ময়মনসিংহ , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হজের ব্যয় আরও ৪০ হাজার টাকা কমবে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে কোনো শিশুই আর পিছিয়ে থাকবে না জানিয়েছেন ববি হাজ্জাজ প্রশাসনিক রদবদল: ডিএমপির তিন থানার দায়িত্বে নতুন ওসি, বদলি হয়েছেন ৬ পুলিশ পরিদর্শক ভোল পাল্টে এখন সবাই জুলাইযোদ্ধা বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৮০০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি রবিউল ও তার সহযোগী গ্রেপ্তার ছেলে কনের বাড়িতে, প্রেমিকার হানায় বিয়ে পণ্ড: রাতে বাবার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার বাগেরহাটে সরকারি খাল দখলমুক্ত করার দাবিতে তিন দিনের অবস্থান কর্মসূচি সংকটে সিরাজগঞ্জের রান্ধুনীবাড়ির ঐতিহ্যবাহী কাদা-মাটির শিল্প নেত্রকোণাবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: ১৫ বছর পর চালু হচ্ছে পূর্বধলা পৌরসভা মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত: তিন প্রতিভাবান প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

সরকারি দপ্তরে এআই প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার: বাড়ছে গোপনীয় ও সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩৯:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

দাপ্তরিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে, অসতর্কভাবে এআই টুল ব্যবহার করলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তথ্য অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ অবস্থায় দাপ্তরিক তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রচলিত আইন-বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারি দপ্তরগুলোতে এআই টুলসের ব্যবহার বাড়ায় কাজের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে অসতর্কতার কারণে সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশ বা তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে, দাপ্তরিক কার্যক্রমে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন, বিধি-বিধান ও সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা বলেন, সংবেদনশীল তথ্য উন্মুক্ত এআই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করলে তা তৃতীয় পক্ষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার বাস্তব ঝুঁকি থাকে। তাই সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের তথ্য ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

তার মতে, শ্রেণিবদ্ধ বা গোপন সরকারি তথ্য কখনোই উন্মুক্ত এআই প্ল্যাটফর্মে দেওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত এআই সেবা ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব এআই ব্যবহার নীতিমালা এবং তথ্য শ্রেণিবিন্যাসের নির্দেশিকা থাকা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা, চলমান তদন্ত, আদালতের নথি, ব্যক্তিগত তথ্য ও কৌশলগত বিষয় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে এআই থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়; মানবীয় যাচাইকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।

এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এআই নিরাপত্তা, তথ্যের গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তানভীর হাসান জোহা বলেন, এআই প্রযুক্তি নিজেই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। মূল সমস্যা তৈরি হয় যথাযথ নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ব্যবহারের কারণে। তাই এআই নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হজের ব্যয় আরও ৪০ হাজার টাকা কমবে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী

সরকারি দপ্তরে এআই প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার: বাড়ছে গোপনীয় ও সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি

আপডেট সময় ১০:৩৯:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

দাপ্তরিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে, অসতর্কভাবে এআই টুল ব্যবহার করলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তথ্য অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ অবস্থায় দাপ্তরিক তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রচলিত আইন-বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারি দপ্তরগুলোতে এআই টুলসের ব্যবহার বাড়ায় কাজের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে অসতর্কতার কারণে সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশ বা তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে, দাপ্তরিক কার্যক্রমে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন, বিধি-বিধান ও সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা বলেন, সংবেদনশীল তথ্য উন্মুক্ত এআই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করলে তা তৃতীয় পক্ষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার বাস্তব ঝুঁকি থাকে। তাই সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের তথ্য ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

তার মতে, শ্রেণিবদ্ধ বা গোপন সরকারি তথ্য কখনোই উন্মুক্ত এআই প্ল্যাটফর্মে দেওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত এআই সেবা ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব এআই ব্যবহার নীতিমালা এবং তথ্য শ্রেণিবিন্যাসের নির্দেশিকা থাকা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা, চলমান তদন্ত, আদালতের নথি, ব্যক্তিগত তথ্য ও কৌশলগত বিষয় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে এআই থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়; মানবীয় যাচাইকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।

এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এআই নিরাপত্তা, তথ্যের গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তানভীর হাসান জোহা বলেন, এআই প্রযুক্তি নিজেই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। মূল সমস্যা তৈরি হয় যথাযথ নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ব্যবহারের কারণে। তাই এআই নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত।