ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জুলাই থেকে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে সরকারি স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস কুষ্টিয়ার ৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা নেত্রকোনার কলমাকান্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ​৭ নভেম্বরের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পুনরুদ্ধার: দেশজুড়ে পালনের বিশেষ পরিপত্র দৃষ্টিহীনতা দমাতে পারেনি অদম্য শরীফকে: শ্রুতিলিখকের সহায়তায় লড়ছেন এসএসসিতে ময়মনসিংহে শিশুদের সাধারণ শ্বাসকষ্ট সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আপডেট বিষয়ে বিভাগীয় সিএমই প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত গৌরীপুরে চুরির ঘটনা বেড়েছে, আতঙ্কে এলাকাবাসী ! তৃতীয় স্তরে নেমে গেল হামজা চৌধুরীর লেস্টার সিটি “যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা বন্ধের আশঙ্কায় ইসরায়েল” ২ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, নাটকীয় জয়ে ফাইনালে ইন্টার মিলান
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

সংবিধানের ২৭তম সংশোধন পাকিস্তানের: সেনাপ্রধানের ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ আসছে বিভিন্ন পরিবর্তন

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানে বিচার বিভাগ ও সামরিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনী বিল সিনেটে উপস্থাপন করেছে ফেডারেল সরকার। শনিবার এই বিলটি সিনেটে পেশ করা হয় এবং পরে আইন ও বিচারবিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

আজারবাইজান থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করা প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা বিলের খসড়াটির অনুমোদন দেয়ার পরই এটি সিনেটে উত্থাপন করা হয়।

আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার সিনেটে বিলটি উত্থাপন করে বলেন, ২৭তম সংশোধনী গণতন্ত্রের সনদের (Charter of Democracy) অংশ হিসেবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। ২০০৬ সালে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির মধ্যে স্বাক্ষরিত ওই সনদের একটি লক্ষ্য ছিল এই সংস্কার, যা ১৮তম সংশোধনীর সময় বাস্তবায়িত হয়নি।

সামরিক কাঠামোয় পরিবর্তন

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ‘চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি (CJCSC)’ পদ বিলুপ্ত করে নতুন পদ ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া ফিল্ড মার্শাল, মার্শাল অব দ্য এয়ার ফোর্স এবং অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট—এসব সম্মানসূচক উপাধিকে আজীবন মর্যাদা দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এই উপাধি বাতিলের ক্ষমতা শুধু সংসদের হাতে থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেসের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডার নিয়োগ দেবেন, যিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে আসবেন।

ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত গঠন

বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন ‘ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট’ গঠনের, যা সুপ্রিম কোর্টের কিছু ক্ষমতা গ্রহণ করবে। প্রস্তাবিত আদালতে দেশের সব প্রদেশের সমান প্রতিনিধিত্ব থাকবে। আদালতের প্রধান বিচারপতি তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।

বিচারক নিয়োগে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন এবং আদালতে বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকবে বলে খসড়ায় উল্লেখ আছে।

২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রধান বিষয়গুলো

  • নতুন পদ ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ সৃষ্টি করা হবে, যিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হবেন (কার্যকর ২৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে)।
  • সেনাপ্রধান ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’-এর দায়িত্বও পালন করবেন।
  • ফিল্ড মার্শাল, এয়ার মার্শাল ও ফ্লিট অ্যাডমিরাল উপাধি আজীবন বহাল থাকবে।
  • প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর মধ্য থেকে ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের প্রধান নিয়োগ দেবেন।
  • ‘ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট’ নামে নতুন আদালত গঠিত হবে।
  • এই আদালতে সব প্রদেশের সমান প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
  • বিচারপতি নিয়োগে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা থাকবে।
  • আদালতের বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণ করবে সংসদ।
  • সুপ্রিম কোর্টের কিছু সাংবিধানিক ক্ষমতা নতুন আদালতে স্থানান্তর করা হবে।
  • ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্টের প্রধান বিচারপতির মেয়াদ থাকবে তিন বছর।
  • রাষ্ট্রপতি আজীবনের জন্য ফৌজদারি মামলা থেকে অব্যাহতি পাবেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই থেকে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে সরকারি স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস

সংবিধানের ২৭তম সংশোধন পাকিস্তানের: সেনাপ্রধানের ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ আসছে বিভিন্ন পরিবর্তন

আপডেট সময় ১০:৩১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

পাকিস্তানে বিচার বিভাগ ও সামরিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনী বিল সিনেটে উপস্থাপন করেছে ফেডারেল সরকার। শনিবার এই বিলটি সিনেটে পেশ করা হয় এবং পরে আইন ও বিচারবিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

আজারবাইজান থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করা প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা বিলের খসড়াটির অনুমোদন দেয়ার পরই এটি সিনেটে উত্থাপন করা হয়।

আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার সিনেটে বিলটি উত্থাপন করে বলেন, ২৭তম সংশোধনী গণতন্ত্রের সনদের (Charter of Democracy) অংশ হিসেবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। ২০০৬ সালে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির মধ্যে স্বাক্ষরিত ওই সনদের একটি লক্ষ্য ছিল এই সংস্কার, যা ১৮তম সংশোধনীর সময় বাস্তবায়িত হয়নি।

সামরিক কাঠামোয় পরিবর্তন

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ‘চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি (CJCSC)’ পদ বিলুপ্ত করে নতুন পদ ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া ফিল্ড মার্শাল, মার্শাল অব দ্য এয়ার ফোর্স এবং অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট—এসব সম্মানসূচক উপাধিকে আজীবন মর্যাদা দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এই উপাধি বাতিলের ক্ষমতা শুধু সংসদের হাতে থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেসের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডার নিয়োগ দেবেন, যিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে আসবেন।

ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত গঠন

বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন ‘ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট’ গঠনের, যা সুপ্রিম কোর্টের কিছু ক্ষমতা গ্রহণ করবে। প্রস্তাবিত আদালতে দেশের সব প্রদেশের সমান প্রতিনিধিত্ব থাকবে। আদালতের প্রধান বিচারপতি তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।

বিচারক নিয়োগে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন এবং আদালতে বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকবে বলে খসড়ায় উল্লেখ আছে।

২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রধান বিষয়গুলো

  • নতুন পদ ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ সৃষ্টি করা হবে, যিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হবেন (কার্যকর ২৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে)।
  • সেনাপ্রধান ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’-এর দায়িত্বও পালন করবেন।
  • ফিল্ড মার্শাল, এয়ার মার্শাল ও ফ্লিট অ্যাডমিরাল উপাধি আজীবন বহাল থাকবে।
  • প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর মধ্য থেকে ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের প্রধান নিয়োগ দেবেন।
  • ‘ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট’ নামে নতুন আদালত গঠিত হবে।
  • এই আদালতে সব প্রদেশের সমান প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
  • বিচারপতি নিয়োগে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা থাকবে।
  • আদালতের বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণ করবে সংসদ।
  • সুপ্রিম কোর্টের কিছু সাংবিধানিক ক্ষমতা নতুন আদালতে স্থানান্তর করা হবে।
  • ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্টের প্রধান বিচারপতির মেয়াদ থাকবে তিন বছর।
  • রাষ্ট্রপতি আজীবনের জন্য ফৌজদারি মামলা থেকে অব্যাহতি পাবেন।