ময়মনসিংহ , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের পাশাপাশি অন্য বাহিনীগুলোকেও জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হবে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরের ৪ খুনে অল্প সময়ে অপরাধী গ্রেপ্তার না হলে সুনাম ক্ষুণ্ন হতো বলে মন্তব্য করেছেন রিজভী সরকার ভুল করলে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিন জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী নওগাঁর পোরশায় প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথর সদৃশ মূর্তি উদ্ধার পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলায় গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রমের শুভ সূচনা দুর্গাপুরে ১৯ লাখ টাকার ফেন্সিডিলসহ আটক ১ পাবনায় যথাযথ মর্যাদায় ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) পালিত ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাজারো মানুষের ঢল রংপুরের হত্যাকাণ্ডের আসামিরা দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরসিংদীতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, মাদক-অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২৩৭
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

সংকটে সিরাজগঞ্জের রান্ধুনীবাড়ির ঐতিহ্যবাহী কাদা-মাটির শিল্প

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১১:৫৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জের রান্ধুনীবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বংশপরম্পরায় তৈরি হয়ে আসছে নানা ধরনের মাটির জিনিসপত্র। হাঁড়ি, পাতিল, কলসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও শৌখিন মাটির সামগ্রী তৈরি করেই একসময় গ্রামের বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ টিকে থাকার কঠিন লড়াইয়ে পড়েছে।

একসময় রান্ধুনীবাড়িতে তৈরি মাটির পণ্যের কদর ছিল জেলাজুড়ে। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই ছিল ব্যাপক চাহিদা। কিন্তু প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের সস্তা পণ্যের দাপটে ধীরে ধীরে কমে গেছে মাটির জিনিসের ব্যবহার। আধুনিক তৈজসপত্রের সহজলভ্যতায় প্রাচীন এই পেশা এখন বিলুপ্তির পথে।

স্থানীয় কারিগররা জানান, আগে নানা ধরনের হাঁড়ি-পাতিল ও কলস তৈরি হলেও বর্তমানে সেগুলোর বাজার নেই বললেই চলে। বাধ্য হয়ে এখন তারা মূলত দইয়ের পাত্র তৈরি করছেন। প্রতিদিন দু’জন শ্রমিক মিলে প্রায় ২৫০টি পাত্র তৈরি করা যায়, যা প্রতি পিস ১১ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি হয়। এতে সামান্য লাভ থাকলেও তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

কারিগরদের তৈরি এসব পাত্র শুধু সিরাজগঞ্জেই নয়, *পাবনা*সহ বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করা হয়। তবুও আগের মতো আয় না হওয়ায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
প্রবীণ মৃৎশিল্পী ভানু পাল বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা এই কাজ করেই সংসার চালিয়েছেন। এখন মানুষ মাটির হাঁড়ির বদলে প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহার করছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছর পর হয়তো এই এলাকায় মাটির শিল্পের কোনো চিহ্নই থাকবে না।”

আরেক কারিগর মিনা পাল জানান, অল্প আয়ে সংসার চালানো কঠিন হলেও বাপ-দাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখতেই তারা এখনো মাটির চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি। তা না হলে একসময় রান্ধুনীবাড়ির মাটির চাকার শব্দ হয়তো শুধুই স্মৃতি হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের পাশাপাশি অন্য বাহিনীগুলোকেও জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হবে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংকটে সিরাজগঞ্জের রান্ধুনীবাড়ির ঐতিহ্যবাহী কাদা-মাটির শিল্প

আপডেট সময় ১১:৫৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

সিরাজগঞ্জের রান্ধুনীবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বংশপরম্পরায় তৈরি হয়ে আসছে নানা ধরনের মাটির জিনিসপত্র। হাঁড়ি, পাতিল, কলসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও শৌখিন মাটির সামগ্রী তৈরি করেই একসময় গ্রামের বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ টিকে থাকার কঠিন লড়াইয়ে পড়েছে।

একসময় রান্ধুনীবাড়িতে তৈরি মাটির পণ্যের কদর ছিল জেলাজুড়ে। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই ছিল ব্যাপক চাহিদা। কিন্তু প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের সস্তা পণ্যের দাপটে ধীরে ধীরে কমে গেছে মাটির জিনিসের ব্যবহার। আধুনিক তৈজসপত্রের সহজলভ্যতায় প্রাচীন এই পেশা এখন বিলুপ্তির পথে।

স্থানীয় কারিগররা জানান, আগে নানা ধরনের হাঁড়ি-পাতিল ও কলস তৈরি হলেও বর্তমানে সেগুলোর বাজার নেই বললেই চলে। বাধ্য হয়ে এখন তারা মূলত দইয়ের পাত্র তৈরি করছেন। প্রতিদিন দু’জন শ্রমিক মিলে প্রায় ২৫০টি পাত্র তৈরি করা যায়, যা প্রতি পিস ১১ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি হয়। এতে সামান্য লাভ থাকলেও তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

কারিগরদের তৈরি এসব পাত্র শুধু সিরাজগঞ্জেই নয়, *পাবনা*সহ বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করা হয়। তবুও আগের মতো আয় না হওয়ায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
প্রবীণ মৃৎশিল্পী ভানু পাল বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা এই কাজ করেই সংসার চালিয়েছেন। এখন মানুষ মাটির হাঁড়ির বদলে প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহার করছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছর পর হয়তো এই এলাকায় মাটির শিল্পের কোনো চিহ্নই থাকবে না।”

আরেক কারিগর মিনা পাল জানান, অল্প আয়ে সংসার চালানো কঠিন হলেও বাপ-দাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখতেই তারা এখনো মাটির চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি। তা না হলে একসময় রান্ধুনীবাড়ির মাটির চাকার শব্দ হয়তো শুধুই স্মৃতি হয়ে থাকবে।