ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই দেশে আর নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা সহায়তা দেবে সরকার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন ‘তুমি কে, আমি কে, ফার্মের মুরগি’—স্লোগানে উত্তাল সায়েন্সল্যাব এলাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নতুন দায়িত্বে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত হচ্ছে শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বন্দ্বে স্থবির রাজশাহী, বন্ধ অভ্যন্তরীণ সব রুটের বাস সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় মৌলিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি থাকলে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ঠাকুরগাঁওয়ে সাবেক দুই এমপিসহ ৮ নেতার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল

ঠাকুরগাঁও জেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৮ নেতার নামে ইস্যুকৃত মোট ৮টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২২ জুন) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকের স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে বলা হয়, The Arms Act, 1878-এর ১৮(এ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটির গত ১১ জুন অনুষ্ঠিত সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ১৯(চ) ধারা অনুযায়ী জননিরাপত্তার স্বার্থে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে লাইসেন্সের আওতাধীন অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লাইসেন্স বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও -১ আসনের সংসদ সদস্য প্রয়াত রমেশ চন্দ্র সেন, যার লাইসেন্স নম্বর ১৫০ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর, রিভলবার- ৪০১৫৪। ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত দবিরুল ইসলাম, যার লাইসেন্স নম্বর ২৫৫ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর একনলা বন্দুক-২৫২০। তার বড় ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য কারাবন্দী মাজহারুল ইসলাম সুজন, যার লাইসেন্স নম্বর ১৫৯ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর এনপিবি পিস্তল- ৬৩৬৮-১৫। দবিরুল ইসলামের ছোট ভাই ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলামের ২টি অস্ত্র , যার লাইসেন্স নম্বর ২৫১ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর একনলা ৮৪৩৯৭-জি এবং ১৫৮, এনপিবি পিস্তল ০৬৩১৫৬। দবিরুল ইসলামের ভাতিজা যুবদল নেতা ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল যার লাইসেন্স নম্বর ১৬৫ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর এনপিবি পিস্তল বি-০৭৭২৮৩।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অরুনাংশু দত্ত টিটো, যার লাইসেন্স নম্বর ১৬২ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর এনপিবি, টিও৬২০-১৮, টিএফ ০০১৫২ এবং কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা ও হরিপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ.কে.এম শামীম ফেরদৌস টগর, যার লাইসেন্স নম্বর ১৫৪ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর ১২ শটগান ৩১৪০৯৬।

জেলা প্রশাসনের আদেশে প্রত্যেক লাইসেন্সধারীর অস্ত্রের লাইসেন্স নম্বর, অস্ত্রের ধরন ও সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ করে জানানো হয়েছে। লাইসেন্স বাতিলের ফলে সংশ্লিষ্ট আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত থাকবে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা, যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশ এবং প্রচলিত আইন ও নীতিমালার আলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবস্থাপনায় সরকারের নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, লাইসেন্স বাতিল হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত থাকবে। এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আইন ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই দেশে আর নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

ঠাকুরগাঁওয়ে সাবেক দুই এমপিসহ ৮ নেতার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল

আপডেট সময় ১০:০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

ঠাকুরগাঁও জেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৮ নেতার নামে ইস্যুকৃত মোট ৮টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২২ জুন) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকের স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে বলা হয়, The Arms Act, 1878-এর ১৮(এ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটির গত ১১ জুন অনুষ্ঠিত সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ১৯(চ) ধারা অনুযায়ী জননিরাপত্তার স্বার্থে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে লাইসেন্সের আওতাধীন অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লাইসেন্স বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও -১ আসনের সংসদ সদস্য প্রয়াত রমেশ চন্দ্র সেন, যার লাইসেন্স নম্বর ১৫০ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর, রিভলবার- ৪০১৫৪। ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত দবিরুল ইসলাম, যার লাইসেন্স নম্বর ২৫৫ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর একনলা বন্দুক-২৫২০। তার বড় ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য কারাবন্দী মাজহারুল ইসলাম সুজন, যার লাইসেন্স নম্বর ১৫৯ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর এনপিবি পিস্তল- ৬৩৬৮-১৫। দবিরুল ইসলামের ছোট ভাই ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলামের ২টি অস্ত্র , যার লাইসেন্স নম্বর ২৫১ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর একনলা ৮৪৩৯৭-জি এবং ১৫৮, এনপিবি পিস্তল ০৬৩১৫৬। দবিরুল ইসলামের ভাতিজা যুবদল নেতা ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল যার লাইসেন্স নম্বর ১৬৫ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর এনপিবি পিস্তল বি-০৭৭২৮৩।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অরুনাংশু দত্ত টিটো, যার লাইসেন্স নম্বর ১৬২ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর এনপিবি, টিও৬২০-১৮, টিএফ ০০১৫২ এবং কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা ও হরিপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ.কে.এম শামীম ফেরদৌস টগর, যার লাইসেন্স নম্বর ১৫৪ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর ১২ শটগান ৩১৪০৯৬।

জেলা প্রশাসনের আদেশে প্রত্যেক লাইসেন্সধারীর অস্ত্রের লাইসেন্স নম্বর, অস্ত্রের ধরন ও সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ করে জানানো হয়েছে। লাইসেন্স বাতিলের ফলে সংশ্লিষ্ট আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত থাকবে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা, যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশ এবং প্রচলিত আইন ও নীতিমালার আলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবস্থাপনায় সরকারের নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, লাইসেন্স বাতিল হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত থাকবে। এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আইন ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে।