চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চুনতীতে আগামী ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ১৯ দিনব্যাপী ৫৬তম আন্তর্জাতিক মাহফিলে সীরাতুন্নবী (সা.)। এই ঐতিহাসিক মাহফিল আগামী ১২ সেপ্টেম্বর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে।
মাহফিল আয়োজন উপলক্ষে গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৩টায় চুনতী সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের স্থায়ী কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মাহফিল মোতায়াল্লী কমিটির এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মাহফিল মোতায়াল্লী কমিটির সভাপতি শাহজাদা মাওলানা হাফিজুল ইসলাম মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন শাহজাদা মাওলানা আব্দুল মালেক ইবনে দিনার নাজাত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শাহজাদা তৈয়বুল হক বেদার।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আলহাজ্ব ইসমাইল মানিক, অধ্যক্ষ ফারুক হোসাইন, আলহাজ্ব ওলিউদ্দিন, কফিলউদ্দিন লিটু ও অ্যাডভোকেট মিনহাজুল আবরার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কামরুল হুদা, সৈয়দ উদ্দিন ছিদ্দিকী, আবু সাদেক খান, এবাদুর রহমান, সাদুর রহমান ও শাহ মঞ্জিলের প্রেস সচিব সোহেল তাজসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
সভায় বক্তারা বলেন, অলীকুল শিরোমণি, আশেকে রাসুল (সা.) ও মুজাদ্দিদে মাহফিলে সীরাতুন্নবী (সা.) হযরত আলহাজ্ব শাহ মাওলানা হাফেজ আহমদ (রহ.) মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ ও শিক্ষা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এ মাহফিলের প্রবর্তন করেন। দীর্ঘ ৫৬ বছরের পথপরিক্রমায় চুনতীর এই মাহফিল দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত ও বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে।
৬ কোটি টাকার সম্ভাব্য বাজেট
মাহফিল মোতায়াল্লী কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের ১৯ দিনব্যাপী মাহফিল আয়োজনের সম্ভাব্য বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা। প্রতিবছরের মতো এবারও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের স্বতঃস্ফূর্ত দান ও সহযোগিতায় এ ব্যয়ের সংস্থান করা হবে।
মাহফিল সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। মোতায়াল্লী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপ-কমিটিগুলোর সমন্বায়ক শাহজাদা মাওলানা আব্দুল মালেক ইবনে দিনার নাজাত জানান, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে সহস্রাধিক প্রস্তুতি সভা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাহফিলের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিনি মাহফিলের বার্তা ও তাৎপর্য দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে গণমাধ্যমকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
মাহফিলে আগত দেশ-বিদেশের অতিথি, আলেম-ওলামা ও লাখো মুসল্লির নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নিজস্ব সুসংগঠিত স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুরো ময়দানজুড়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে।
অবশেষে বাইতুল্লাহ মসজিদের খতিব মাওলানা জাফর সাদেক ইকবালের মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মতবিনিময় সভার সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ৫৬তম এ মাহফিল শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে।

স্টাফ রিপোর্টার 


















