চূড়ান্ত চুক্তির কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেননি।
আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমে গেছে। তেহরানের হুমকির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।
সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ওই প্রণালী দিয়ে মাত্র ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে। অথচ সাধারণ সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৯টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত।

ডিজিটাল ডেস্ক 






















