ময়মনসিংহ , শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে পলি পদ্মা পাড়ে শতাধিক ড্রেজারে বালু উত্তোলন পদ্মা পাড়ে শতাধিক ড্রেজারে বালু উত্তোলন ​৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস: ৯ অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্কতা জারি রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর কেপ ভার্দের পতন, শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা! অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আর্জেন্টিনার গোল, এগিয়ে যাওয়ার উল্লাস! রক্তাক্ত জুলাইয়ের স্মরণে আজ বিশেষ স্মরণসভা, উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মেসির কণ্ঠে প্রশংসার জোয়ার, উপহার পেলেন জার্সি: স্বপ্নপূরণ ভোজিনিয়ার! পুলিশ অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত ৬ আসামি গ্রেপ্তার পূর্বধলায় জুমার নামাজের আগে ওসির সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

রংপুর এর গংগাচড়ায় রাস্তায় সুকাতে দেওয়া ধান এর খড় এর কারনে প্রাণ গেল একই পরিবার এর তিন প্রজন্মের

দুপুরে স্নান শেষে নতুন পোশাক পরে দাদা ও বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেলে উঠেছিল সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু বন্ধন চন্দ্র রায়। গন্তব্য ছিল তুলশীহাটের একটি বিয়ে বাড়ি। কিন্তু আনন্দের সেই যাত্রা কয়েক মিনিটের মধ্যেই রূপ নেয় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাবা। গুরুতর আহত দাদা কে ও বন্ধন কে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁদের বাঁচাতে পারেননি। দুপুর দুইটার দিকে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা বাজারের জুটমিল সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন—গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মানদ্রাইন এলাকার নির্মল চন্দ্র রায় (৭৫) ও তাঁর ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় (৩৫) এবং তার নাতি বন্ধন চন্দ্র রায় (০৫)। প্রশান্ত চন্দ্র রায় পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বড়াইবাড়ী থেকে গঙ্গাচড়া বাজারের দিকে একটি ট্রাক আসছিল। অন্যদিকে নির্মল চন্দ্র রায়, তাঁর ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় ও নাতি বন্ধন চন্দ্র রায় মোটরসাইকেলে করে গঙ্গাচড়া থেকে বড়াইবাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মন্থনা বাজারে জুট মিলের সামনে একটি ট্রাককে সাইড দেওয়ার জন্য মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে চাপার চেষ্টা করে। এ সময় সড়কে শুকাতে দেওয়া ধানের খড়ে মোটরসাইকেলটি পিছলে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে চলন্ত ট্রাকটি তাঁদের ওপর উঠে যায়।

ঘটনাস্থলেই মারা যান প্রশান্ত চন্দ্র রায়। গুরুতর আহত নির্মল চন্দ্র রায় ও তাঁর নাতি বন্ধনকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক নির্মল চন্দ্র রায়কে মৃত ঘোষণা করেন। শিশু বন্ধনকে হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক ছোট্ট শিশুটিকেও মৃ ত্যু ঘোষণা করে।
এভাবে একটি পরিবার, প্রজন্ম নিঃস্ব হয়ে গেল।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে পলি

রংপুর এর গংগাচড়ায় রাস্তায় সুকাতে দেওয়া ধান এর খড় এর কারনে প্রাণ গেল একই পরিবার এর তিন প্রজন্মের

আপডেট সময় ০৯:৫৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

দুপুরে স্নান শেষে নতুন পোশাক পরে দাদা ও বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেলে উঠেছিল সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু বন্ধন চন্দ্র রায়। গন্তব্য ছিল তুলশীহাটের একটি বিয়ে বাড়ি। কিন্তু আনন্দের সেই যাত্রা কয়েক মিনিটের মধ্যেই রূপ নেয় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাবা। গুরুতর আহত দাদা কে ও বন্ধন কে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁদের বাঁচাতে পারেননি। দুপুর দুইটার দিকে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা বাজারের জুটমিল সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন—গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মানদ্রাইন এলাকার নির্মল চন্দ্র রায় (৭৫) ও তাঁর ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় (৩৫) এবং তার নাতি বন্ধন চন্দ্র রায় (০৫)। প্রশান্ত চন্দ্র রায় পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বড়াইবাড়ী থেকে গঙ্গাচড়া বাজারের দিকে একটি ট্রাক আসছিল। অন্যদিকে নির্মল চন্দ্র রায়, তাঁর ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় ও নাতি বন্ধন চন্দ্র রায় মোটরসাইকেলে করে গঙ্গাচড়া থেকে বড়াইবাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মন্থনা বাজারে জুট মিলের সামনে একটি ট্রাককে সাইড দেওয়ার জন্য মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে চাপার চেষ্টা করে। এ সময় সড়কে শুকাতে দেওয়া ধানের খড়ে মোটরসাইকেলটি পিছলে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে চলন্ত ট্রাকটি তাঁদের ওপর উঠে যায়।

ঘটনাস্থলেই মারা যান প্রশান্ত চন্দ্র রায়। গুরুতর আহত নির্মল চন্দ্র রায় ও তাঁর নাতি বন্ধনকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক নির্মল চন্দ্র রায়কে মৃত ঘোষণা করেন। শিশু বন্ধনকে হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক ছোট্ট শিশুটিকেও মৃ ত্যু ঘোষণা করে।
এভাবে একটি পরিবার, প্রজন্ম নিঃস্ব হয়ে গেল।