ময়মনসিংহ , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ত্রিশালে মসজিদের টাইলসে প্রাণীর ছবি পানিতে ডুবে কিশোরগঞ্জে ৯ জনের মৃত্যু: ২ দিনে প্রাণ গেল ৪ শিশুরও সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে : ডা. শফিক মান্দায় মাটির নিচে লুকানো ৮০ লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণ উদ্ধার, গ্রেফতার ১ পূর্বধলায় জনগণের ভালবাসায় সাড়া দিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন মোঃ এরশাদ খাঁন সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী দেশে অর্ধশত কোটি টাকার মালিক মাত্র ১৫ জন! চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ সব বাধা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শাপলা চত্বর হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ২৭ জুলাই জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর অবশেষে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

শেষ মুহূর্তে কোরবানির হাট ইজারা, অর্ধেকে নেমে এলো সরকারি রাজস্ব

রাজনৈতিক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব, হট্টগোল, প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা ও দফায় দফায় স্থগিতাদেশের পর অবশেষে নেত্রকোনার পূর্বধলায় অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তবে দীর্ঘসূত্রতা ও সিদ্ধান্তহীনতার মূল্য দিতে হয়েছে সরকার ও সাধারণ মানুষকে। একদিকে রাজস্ব আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, অন্যদিকে কয়েকদিন ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে ছিলেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২০ মে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উন্মুক্ত ইজারা ডাক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইজারা কার্যক্রম শুরুর আগেই স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের একাংশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ইজারা স্থগিত করতে বাধ্য হয়।পরবর্তীতে ২১ মে পুনরায় ইজারার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কার কারণে দ্বিতীয়বারও তা স্থগিত করা হয়। এ সময় প্রশাসনিক শূন্যতা ও অনিশ্চয়তার সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিক ইজারা ছাড়াই পশুর অস্থায়ী বাজার বসতে শুরু করে। ফলে বাজার ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হয়।

অবশেষে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর গত ২৪ মে টেন্ডার পদ্ধতির মাধ্যমে ইজারা ডাক সম্পন্ন করা হয়। এতে উপজেলার ৫৩টি অস্থায়ী কোরবানির হাটের মধ্যে মাত্র ২৮টির ইজারা সম্পন্ন হয়। শেষ সময়ে এসে কার্যক্রম শেষ হলেও রাজস্ব ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত বছর ৩৭টি হাট থেকে সরকার আয় করেছিল ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, অথচ এবার আদায় হয়েছে মাত্র ৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ বিলম্ব, রাজনৈতিক চাপ ও বিনা ইজারায় বাজার পরিচালনার প্রভাব সরাসরি পড়েছে সরকারি কোষাগারে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সময়মতো ইজারা সম্পন্ন হলে যেমন বাজারগুলো আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হতো, তেমনি রাজস্ব ক্ষতির মাত্রাও কমানো যেত। কয়েকদিন ধরে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বিক্রেতা নির্ধারিত বাজারে না গিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পশু বিক্রি করেছেন, আর ক্রেতাদেরও পড়তে হয়েছে বাড়তি ভোগান্তিতে।

এদিকে পুরো পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রশাসনিক বিলম্ব ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে যে রাজস্ব ক্ষতি ও জনভোগান্তি তৈরি হলো, তার দায় শেষ পর্যন্ত কার?
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনীম জাহান জানান, ‘অস্থায়ী কোরবানির হাট-বাজার ইজারা কার্যক্রমে সবার অভাবনীয় সাড়া ও অংশগ্রহণের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ইজারা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই’।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রিশালে মসজিদের টাইলসে প্রাণীর ছবি

শেষ মুহূর্তে কোরবানির হাট ইজারা, অর্ধেকে নেমে এলো সরকারি রাজস্ব

আপডেট সময় ১১:৫৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

রাজনৈতিক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব, হট্টগোল, প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা ও দফায় দফায় স্থগিতাদেশের পর অবশেষে নেত্রকোনার পূর্বধলায় অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তবে দীর্ঘসূত্রতা ও সিদ্ধান্তহীনতার মূল্য দিতে হয়েছে সরকার ও সাধারণ মানুষকে। একদিকে রাজস্ব আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, অন্যদিকে কয়েকদিন ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে ছিলেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২০ মে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উন্মুক্ত ইজারা ডাক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইজারা কার্যক্রম শুরুর আগেই স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের একাংশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ইজারা স্থগিত করতে বাধ্য হয়।পরবর্তীতে ২১ মে পুনরায় ইজারার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কার কারণে দ্বিতীয়বারও তা স্থগিত করা হয়। এ সময় প্রশাসনিক শূন্যতা ও অনিশ্চয়তার সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিক ইজারা ছাড়াই পশুর অস্থায়ী বাজার বসতে শুরু করে। ফলে বাজার ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হয়।

অবশেষে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর গত ২৪ মে টেন্ডার পদ্ধতির মাধ্যমে ইজারা ডাক সম্পন্ন করা হয়। এতে উপজেলার ৫৩টি অস্থায়ী কোরবানির হাটের মধ্যে মাত্র ২৮টির ইজারা সম্পন্ন হয়। শেষ সময়ে এসে কার্যক্রম শেষ হলেও রাজস্ব ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত বছর ৩৭টি হাট থেকে সরকার আয় করেছিল ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, অথচ এবার আদায় হয়েছে মাত্র ৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ বিলম্ব, রাজনৈতিক চাপ ও বিনা ইজারায় বাজার পরিচালনার প্রভাব সরাসরি পড়েছে সরকারি কোষাগারে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সময়মতো ইজারা সম্পন্ন হলে যেমন বাজারগুলো আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হতো, তেমনি রাজস্ব ক্ষতির মাত্রাও কমানো যেত। কয়েকদিন ধরে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বিক্রেতা নির্ধারিত বাজারে না গিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পশু বিক্রি করেছেন, আর ক্রেতাদেরও পড়তে হয়েছে বাড়তি ভোগান্তিতে।

এদিকে পুরো পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রশাসনিক বিলম্ব ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে যে রাজস্ব ক্ষতি ও জনভোগান্তি তৈরি হলো, তার দায় শেষ পর্যন্ত কার?
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনীম জাহান জানান, ‘অস্থায়ী কোরবানির হাট-বাজার ইজারা কার্যক্রমে সবার অভাবনীয় সাড়া ও অংশগ্রহণের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ইজারা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই’।