ময়মনসিংহ , রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ৮০ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে কর্নেল অলি বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির নেত্রকোণায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান নেত্রকোণায় ‘নারীনেত্র কারুপণ্য’ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, ৫ হাজার নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করেছেন লিপি শেরপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, অংশ নিলেন ৩ হাজার ২৫ জন প্রয়াত সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকনের স্মরণে নিউইয়র্কে এক সর্বজনীন শোকসভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত খুলনায় সন্ধানী ক্লিনিকে হামলা: গুলি ও ব্যাপক ভাঙচুর খুলনায় ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ, মূলহোতার ৩ মাসের কারাদণ্ড ময়মনসিংহে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ৩৪ ড্রেজার জব্দ ও ধ্বংস ​পাঁচবিবি সীমান্তে সাড়ে ৭ হাজার পিস ট্যাপিওকা/ট্যাপেন্টাডলসহ আটক ২
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

মাটির টানে, উদ্ভাবনের শক্তিতে: শেরপুরে ২৫ জাতের ধান উদ্ভাবন সেন্টু কুমার হাজংয়ের

কৃষির প্রতি গভীর অনুরাগ, নিরলস পরিশ্রম ও নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রচেষ্টায় ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের চাঁদকুড়িয়া গ্রামের কৃষক সেন্টু কুমার হাজং। সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়েই তিনি আমন ধানের ২২টি জাতসহ মোট ২৫টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

সেন্টু কুমার হাজংয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন এসএসসি পর্যন্ত। পরবর্তী সময়ে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে সামান্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) অধীনে ব্রিডিং বিষয়ে মাত্র ১০ দিনের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর নিজের মেধা, শ্রম, অভিজ্ঞতা ও অধ্যবসায়কে কাজে লাগিয়ে ধানের বিভিন্ন জাত উদ্ভাবনে মনোনিবেশ করেন।

তাঁর উদ্ভাবিত ধানের জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈচিত্র্য। কোনো জাতের ধানের দানা চিকন, কোনোটি মোটা; কোনোটি সোনালি রঙের, আবার কোনোটি লালচে-কালো বর্ণের। দানার আকৃতি, রং, ফলন ও গাছের বৈশিষ্ট্যেও জাতভেদে পার্থক্য রয়েছে। যথাযথ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, পরীক্ষণ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে এসব উদ্ভাবনের কৃষিগত সম্ভাবনা যাচাই করা গেলে তা দেশের কৃষি খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) শেরপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা ইয়াসমিন সেন্টু কুমার হাজংয়ের উদ্ভাবিত ধানের জাতসমূহ এবং তাঁর কৃষি কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সেন্টু কুমার হাজংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর উদ্ভাবনী উদ্যোগ, অভিজ্ঞতা ও কৃষিক্ষেত্রে অবদান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
সেন্টু কুমার হাজংয়ের এই পথচলা প্রমাণ করে, সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কিংবা স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ মানুষের সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে রাখতে পারে না। মেধা, পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও নিরন্তর প্রচেষ্টার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকেও নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভব।

জেলা প্রশাসন, শেরপুর তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার মাধ্যমে জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং কৃষির অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেন্টু কুমার হাজংয়ের মতো উদ্ভাবনী কৃষকদের উদ্যোগ যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা পেলে তা দেশের কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তৃণমূলের উদ্ভাবনী শক্তি, কৃষকের পরিশ্রম ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের সমন্বয়ে সমৃদ্ধ হোক শেরপুরের কৃষি, বিকশিত হোক বাংলাদেশের কৃষির অপার সম্ভাবনা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ৮০ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে কর্নেল অলি

মাটির টানে, উদ্ভাবনের শক্তিতে: শেরপুরে ২৫ জাতের ধান উদ্ভাবন সেন্টু কুমার হাজংয়ের

আপডেট সময় ১১:৫৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

কৃষির প্রতি গভীর অনুরাগ, নিরলস পরিশ্রম ও নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রচেষ্টায় ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের চাঁদকুড়িয়া গ্রামের কৃষক সেন্টু কুমার হাজং। সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়েই তিনি আমন ধানের ২২টি জাতসহ মোট ২৫টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

সেন্টু কুমার হাজংয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন এসএসসি পর্যন্ত। পরবর্তী সময়ে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে সামান্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) অধীনে ব্রিডিং বিষয়ে মাত্র ১০ দিনের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর নিজের মেধা, শ্রম, অভিজ্ঞতা ও অধ্যবসায়কে কাজে লাগিয়ে ধানের বিভিন্ন জাত উদ্ভাবনে মনোনিবেশ করেন।

তাঁর উদ্ভাবিত ধানের জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈচিত্র্য। কোনো জাতের ধানের দানা চিকন, কোনোটি মোটা; কোনোটি সোনালি রঙের, আবার কোনোটি লালচে-কালো বর্ণের। দানার আকৃতি, রং, ফলন ও গাছের বৈশিষ্ট্যেও জাতভেদে পার্থক্য রয়েছে। যথাযথ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, পরীক্ষণ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে এসব উদ্ভাবনের কৃষিগত সম্ভাবনা যাচাই করা গেলে তা দেশের কৃষি খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) শেরপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা ইয়াসমিন সেন্টু কুমার হাজংয়ের উদ্ভাবিত ধানের জাতসমূহ এবং তাঁর কৃষি কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সেন্টু কুমার হাজংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর উদ্ভাবনী উদ্যোগ, অভিজ্ঞতা ও কৃষিক্ষেত্রে অবদান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
সেন্টু কুমার হাজংয়ের এই পথচলা প্রমাণ করে, সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কিংবা স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ মানুষের সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে রাখতে পারে না। মেধা, পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও নিরন্তর প্রচেষ্টার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকেও নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভব।

জেলা প্রশাসন, শেরপুর তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার মাধ্যমে জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং কৃষির অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেন্টু কুমার হাজংয়ের মতো উদ্ভাবনী কৃষকদের উদ্যোগ যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা পেলে তা দেশের কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তৃণমূলের উদ্ভাবনী শক্তি, কৃষকের পরিশ্রম ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের সমন্বয়ে সমৃদ্ধ হোক শেরপুরের কৃষি, বিকশিত হোক বাংলাদেশের কৃষির অপার সম্ভাবনা।