খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার রায়পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২টি বিদেশি পিস্তল, ৭ রাউন্ড তাজা গুলি, ম্যাগাজিন এবং নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ টাকাসহ ‘বি কোম্পানি’ নামে পরিচিত একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬।
গত রোববার (২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে র্যাব-৬-এর সিপিসি স্পেশাল কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বালিয়াপাড়া এলাকার ফজলুল হক সরদারের ছেলে মো. ইলিয়াস সরদার (৪২), গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বকুলতলা এলাকার তৌহিদের ছেলে মো. সুজন (৩৮) এবং বরগুনার বেতাগী উপজেলার আমুয়া বেপারি পাড়া এলাকার মৃত আমজাদ বেপারির ছেলে মো. নান্না বেপারি (৫৭)।
র্যাব-৬ সূত্র জানায়, অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দা নান্না বেপারির বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় আটক ইলিয়াস সরদার ও সুজনের হেফাজত থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ৭ রাউন্ড তাজা গুলি এবং নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে উদ্ধার করা অস্ত্র, গুলি ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তিরা খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানি’র সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড (পিসি-পিআর) পর্যালোচনার বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরী ছাড়াও পিরোজপুর ও বরগুনার বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টা, মাদক ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
র্যাব-৬ জানায়, সারাদেশের ন্যায় খুলনাতেও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, পরোয়ানাভুক্ত এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার করা আলামতসহ আসামিদের খুলনা মহানগর পুলিশের লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে র্যাব।

স্টাফ রিপোর্টার 



















