যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সচিব জন ফেলান ‘অবিলম্বে’ তার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে আকস্মিক ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
গত বুধবার (২২ এপ্রিল) পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে ফেলানের এমন আচমকা বিদায়ের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করেনি প্রশাসন।
জন ফেলানের এই প্রস্থান সামরিক মহলে বেশ বিস্ময় সৃষ্টি করেছে, কারণ পদত্যাগের মাত্র এক দিন আগেই তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে নৌবাহিনীর বার্ষিক সম্মেলনে নাবিক ও শিল্প পেশাজীবীদের একটি বিশাল সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের কাছে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও এজেন্ডা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন।
গত বছর ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের তৎকালীন চেয়ারম্যান জেনারেল চার্লস ‘সিকিউ’ ব্রাউনকে কোনো কারণ ছাড়াই বরখাস্ত করেছিলেন।
এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের প্রধান, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) প্রধান জেনারেল, বিমানবাহিনীর ভাইস চিফ অব স্টাফ এবং ন্যাটোর দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নৌ-অ্যাডমিরালসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক আইনজীবীকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিমানবাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের প্রধানও তাদের মেয়াদের আগেই রহস্যজনকভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের ময়দানে দ্রুত সাফল্য না আসা এবং কমান্ড কাঠামোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ট্রাম্প এই ধরনের রদবদল ঘটাচ্ছেন। তবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বারবার নেতৃত্ব পরিবর্তন মার্কিন নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা এবং বিশ্বজুড়ে মোতায়েন করা সেনাদের মনোবলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ইরানের ওপর বর্তমান নৌ-অবরোধ কার্যকর করার ক্ষেত্রে জন ফেলানের মতো অভিজ্ঞ কর্মকর্তার বিদায় এবং একজন ভারপ্রাপ্ত সচিবের স্থলাভিষিক্ত হওয়া কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে পরবর্তী স্থায়ী সচিব নিয়োগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

ডিজিটাল ডেস্ক 
























