কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ও বর্তমান পরিস্থিতি গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ, হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। অফিসটির সহকারী পরিচালক (এডি) নাহিদ নেওয়াজ জানিয়েছেন, সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করেই সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়মের বাইরে কোনো সেবা দেওয়ার সুযোগ নেই।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও প্রকৃত চিত্র সাম্প্রতিক সময়ে পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ উঠলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত কাগজপত্রে ভুল বা তথ্যের অসঙ্গতি থাকার কারণেই কিছু আবেদন আটকে যায়।
তথ্যগত অসঙ্গতি: সেবা গ্রহীতাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের সঙ্গে পাসপোর্ট আবেদনের তথ্যের মিল না থাকলে নিয়ম অনুযায়ী তা সংশোধন করতে হয়।নির্দিষ্ট ঘটনার উদাহরণ: করুনা রানী বিশ্বাসের মেয়ে সিমলা রানী বিশ্বাসের পাসপোর্ট আবেদনের বিষয়ে সহকারী পরিচালক জানান, এনআইডি ডাটাবেজে তাঁর বৈবাহিক অবস্থা ‘গৃহিণী’ থাকলেও পাসপোর্ট আবেদনে তাঁকে ‘সিঙ্গেল’ উল্লেখ করা হয়েছিল। সঠিক নিয়মে এনআইডি সংশোধনের আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দিলেই পাসপোর্ট দ্রুত প্রদান করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হয়রানি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার: পাসপোর্ট আবেদনে কোনো তথ্যগত অসঙ্গতি যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। আবেদন ফেরত যাওয়াকে হয়রানি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো সিন্ডিকেট বা ঘুষ আদায়ের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তবে তাঁর অজান্তে কেউ অনিয়মে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ-উজ-জামান জানিয়েছেন, পাসপোর্ট অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়ার পর একটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
মূল্যায়ন: দুই পক্ষের বক্তব্য এবং অভিযোগের সত্যতা এখন তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করে সঠিক নিয়ম মেনে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় দাবি।

স্টাফ রিপোর্টার 


















