ময়মনসিংহ , শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেরপুরে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: মূলহোতা ওষুধ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার রাজশাহী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ জব্দ ময়মনসিংহের গৌরীপুরে, ভ্যাকসিন সায়েন্টিস্ট বদরুজ্জামানকে সংবর্ধনা দিল গৌরীপুর প্রেসক্লাব নালিতাবাড়ী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৬৯ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ চরখরিচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের প্যাভিলিয়ন ভেঙে রড-ইট বিক্রির অভিযোগ আনসার-ভিডিপির সংস্কার ও অগ্রযাত্রার দুই বছর পূর্তি পূর্বধলায় স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়োগের অভিযোগ: বঞ্চিত প্রার্থীদের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি গণভোটের রায় প্রতিষ্ঠিত হলে অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হতেন বললেন জামায়াত রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে ‘বিকল্প’ হিসেবে প্রচারণায় আমি বিব্রত-বিরক্ত জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিক
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

চরখরিচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের প্যাভিলিয়ন ভেঙে রড-ইট বিক্রির অভিযোগ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৫নং সিরতা ইউনিয়নের চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্মিত প্যাভিলিয়ন ভেঙে রড ও ইট বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরকারি বরাদ্দে নির্মিত স্থাপনা এভাবে ভেঙে এর নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরতা ইউনিয়নের অন্যতম বড় ও গুরুত্বপূর্ণ খেলার মাঠ হিসেবে চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণরা প্রতিদিন এ মাঠে ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা ধরনের খেলাধুলায় অংশ নেয়। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া আয়োজনেরও অন্যতম কেন্দ্র এই মাঠ।
অভিযোগ রয়েছে, মাঠে খেলোয়াড় ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত প্যাভিলিয়নটি সম্প্রতি ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে প্যাভিলিয়নের রড, ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত কোনো স্থাপনা ব্যক্তি বা কোনো মহলের ইচ্ছামতো ভেঙে ফেলা কিংবা এর নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্যাভিলিয়ন ভাঙার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, প্যাভিলিয়ন ভেঙে ফেলার বিষয়ে চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের মাঠ ও স্থাপনা রক্ষার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অথচ প্যাভিলিয়ন ভেঙে ফেলা ও নির্মাণসামগ্রী বিক্রির অভিযোগ উঠলেও প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি এবং বিষয়টি নিয়ে নীরব রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা বলেন, চর খরিচা মাঠটি শুধু একটি বিদ্যালয়ের মাঠ নয়; এটি পুরো সিরতা ইউনিয়নের খেলাধুলার অন্যতম প্রধান মাঠ। মাঠে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী খেলোয়াড়রা খেলাধুলা করেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাঠের প্যাভিলিয়ন ভেঙে ফেলা হলে খেলোয়াড় ও দর্শনার্থীদের জন্য যেমন অসুবিধা সৃষ্টি হবে, তেমনি সরকারি সম্পদেরও ক্ষতি হবে।

সচেতন মহলের দাবি, সরকারি বরাদ্দে নির্মিত প্যাভিলিয়নটি কীভাবে ভাঙা হলো, কার অনুমতিতে ভাঙা হলো এবং ভাঙার পর রড-ইটসহ নির্মাণসামগ্রী কোথায় নেওয়া বা বিক্রি করা হয়েছে এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত বা আত্মসাতের অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, প্যাভিলিয়নের নির্মাণসামগ্রীর হিসাব যাচাই এবং মাঠের ক্রীড়া পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখবে এবং সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরপুরে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: মূলহোতা ওষুধ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

চরখরিচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের প্যাভিলিয়ন ভেঙে রড-ইট বিক্রির অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:৪৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৫নং সিরতা ইউনিয়নের চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্মিত প্যাভিলিয়ন ভেঙে রড ও ইট বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরকারি বরাদ্দে নির্মিত স্থাপনা এভাবে ভেঙে এর নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরতা ইউনিয়নের অন্যতম বড় ও গুরুত্বপূর্ণ খেলার মাঠ হিসেবে চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণরা প্রতিদিন এ মাঠে ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা ধরনের খেলাধুলায় অংশ নেয়। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া আয়োজনেরও অন্যতম কেন্দ্র এই মাঠ।
অভিযোগ রয়েছে, মাঠে খেলোয়াড় ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত প্যাভিলিয়নটি সম্প্রতি ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে প্যাভিলিয়নের রড, ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত কোনো স্থাপনা ব্যক্তি বা কোনো মহলের ইচ্ছামতো ভেঙে ফেলা কিংবা এর নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্যাভিলিয়ন ভাঙার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, প্যাভিলিয়ন ভেঙে ফেলার বিষয়ে চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের মাঠ ও স্থাপনা রক্ষার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অথচ প্যাভিলিয়ন ভেঙে ফেলা ও নির্মাণসামগ্রী বিক্রির অভিযোগ উঠলেও প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি এবং বিষয়টি নিয়ে নীরব রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা বলেন, চর খরিচা মাঠটি শুধু একটি বিদ্যালয়ের মাঠ নয়; এটি পুরো সিরতা ইউনিয়নের খেলাধুলার অন্যতম প্রধান মাঠ। মাঠে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী খেলোয়াড়রা খেলাধুলা করেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাঠের প্যাভিলিয়ন ভেঙে ফেলা হলে খেলোয়াড় ও দর্শনার্থীদের জন্য যেমন অসুবিধা সৃষ্টি হবে, তেমনি সরকারি সম্পদেরও ক্ষতি হবে।

সচেতন মহলের দাবি, সরকারি বরাদ্দে নির্মিত প্যাভিলিয়নটি কীভাবে ভাঙা হলো, কার অনুমতিতে ভাঙা হলো এবং ভাঙার পর রড-ইটসহ নির্মাণসামগ্রী কোথায় নেওয়া বা বিক্রি করা হয়েছে এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত বা আত্মসাতের অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, প্যাভিলিয়নের নির্মাণসামগ্রীর হিসাব যাচাই এবং মাঠের ক্রীড়া পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখবে এবং সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।