ময়মনসিংহ , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জগন্নাথপুরে জাকজমকপূর্ণ নৌকা বাইচে জনস্রোত, সেমিফাইনাল শেষে স্থগিত ফাইনাল ঝালকাঠির বাসন্ডা বেইলি সেতু: ১০ বছর ধরে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’, জোড়াতালিতে চলছে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বাই সাইকেলে ঘুরে ক্রাচে ভর করে পত্রিকা বিলি করে পূর্বধলার কাশেম এইচএসসির স্থগিত পরীক্ষা: অংশ নিতে যা করতে হবে শিক্ষার্থীদের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির প্রথম কার্যদিবস আজ: শুরু হলো নতুন দায়িত্ব পালন অপেক্ষার অবসান? জেনে নিন কবে প্রকাশ হতে পারে এসএসসি ও সমমানের ফল বাংলাদেশিরা ভিসা ছাড়াই এশিয়ার যে ৬ দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন পূর্বধলায় কালী মন্দিরের দুই কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত; সম্প্রীতি ও উন্নয়নের বার্তা ময়মনসিংহে জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা ও উলামায়ে কিরামের করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ত্রিশালে মসজিদের টাইলসে প্রাণীর ছবি
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

বাই সাইকেলে ঘুরে ক্রাচে ভর করে পত্রিকা বিলি করে পূর্বধলার কাশেম

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার রাজপাড়া নিবাসী মোঃ আবুল কাশেম (৫৮) ৪১ বছর ধরে পত্রিকা বিলি করে আসছেন।অসুখের কাছে জীবন যুদ্ধে হার না এই আবুল কাশেম প্রতিদিনই আজকে গরম খবর আছে’ বলেই পাঠকের হাতে এগিয়ে দেন পত্রিকা।

আজ রবিবার ২৬ জুলাই দুপুর দুই ঘটিকার সময় আকরাম হোসেন রতন নামক এক গ্রাহকের কাছে তার দোকানে ক্রাচে ভর করে পত্রিকা দিতে আসেন আবুল কাশেম। অসুস্হ্য শরীর নিয়ে কেন পত্রিকা বিলি করতে আসছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কাশেম বলেন,মার্চের ১৬ তারিখ সি এন জি দিয়ে নেত্রকোনা থেকে পূর্বধলায় আসার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে শরীরে ও পায়ে আঘাত পায়। চার মাস বাসায় থেকে চিকিৎসা নেই।অনেক টাকা খরচ হয়।পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস আমার পত্রিকা বিক্রির উপর। অনেক দিন কর্মহীন থাকায় পরিবার চালাতে সমস্যা হচ্ছে তাই বাধ্য হয়ে ক্রাচ ভর করেই পত্রিকা বিক্রয় করতে হচ্ছে।

এভাবেই দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে পূর্বধলায় পত্রিকা বিলির কাজ করছেন তিনি।আবুল কাশেম বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে পত্রিকা বিলির কাজ শুরু করি। বেলা ১টার দিকে শেষ হয়। এরপর পত্রিকা বিক্রির টাকা তোলা শুরু করি। টাকা তুলতে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত সময় লাগে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার সাইকেল চালানো বা হাঁটাহাঁটি হয়।

দীর্ঘ সময় পত্রিকা বিলি করতে সমস্যা হয় কি না, তা জানতে চাইলে আবুল কাশেম বলেন,সমস্যা হয় তারপরও পেটের দায়ে কর্ম চালিয়ে যেতে হয়। যত দিন শরীর ভালো থাকবে,তত দিন এই কাজ চালিয়ে যাব।১৯৮৪ সাল থেকে আবুল কাশেমের এই ব্যবসার যাত্রা শুরু।ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। সকলেই লেখা পড়ায় অধ্যয়নরত।

আবুল কাশেম বলেন,বর্তমানে ছাপা পত্রিকার পাঠক কমে গেছে,মাল্টি মিডিয়া ও অনলাইনে নিউজ আসাতে। এখন প্রতিদিন ১৪০ থেকে ১৬০ কপি পত্রিকা বিক্রয় করি। কমিশনে পত্রিকা আনি,না বিক্রয় করতে পারলে অনেক লস হয়। বর্তমানে যে আয় হয় তা দিয়ে চলা অনেক কষ্ট হয়।

তিনি বলেন,এক সময় পত্রিকার জন্য মানুষ অপেক্ষায় থাকতো আর বর্তমানে জোর করে অনেক সময় পত্রিকা বিলি করতে হয়।মানুষ এখন আগের মতন পত্রিকা ক্রয় করতে আগ্রহী না। তাই এ পেশায় যারা জড়িত তাহারা কেউ বর্তমানে ভাল নেই।

আবুল কাশেম বলেন,রোদে পুরে,বৃষ্টিতে ভিজে আমরা গ্রাহকের কাছে সংবাদ পত্র পৌঁছে দেই,তাই আমরা যারা এ পেশায় নিয়োজিত আছি তাদের জীবন মান উন্নয়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুরোধ করবো এগিয়ে আসার জন্য।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথপুরে জাকজমকপূর্ণ নৌকা বাইচে জনস্রোত, সেমিফাইনাল শেষে স্থগিত ফাইনাল

বাই সাইকেলে ঘুরে ক্রাচে ভর করে পত্রিকা বিলি করে পূর্বধলার কাশেম

আপডেট সময় ০১:৪১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার রাজপাড়া নিবাসী মোঃ আবুল কাশেম (৫৮) ৪১ বছর ধরে পত্রিকা বিলি করে আসছেন।অসুখের কাছে জীবন যুদ্ধে হার না এই আবুল কাশেম প্রতিদিনই আজকে গরম খবর আছে’ বলেই পাঠকের হাতে এগিয়ে দেন পত্রিকা।

আজ রবিবার ২৬ জুলাই দুপুর দুই ঘটিকার সময় আকরাম হোসেন রতন নামক এক গ্রাহকের কাছে তার দোকানে ক্রাচে ভর করে পত্রিকা দিতে আসেন আবুল কাশেম। অসুস্হ্য শরীর নিয়ে কেন পত্রিকা বিলি করতে আসছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কাশেম বলেন,মার্চের ১৬ তারিখ সি এন জি দিয়ে নেত্রকোনা থেকে পূর্বধলায় আসার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে শরীরে ও পায়ে আঘাত পায়। চার মাস বাসায় থেকে চিকিৎসা নেই।অনেক টাকা খরচ হয়।পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস আমার পত্রিকা বিক্রির উপর। অনেক দিন কর্মহীন থাকায় পরিবার চালাতে সমস্যা হচ্ছে তাই বাধ্য হয়ে ক্রাচ ভর করেই পত্রিকা বিক্রয় করতে হচ্ছে।

এভাবেই দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে পূর্বধলায় পত্রিকা বিলির কাজ করছেন তিনি।আবুল কাশেম বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে পত্রিকা বিলির কাজ শুরু করি। বেলা ১টার দিকে শেষ হয়। এরপর পত্রিকা বিক্রির টাকা তোলা শুরু করি। টাকা তুলতে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত সময় লাগে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার সাইকেল চালানো বা হাঁটাহাঁটি হয়।

দীর্ঘ সময় পত্রিকা বিলি করতে সমস্যা হয় কি না, তা জানতে চাইলে আবুল কাশেম বলেন,সমস্যা হয় তারপরও পেটের দায়ে কর্ম চালিয়ে যেতে হয়। যত দিন শরীর ভালো থাকবে,তত দিন এই কাজ চালিয়ে যাব।১৯৮৪ সাল থেকে আবুল কাশেমের এই ব্যবসার যাত্রা শুরু।ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। সকলেই লেখা পড়ায় অধ্যয়নরত।

আবুল কাশেম বলেন,বর্তমানে ছাপা পত্রিকার পাঠক কমে গেছে,মাল্টি মিডিয়া ও অনলাইনে নিউজ আসাতে। এখন প্রতিদিন ১৪০ থেকে ১৬০ কপি পত্রিকা বিক্রয় করি। কমিশনে পত্রিকা আনি,না বিক্রয় করতে পারলে অনেক লস হয়। বর্তমানে যে আয় হয় তা দিয়ে চলা অনেক কষ্ট হয়।

তিনি বলেন,এক সময় পত্রিকার জন্য মানুষ অপেক্ষায় থাকতো আর বর্তমানে জোর করে অনেক সময় পত্রিকা বিলি করতে হয়।মানুষ এখন আগের মতন পত্রিকা ক্রয় করতে আগ্রহী না। তাই এ পেশায় যারা জড়িত তাহারা কেউ বর্তমানে ভাল নেই।

আবুল কাশেম বলেন,রোদে পুরে,বৃষ্টিতে ভিজে আমরা গ্রাহকের কাছে সংবাদ পত্র পৌঁছে দেই,তাই আমরা যারা এ পেশায় নিয়োজিত আছি তাদের জীবন মান উন্নয়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুরোধ করবো এগিয়ে আসার জন্য।