ময়মনসিংহ , সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের নিন্দা ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী অভিযানের সময় নদীতে ঝাঁপ, ২৬ ঘণ্টা পর স্ট্যামফোর্ড শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার পূর্বধলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় কোনো অবহেলা সহ্য করা হবে না জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী ‘ফাইভ স্টার’ হোটেলে বসে কর্মপরিকল্পনা করলে নারীর সমতা আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসি তাহমিদা ইনুর সাজা পুনর্বিবেচনার আবেদন— যাবজ্জীবন নয়, মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে প্রসিকিউশনের বড় পদক্ষেপ নারীর শুধু উপস্থিতি নয়, প্রয়োজন কার্যকর অংশগ্রহণ বলে মন্তব্য করেছেন সিইসি ঝিনাইগাতীতে এলএফও সদস্যদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের মাঠ সমীক্ষায় নেত্রকোণা জেলা পুলিশ পরিদর্শন সীমিত আয়ের মানুষের জন্য মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

মাদকবিরোধী অভিযানের সময় নদীতে ঝাঁপ, ২৬ ঘণ্টা পর স্ট্যামফোর্ড শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

শেরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শেরপুর সদর উপজেলার ভাটারাঘাট এলাকার মৃগী নদী থেকে সৈয়দ সাদমান জয় (২২) নামে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার ওহেদুন্নী ওরফে মাখন মিয়ার ছেলে এবং স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জয়ের মা সাহানাজ পারভীন শেরপুর সদর উপজেলার খাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। কর্মসূত্রে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে সদর উপজেলার মধ্যশেরী বাড়ইপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে জয় তার এক বন্ধুকে নিয়ে ভাটারাঘাট এলাকায় মৃগী নদীর তীরে যান। এ সময় সেখানে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জয়ের এক বন্ধুকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে জয় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নদীর ওপারে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নদী ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালান। পরিবারের আবেদনের পর পুলিশ বিষয়টি জামালপুর ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করলে ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর রোববার সন্ধ্যায় মৃগী নদী থেকে জয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার বলেন, “পরিবারের সদস্যরা আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। পরে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এদিকে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, “ওই দিন একটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছিল এবং একজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযানের সময় কেউ নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।”ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক শোকের সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে এ মৃত্যু নিয়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের নিন্দা ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

মাদকবিরোধী অভিযানের সময় নদীতে ঝাঁপ, ২৬ ঘণ্টা পর স্ট্যামফোর্ড শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় ০৩:১২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

শেরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শেরপুর সদর উপজেলার ভাটারাঘাট এলাকার মৃগী নদী থেকে সৈয়দ সাদমান জয় (২২) নামে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার ওহেদুন্নী ওরফে মাখন মিয়ার ছেলে এবং স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জয়ের মা সাহানাজ পারভীন শেরপুর সদর উপজেলার খাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। কর্মসূত্রে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে সদর উপজেলার মধ্যশেরী বাড়ইপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে জয় তার এক বন্ধুকে নিয়ে ভাটারাঘাট এলাকায় মৃগী নদীর তীরে যান। এ সময় সেখানে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জয়ের এক বন্ধুকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে জয় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নদীর ওপারে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নদী ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালান। পরিবারের আবেদনের পর পুলিশ বিষয়টি জামালপুর ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করলে ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর রোববার সন্ধ্যায় মৃগী নদী থেকে জয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার বলেন, “পরিবারের সদস্যরা আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। পরে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এদিকে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, “ওই দিন একটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছিল এবং একজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযানের সময় কেউ নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।”ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক শোকের সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে এ মৃত্যু নিয়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।