দাপ্তরিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে, অসতর্কভাবে এআই টুল ব্যবহার করলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তথ্য অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ অবস্থায় দাপ্তরিক তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রচলিত আইন-বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এ প্রেক্ষাপটে, দাপ্তরিক কার্যক্রমে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন, বিধি-বিধান ও সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা বলেন, সংবেদনশীল তথ্য উন্মুক্ত এআই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করলে তা তৃতীয় পক্ষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার বাস্তব ঝুঁকি থাকে। তাই সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের তথ্য ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
তার মতে, শ্রেণিবদ্ধ বা গোপন সরকারি তথ্য কখনোই উন্মুক্ত এআই প্ল্যাটফর্মে দেওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত এআই সেবা ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব এআই ব্যবহার নীতিমালা এবং তথ্য শ্রেণিবিন্যাসের নির্দেশিকা থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা, চলমান তদন্ত, আদালতের নথি, ব্যক্তিগত তথ্য ও কৌশলগত বিষয় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে এআই থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়; মানবীয় যাচাইকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এআই নিরাপত্তা, তথ্যের গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তানভীর হাসান জোহা বলেন, এআই প্রযুক্তি নিজেই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। মূল সমস্যা তৈরি হয় যথাযথ নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ব্যবহারের কারণে। তাই এআই নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত।

ডিজিটাল ডেস্ক 





















