স্বেচ্ছাসেবকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী বর্তমানে বহরে থাকা একটি জাহাজে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং জাহাজে থাকা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামক এই ত্রাণবাহী বহরটি গাজার অবরুদ্ধ মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে যাচ্ছিল, যার ওপর এই আকস্মিক হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, ইতিমধ্যে অন্তত ১১টি জাহাজের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে, এখন পর্যন্ত বহরের অন্তত ৭টি নৌকাকে তারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছে।
এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ বিশ্ববাসীকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরায়েলের চলমান ‘গণহত্যা’ এবং এই ধরনের বেআইনি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের সরকারের উচিত ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং ত্রাণবহরটির সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের সামরিক অভিযানকে সমুদ্র আইন এবং মানবাধিকারের পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে গ্রিসের উপকূলীয় এলাকায় যেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর কোনো আইনি এখতিয়ার নেই, সেখানে ত্রাণবাহী জাহাজে চড়াও হওয়া একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে। গাজায় চলমান মানবিক সংকটের মধ্যে এই সাহায্য বহরটি বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এই অভিযানের ফলে গাজার অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানো আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল, যা ওই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৫-এর অক্টোবরে ফিলিস্তিনের গাজা অভিমুখে যাত্রা করা ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণের মুখে পড়ে। বহরের প্রায় সব নৌযানে থাকা অধিকারকর্মীদের আটক করে ইসরায়েল। তাদের মধ্যে সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও ছিলেন।

ডিজিটাল ডেস্ক 






















