ময়মনসিংহ , সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সিডনির হান্ড্রেড লিগের ট্রফি জিতলো কুমিল্লা স্টার ​বিশ্ববাজারে আবারও কমল জ্বালানি তেলের দাম ১২ অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে ঝড়, নদীবন্দরে ২ নম্বর সংকেত জারি যুক্তরাষ্ট্রে সুপার টাইফুন ‘বাভি’-র তাণ্ডব: বাতাসের গতিবেগ ২৯০ কিমি ​গেজেট প্রকাশে দেরি হলেও জুলাই থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন পে-স্কেল পাবনায় সাংবাদিকদের জন্য দু’দিনের চক্ষু শিবির উদ্বোধন প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেইমার অধ্যায়ের সমাপ্তি: এক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন: দেহাবশেষ উত্তোলনে নিয়োগ পেলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউএন-কপস’ সম্মেলনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্রের দায়িত্ব পেলেন আবু হানিফ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

​গেজেট প্রকাশে দেরি হলেও জুলাই থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন পে-স্কেল

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও, এটি ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে গেজেট প্রকাশের পর চাকরিজীবীরা বর্ধিত বেতন-ভাতার পাশাপাশি বকেয়া অর্থও একসঙ্গে পাবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যারসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয়গুলো সমন্বয় করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে গেজেট জারি হতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা ও ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

কর্মকর্তাদের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যার। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় অধিকাংশ কাজ হাতে করা হলেও এখন বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ প্রায় সব আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ফলে ধাপে ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করতে গেলে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হবে।

বিশেষ করে অবসরের কাছাকাছি থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বেশি। কারণ পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়নের মতো সুবিধাগুলো সর্বশেষ মূল বেতনের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থায় একাধিক ধাপে এসব সুবিধা সমন্বয় করা কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ পরিস্থিতিতে আব্দুল মালেকের প্রস্তাব, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা উচিত। এরপর বাড়িভাড়া, চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভাতা পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করা হলে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হলেও এর ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকারকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিডনির হান্ড্রেড লিগের ট্রফি জিতলো কুমিল্লা স্টার

​গেজেট প্রকাশে দেরি হলেও জুলাই থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন পে-স্কেল

আপডেট সময় ১০:৪৬:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও, এটি ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে গেজেট প্রকাশের পর চাকরিজীবীরা বর্ধিত বেতন-ভাতার পাশাপাশি বকেয়া অর্থও একসঙ্গে পাবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যারসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয়গুলো সমন্বয় করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে গেজেট জারি হতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা ও ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

কর্মকর্তাদের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যার। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় অধিকাংশ কাজ হাতে করা হলেও এখন বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ প্রায় সব আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ফলে ধাপে ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করতে গেলে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হবে।

বিশেষ করে অবসরের কাছাকাছি থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বেশি। কারণ পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়নের মতো সুবিধাগুলো সর্বশেষ মূল বেতনের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থায় একাধিক ধাপে এসব সুবিধা সমন্বয় করা কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ পরিস্থিতিতে আব্দুল মালেকের প্রস্তাব, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা উচিত। এরপর বাড়িভাড়া, চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভাতা পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করা হলে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হলেও এর ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকারকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।