নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ১৯৯৫ সালের যৌথ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সরকারি গাছ এককভাবে চুরি, আত্মসাৎ ও পুনারায় অবৈধভাবে বিক্রির পাঁয়তারার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। ৭নং আগিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান তালুকদার পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিতভাবে এই লিখিত অভিযোগ জানান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে সরকারি রাজস্ব তহবিল, কারিতাস (ময়মনসিংহ অঞ্চল) এবং স্থানীয়দের যৌথ উদ্যোগে হাটধলা ও চানখালী এলাকায় বিভিন্ন সড়কের পাশে সরকারিভাবে গাছ রোপণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, গাছ বিক্রির অর্থের একটি অংশ সরকারের রাজস্ব তহবিল, ইউনিয়ন পরিষদ, কারিতাস এবং জমির মালিকদের মাঝে বন্টন হওয়ার কথা ছিল।
অভিযোগে দাবি করা হয়, ‘কৈলাটি কল্যাণ ভূমিহীন সমিতি’ ও ‘নয়াপাড়া সমিতি’র নাম ভাঙিয়ে উক্ত ভুয়া সমিতির তথাকথিত সভাপতি রমজান আলী ফকির ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করে আসছেন। চানখালী ব্রিজের পাশে থেকে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি মেহগনি গাছ কেটে নিয়ে স্থানীয় হাটধলা মোনায়েমের স-মিলে মজুদ রাখা এবং চুরির আলামত ঢাকতে গাছের গোড়া মাটির নিচে পুঁতে ফেলার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান তালুকদার জানান, পূর্বের চুরির ঘটনায় বিগত ০৫/১২/২০২৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম লিখিত অভিযোগ প্রদান করা সত্ত্বেও সম্প্রতি রমজান আলী ফকির ও তার সহযোগীরা একক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বনায়নের বাকি গাছগুলো পুনরায় অবৈধভাবে বিক্রির পাঁয়তারা করছে। সমিতির নামে যুক্ত ব্যক্তিরা মূলত ভূয়া এবং তাদের নিজস্ব জমি-জমা রয়েছে, ফলে ভুয়া সমিতি দেখিয়ে তারা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছে।
এমতাবস্থায়, সরকারি বনায়ন প্রকল্পের গাছ রক্ষার্থে এবং ভুয়া সমিতির সভাপতি রমজান ফকির ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরজমিনে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিক্রিত গাছের অর্থ রাজস্ব তহবিলে জমা করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সাবেক জনপ্রতিনিধি।প্রতিবেদনের অনুলিপি নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক, বন বিভাগ এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে অবগতির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

মোঃ নজরুল ইসলাম 








