ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‎ত্রিশালে ‘চলো অভ্যাস বদলাই’ স্লোগানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি, শেখ হাসিনার ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার ঘোষণা পাকা সেতুর অভাবে ৫০ হাজার মানুষের ভরসা নড়বড়ে কাঠের সাঁকো ভারী বৃষ্টিতে ছেপটখালীর একমাত্র সড়ক বিধ্বস্ত: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ অতিবৃষ্টিতে পূর্বধলায় জনজীবন স্থবির, চরম দুর্ভোগে শ্রমজীবী ও শিক্ষার্থীরা কালীগঞ্জে মাদকসেবীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড আওয়ামী লীগ আমলে এক তৃতীয়াংশ অর্থ লোপাট হওয়ায় ২ কোটি আমানতকারী বিপাকে জানিয়েছে গভর্নর সরকারকে ব্যর্থ করতে দেশের বিরুদ্ধে একটি দল চক্রান্ত করছে বলেছেন রিজভী দেশের বাজারে ফের বড় ধাক্কা: এক লাফে অনেকটা বাড়ল স্বর্ণের দাম বিচার প্রক্রিয়া শুরু: হাছান-নওফেলসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ আজ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

২ হাজারের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল কুয়েতে

কুয়েত সরকার আরও ২ হাজার ১৯৩ জন ব্যক্তির কুয়েতি নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ প্রকাশ করেছে। সরকারি গেজেট কুয়েত আল-ইয়াওম-এ প্রকাশিত সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া নির্ভরশীলদের নাগরিকত্বও বাতিল করা হয়েছে।

আজ রোববার (১৪ জুন) দেশটির সংবাদ মাধ্যম দৈনিক আরব টাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে। মূলত ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে নাগরিকত্ব ফাইল পুনঃতদন্ত ও পর্যালোচনার এই ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে কুয়েতের সুপ্রিম কমিটি ফর টি ইনভেস্টিগেশন অব কুয়েতী ন্যাশনালিটি ধারাবাহিকভাবে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত পুরোনো ফাইল পুনরায় যাচাই করে আসছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার ৪৬৪ জনের নাগরিকত্ব বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এরপর ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বিভিন্ন ধাপে আরও হাজার হাজার মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে যে, ২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছেন, কারণ একজনের নাগরিকত্ব বাতিল হলে তার সন্তান ও নির্ভরশীলদের নাগরিকত্বও বাতিল হয়ে যায়। তবে সরকারিভাবে সব নির্ভরশীলের সমন্বিত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
 
কুয়েতের ১৯৫৯ সালের ১৫ নং জাতীয়তা আইন অনুযায়ী বিভিন্ন অধ্যাদেশে কয়েকটি প্রধান কারণে নাগরিকত্ব বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়।

দ্বৈত নাগরিকত্ব
কুয়েত সাধারণভাবে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করে না। অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে কুয়েতি নাগরিকত্ব হারানোর বিধান রয়েছে।
 
জালিয়াতি ও ভুয়া তথ্য
জাল কাগজপত্র, মিথ্যা তথ্য প্রদান অথবা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জনের অভিযোগে বহু নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।
 
জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের প্রশ্ন
রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী অর্থায়ন, জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত না থাকার অভিযোগেও নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।
 
 
বিশেষ আইনি ধারা অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন
বিশেষ করে বিবাহ, নির্ভরশীলতা বা ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ফাইল নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে।
 
কুয়েত সরকার বলছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো নাগরিকত্ব ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করা, জালিয়াতি রোধ করা এবং জাতীয় পরিচয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সম্প্রতি জাতীয়তা আইনেও সংশোধন এনে নাগরিকত্ব প্রদান ও বাতিলের বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে।
 
অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মী ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু পরিবার নাগরিকত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি এবং সামাজিক সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিশেষ করে যাদের পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে কুয়েতে বসবাস করছে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। 

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎ত্রিশালে ‘চলো অভ্যাস বদলাই’ স্লোগানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত

২ হাজারের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল কুয়েতে

আপডেট সময় ১২:০১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

কুয়েত সরকার আরও ২ হাজার ১৯৩ জন ব্যক্তির কুয়েতি নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ প্রকাশ করেছে। সরকারি গেজেট কুয়েত আল-ইয়াওম-এ প্রকাশিত সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া নির্ভরশীলদের নাগরিকত্বও বাতিল করা হয়েছে।

আজ রোববার (১৪ জুন) দেশটির সংবাদ মাধ্যম দৈনিক আরব টাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে। মূলত ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে নাগরিকত্ব ফাইল পুনঃতদন্ত ও পর্যালোচনার এই ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে কুয়েতের সুপ্রিম কমিটি ফর টি ইনভেস্টিগেশন অব কুয়েতী ন্যাশনালিটি ধারাবাহিকভাবে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত পুরোনো ফাইল পুনরায় যাচাই করে আসছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার ৪৬৪ জনের নাগরিকত্ব বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এরপর ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বিভিন্ন ধাপে আরও হাজার হাজার মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে যে, ২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছেন, কারণ একজনের নাগরিকত্ব বাতিল হলে তার সন্তান ও নির্ভরশীলদের নাগরিকত্বও বাতিল হয়ে যায়। তবে সরকারিভাবে সব নির্ভরশীলের সমন্বিত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
 
কুয়েতের ১৯৫৯ সালের ১৫ নং জাতীয়তা আইন অনুযায়ী বিভিন্ন অধ্যাদেশে কয়েকটি প্রধান কারণে নাগরিকত্ব বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়।

দ্বৈত নাগরিকত্ব
কুয়েত সাধারণভাবে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করে না। অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে কুয়েতি নাগরিকত্ব হারানোর বিধান রয়েছে।
 
জালিয়াতি ও ভুয়া তথ্য
জাল কাগজপত্র, মিথ্যা তথ্য প্রদান অথবা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জনের অভিযোগে বহু নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।
 
জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের প্রশ্ন
রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী অর্থায়ন, জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত না থাকার অভিযোগেও নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।
 
 
বিশেষ আইনি ধারা অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন
বিশেষ করে বিবাহ, নির্ভরশীলতা বা ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ফাইল নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে।
 
কুয়েত সরকার বলছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো নাগরিকত্ব ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করা, জালিয়াতি রোধ করা এবং জাতীয় পরিচয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সম্প্রতি জাতীয়তা আইনেও সংশোধন এনে নাগরিকত্ব প্রদান ও বাতিলের বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে।
 
অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মী ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু পরিবার নাগরিকত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি এবং সামাজিক সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিশেষ করে যাদের পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে কুয়েতে বসবাস করছে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।