ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই দেশে আর নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা সহায়তা দেবে সরকার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন ‘তুমি কে, আমি কে, ফার্মের মুরগি’—স্লোগানে উত্তাল সায়েন্সল্যাব এলাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নতুন দায়িত্বে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত হচ্ছে শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বন্দ্বে স্থবির রাজশাহী, বন্ধ অভ্যন্তরীণ সব রুটের বাস সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় মৌলিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি থাকলে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

​মেসির চোখের জল: গোল উদযাপনের আড়ালে লুকিয়ে কোন আবেগ?

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ম্যাজিক দেখালেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে জাদুকরের মতো খেলে হ্যাটট্রিক করেছেন, ভেঙেছেন একাধিক বিশ্বরেকর্ড। কিন্তু ম্যাচ শেষে মাঠের সেই চেনা হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্য মেসিকে দেখলো ফুটবল বিশ্ব। 

প্রথম গোলটি করার পর কেন তার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়েছিল, ম্যাচ শেষে তার এক আবেগঘন ব্যাখ্যা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

তিনি জানিয়েছেন, ফুটবল মাঠের বাইরে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত জীবনে এক অত্যন্ত কঠিন ও জটিল সময় পার করছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটি সম্পূর্ণ খেলাধুলার বাইরের একটি বিষয়। আমি গত কয়েকটা দিন খুব কঠিন এবং জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি। তবে আমি আমাদের পুরো দলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমার সতীর্থরা সবসময় আমার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আমাকে অনেক শক্তি দিয়েছে যাতে আমি মাঠে ঠিক থাকতে পারি।’

তিনি এই কঠিন পরিস্থিতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও এটা স্পষ্ট যে, এক বিশাল মানসিক চাপ ও আবেগঘন বোঝা মাথায় নিয়ে তিনি বিশ্বকাপের এই বিশেষ মিশনটি শুরু করেছেন।

দেশের হয়ে ২০০তম ম্যাচ খেলার রাতে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড স্পর্শ করার পর মেসি তার বর্তমান ফুটবল জীবন নিয়ে বলেন, ‘আমি এখন যা উপভোগ করছি তার সবই আমার জন্য বাড়তি পাওনা। দলগত বা ব্যক্তিগতভাবে আমি আমার ছোটবেলার স্বপ্নের চেয়েও অনেক বেশি কিছু অর্জন করার ভাগ্য নিয়ে এসেছি। আজ আমি একটি চমৎকার দল উপভোগ করছি, মাঠে ভালো বোধ করছি। ছোটবেলা থেকেই যেভাবে ফুটবল ভালোবাসতাম, আজীবন ঠিক সেভাবেই খেলে যেতে চাই।’

ম্যাচের প্রথমার্ধের কঠিন লড়াই নিয়ে মেসি বলেন, ‘আমরা জানতাম তারা খুব গতিশীল ও শারীরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকা একটি দল। যদি আমরা তাদের পায়ে বল বেশি সময় রাখতাম, তবে তারা আমাদের বিপদে ফেলতে পারত। প্রথমার্ধে আমাদের বল পজিশন রাখতে কিছুটা কষ্ট হয়েছিল, তবে রক্ষণভাগে আমরা দারুণভাবে নিজেদের ধরে রেখেছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের খেলা পুরোপুরি বদলে যায়। কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের অভিজ্ঞতা আমাদের মাথায় ছিল। এই বিশ্বকাপে কোনো দলই কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দেবে না, প্রতিটি ম্যাচই খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।’

ফুটবলের প্রতি নিজের চিরন্তন ক্ষুধা নিয়ে কথা বলার সময় মেসি টেনিস কিংবদন্তি রাফা নাদালের উদাহরণ টানেন।

মেসি বলেন, ‘আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, ছোটবেলা থেকেই এটা আমার একমাত্র প্যাশন। আমি যখন মাঠে থাকি, নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা সম্প্রতি রাফা নাদালের একটি সিরিজ দেখছিলাম এবং আমি তার সাথে নিজের অনেক মিল খুঁজে পেয়েছি। আমরা দুজনেই এই দিক থেকে এক রকম যে, মাঠে নামলে সবসময় নিজের সেরাটা দিতে চাই এবং খেলাটাকে এভাবেই উপভোগ করি। যতদিন শরীর সায় দেবে, আমি এভাবেই দলকে সাহায্য করে যাব।’

মাঠের বাইরের ব্যক্তিগত জীবনের শত ঝড় সামলেও মেসি প্রমাণ করলেন, কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়। কোচের ভালোবাসা এবং দলের সমর্থনে এই মানসিক চাপ জয় করেই তিনি আর্জেন্টিনাকে এনে দিলেন টুর্নামেন্টের প্রথম দুর্দান্ত জয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই দেশে আর নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

​মেসির চোখের জল: গোল উদযাপনের আড়ালে লুকিয়ে কোন আবেগ?

আপডেট সময় ১২:২৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ম্যাজিক দেখালেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে জাদুকরের মতো খেলে হ্যাটট্রিক করেছেন, ভেঙেছেন একাধিক বিশ্বরেকর্ড। কিন্তু ম্যাচ শেষে মাঠের সেই চেনা হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্য মেসিকে দেখলো ফুটবল বিশ্ব। 

প্রথম গোলটি করার পর কেন তার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়েছিল, ম্যাচ শেষে তার এক আবেগঘন ব্যাখ্যা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

তিনি জানিয়েছেন, ফুটবল মাঠের বাইরে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত জীবনে এক অত্যন্ত কঠিন ও জটিল সময় পার করছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটি সম্পূর্ণ খেলাধুলার বাইরের একটি বিষয়। আমি গত কয়েকটা দিন খুব কঠিন এবং জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি। তবে আমি আমাদের পুরো দলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমার সতীর্থরা সবসময় আমার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আমাকে অনেক শক্তি দিয়েছে যাতে আমি মাঠে ঠিক থাকতে পারি।’

তিনি এই কঠিন পরিস্থিতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও এটা স্পষ্ট যে, এক বিশাল মানসিক চাপ ও আবেগঘন বোঝা মাথায় নিয়ে তিনি বিশ্বকাপের এই বিশেষ মিশনটি শুরু করেছেন।

দেশের হয়ে ২০০তম ম্যাচ খেলার রাতে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড স্পর্শ করার পর মেসি তার বর্তমান ফুটবল জীবন নিয়ে বলেন, ‘আমি এখন যা উপভোগ করছি তার সবই আমার জন্য বাড়তি পাওনা। দলগত বা ব্যক্তিগতভাবে আমি আমার ছোটবেলার স্বপ্নের চেয়েও অনেক বেশি কিছু অর্জন করার ভাগ্য নিয়ে এসেছি। আজ আমি একটি চমৎকার দল উপভোগ করছি, মাঠে ভালো বোধ করছি। ছোটবেলা থেকেই যেভাবে ফুটবল ভালোবাসতাম, আজীবন ঠিক সেভাবেই খেলে যেতে চাই।’

ম্যাচের প্রথমার্ধের কঠিন লড়াই নিয়ে মেসি বলেন, ‘আমরা জানতাম তারা খুব গতিশীল ও শারীরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকা একটি দল। যদি আমরা তাদের পায়ে বল বেশি সময় রাখতাম, তবে তারা আমাদের বিপদে ফেলতে পারত। প্রথমার্ধে আমাদের বল পজিশন রাখতে কিছুটা কষ্ট হয়েছিল, তবে রক্ষণভাগে আমরা দারুণভাবে নিজেদের ধরে রেখেছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের খেলা পুরোপুরি বদলে যায়। কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের অভিজ্ঞতা আমাদের মাথায় ছিল। এই বিশ্বকাপে কোনো দলই কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দেবে না, প্রতিটি ম্যাচই খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।’

ফুটবলের প্রতি নিজের চিরন্তন ক্ষুধা নিয়ে কথা বলার সময় মেসি টেনিস কিংবদন্তি রাফা নাদালের উদাহরণ টানেন।

মেসি বলেন, ‘আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, ছোটবেলা থেকেই এটা আমার একমাত্র প্যাশন। আমি যখন মাঠে থাকি, নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা সম্প্রতি রাফা নাদালের একটি সিরিজ দেখছিলাম এবং আমি তার সাথে নিজের অনেক মিল খুঁজে পেয়েছি। আমরা দুজনেই এই দিক থেকে এক রকম যে, মাঠে নামলে সবসময় নিজের সেরাটা দিতে চাই এবং খেলাটাকে এভাবেই উপভোগ করি। যতদিন শরীর সায় দেবে, আমি এভাবেই দলকে সাহায্য করে যাব।’

মাঠের বাইরের ব্যক্তিগত জীবনের শত ঝড় সামলেও মেসি প্রমাণ করলেন, কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়। কোচের ভালোবাসা এবং দলের সমর্থনে এই মানসিক চাপ জয় করেই তিনি আর্জেন্টিনাকে এনে দিলেন টুর্নামেন্টের প্রথম দুর্দান্ত জয়।