ময়মনসিংহ , সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি আবারও বাড়লো তেলের দাম যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পালটাপালটি হামলায় দুদকের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেলেন নাজমুল আলম পটুয়াখালী লাখ টাকায় সন্তান বিক্রি করে বাবার আইফোন কেনা, সেই শিশুপুত্র উদ্ধার বিলিয়ন ডলারের বোয়িং কিনছে বাংলাদেশ, ‘অসাধারণ চুক্তি’ : সার্জিও গোর “মেট্রোরেল প্রকল্পে বিশাল ব্যয় বৃদ্ধি”: দুই নতুন প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে আরও ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা জীবনসংগ্রামের স্বীকৃতি মিললেও থাকার ঘর নেই সুমীর বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে শেরপুরে চালু হলো আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক কসাইখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেঞ্চ গোয়ালঘরে রাখার অভিযোগ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে ত্রুটি মাত্র ১.২ শতাংশ জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

জীবনসংগ্রামের স্বীকৃতি মিললেও থাকার ঘর নেই সুমীর

আজ থেকে ১৩ বছর আগে তিন মাসের কোলের শিশুকে নিয়ে স্বামীর ঘর ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে এসেছিলেন সুমী বেগম। নেশাগ্রস্ত স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত তালাকের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি। স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করলেও দুঃখ ঘোচেনি সুমীর। বছরের পর বছর চোখের জল আর ধৈর্যের সংমিশ্রণে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে দিন কাটিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

তিন মাসের সেই শিশু সৌরভ (১৩) এখন নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছেলেকে মানুষ করার জন্যই দ্বিতীয় বিয়ে করেননি সুমী। সুমীর বাবা ফারুক মিয়া একজন অটোচালক। ফারুক মিয়ার নিজের সংসার চালাতেই যখন হিমশিম খেতে হয়, তখন সুমী ও তার ছেলের ভরণপোষণ যেন ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’।পরিবারের আয় বাড়ানো এবং ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কয়েক বছর আগে সেলাই মেশিনে কাপড় তৈরির কাজ শুরু করেন সুমী বেগম।

শেরপুরের নকলা উপজেলার পৌর শহরের জালালপুর এলাকার বাসিন্দা সুমী এখন বাবার সংসারেই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন।সুমীর বাবার সংসারে স্ত্রী, ছেলে, ছেলের বউ, সুমী ও তার ছেলে—সব মিলিয়ে ৬ জনের সংসার। শুধু ভরণপোষণ নয়, বাবার সংসারে রয়েছে থাকার ঘরেরও সংকট। অটো চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে ডাল-ভাত খেয়ে দিন কাটে। নতুন করে আরেকটি ঘর নির্মাণ করার সামর্থ্য নেই তার বাবার।

বাবার সংসারে কিছুটা সহযোগিতা করতে সেলাইয়ের কাজ করেন সুমী। এতে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়। কিন্তু এই সামান্য আয় দিয়ে নিজের ও ছেলের খরচ চালানোর পাশাপাশি সৌরভের পড়াশোনার খরচ বহন করাই কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে নতুন ঘর নির্মাণের কথা চিন্তা করার সুযোগও নেই। বাধ্য হয়ে বাবার ঘরেই ছেলেকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

সুমী বেগমের এই করুণ চিত্র দেখে মর্মাহত স্থানীয়রা�

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি

জীবনসংগ্রামের স্বীকৃতি মিললেও থাকার ঘর নেই সুমীর

আপডেট সময় ০৯:৫৮:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

আজ থেকে ১৩ বছর আগে তিন মাসের কোলের শিশুকে নিয়ে স্বামীর ঘর ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে এসেছিলেন সুমী বেগম। নেশাগ্রস্ত স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত তালাকের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি। স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করলেও দুঃখ ঘোচেনি সুমীর। বছরের পর বছর চোখের জল আর ধৈর্যের সংমিশ্রণে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে দিন কাটিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

তিন মাসের সেই শিশু সৌরভ (১৩) এখন নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছেলেকে মানুষ করার জন্যই দ্বিতীয় বিয়ে করেননি সুমী। সুমীর বাবা ফারুক মিয়া একজন অটোচালক। ফারুক মিয়ার নিজের সংসার চালাতেই যখন হিমশিম খেতে হয়, তখন সুমী ও তার ছেলের ভরণপোষণ যেন ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’।পরিবারের আয় বাড়ানো এবং ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কয়েক বছর আগে সেলাই মেশিনে কাপড় তৈরির কাজ শুরু করেন সুমী বেগম।

শেরপুরের নকলা উপজেলার পৌর শহরের জালালপুর এলাকার বাসিন্দা সুমী এখন বাবার সংসারেই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন।সুমীর বাবার সংসারে স্ত্রী, ছেলে, ছেলের বউ, সুমী ও তার ছেলে—সব মিলিয়ে ৬ জনের সংসার। শুধু ভরণপোষণ নয়, বাবার সংসারে রয়েছে থাকার ঘরেরও সংকট। অটো চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে ডাল-ভাত খেয়ে দিন কাটে। নতুন করে আরেকটি ঘর নির্মাণ করার সামর্থ্য নেই তার বাবার।

বাবার সংসারে কিছুটা সহযোগিতা করতে সেলাইয়ের কাজ করেন সুমী। এতে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়। কিন্তু এই সামান্য আয় দিয়ে নিজের ও ছেলের খরচ চালানোর পাশাপাশি সৌরভের পড়াশোনার খরচ বহন করাই কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে নতুন ঘর নির্মাণের কথা চিন্তা করার সুযোগও নেই। বাধ্য হয়ে বাবার ঘরেই ছেলেকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

সুমী বেগমের এই করুণ চিত্র দেখে মর্মাহত স্থানীয়রা�