ময়মনসিংহ , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গণশুনানিতে অসহায়ত্বের কথা শুনে ৯ বছরের শিশুর ওপেন হার্ট সার্জারির দায়িত্ব নিল ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ময়মনসিংহে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ডিসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান নেত্রকোণায় জেলা রাজস্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত, জনবান্ধব ভূমিসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ যশোরের ধোপাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কেটে বিক্রির অভিযোগ ঢাকা-১৩ আসনে গার্মেন্টস শিল্পের নিরাপত্তা জোরদারে যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের শেরপুরে মাসিক রাজস্ব সভা অনুষ্ঠিত, ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে গুরুত্ব নেত্রকোণায় পুলিশ লাইনসে মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত ​ময়মনসিংহে আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ পদ্মা ব্যারাজ উদ্বোধন আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে: পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

গৌরীপুরে থাইল্যান্ডের রঙিন বিটরুট চাষে কৃষক আজিজুলের বাজিমাত!

মাটির নিচে রক্তিম ফসল! কাটলেই বের হয় লাল রঙের মূলান্যায় বিটরুট।কাঁচা খেতেও সুস্বাদু। মাহে রমজানে বিটরুট জুসও মজাদার। থাইল্যান্ডের সেই বিটরুট এখন চাষ হচ্ছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে।

এ ভিনদেশী ফসল উৎপাদনে এলাকায় বাজিমাত করেছেন কৃষক আজিজুল হক। তিনি উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের পল্টিপাড়া গ্রামের আজু মিয়ার পুত্র।

তিনি জানান, গত বছর মাত্র ৫শতাংশ জমিতে চাষ করেছিলেন। বিক্রিয় হয় প্রায় ৩০হাজার টাকা। খরচ হয়েছিলো মাত্র ১হাজার ৪৬০ টাকা। এবার তিনি ১৭শতাংশ জমিতে বিটরুট চাষ করেছেন।

২শতাংশ জমিনের বিটরুট বিক্রি হয়েছে ১৮হাজার টাকা। আরও প্রায় ৩-৫হাজার টাকা বিক্রি হবে। অপর জমিনে রয়েছে বিশাল বিটরুট। সেখালে বিক্রি হবে প্রায় দুই লাখ টাকা।

আজিজুল হকের পুত্র মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, দেখতেও রঙিন, দামেও ভালো পাচ্ছি। এলাকার অনেকেই খেতে বিটরুট দেখতে আসছে।

এ প্রসঙ্গে উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, প্রথমদিকে এ ফসল কেউ করতে আগ্রহী ছিলো না।

আজিজুল হকের সাফল্যে এখন এলাকার কৃষকদেরও মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। আজিজুল হকের অনুপ্রেরণায় পাছার গ্রারেম কছিম উদ্দিনের পুত্র মো. দুলাল মিয়া, পল্টিপাড়ার চানফর আলীর পুত্র আবুল বাসারও বিটরুট চাষ করেছেন।

ধোপাজাঙ্গালিয়ার কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চাষ অত্যন্ত সহজ, খরচও কম। অনেক লাভ। যা আগে কৃষকরা জানতো না। এখন অনেকেই এ ফসল চাষ করতে আগ্রহী।

কৃষি অফিসার নিলুফার ইয়াসমিন জলি জানান, এ উপজেলায় প্রথম বিটরুট আবাদ করেছেন কৃষক আজিজুল হক। তার সাফল্য চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এ ফসল চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মাঝে আগ্রহী বাড়ছে।

আমরাও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা কওে আসছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আনিছুর রহমান জানান, বিটরুট মূলত পুষ্টিকর সবজি। তবে এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

যা শরীরের জন্য যেমন উপকারী, তেমনি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তস্বল্পতা দূর করা, লিভার পরিষ্কার, হজম শক্তি, হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ানো, ক্যানসার প্রতিরোধসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকে।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, আজিজুল হকসহ অনেকেই বিটরুটে সাফল্য পেয়েছে। আজিজুল হক চাচা খেত দেখতে আসলাম। ভালো লেগেছে। আগামী মৌসুমে আমিও চাষ করবো।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণশুনানিতে অসহায়ত্বের কথা শুনে ৯ বছরের শিশুর ওপেন হার্ট সার্জারির দায়িত্ব নিল ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন

গৌরীপুরে থাইল্যান্ডের রঙিন বিটরুট চাষে কৃষক আজিজুলের বাজিমাত!

আপডেট সময় ১২:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

মাটির নিচে রক্তিম ফসল! কাটলেই বের হয় লাল রঙের মূলান্যায় বিটরুট।কাঁচা খেতেও সুস্বাদু। মাহে রমজানে বিটরুট জুসও মজাদার। থাইল্যান্ডের সেই বিটরুট এখন চাষ হচ্ছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে।

এ ভিনদেশী ফসল উৎপাদনে এলাকায় বাজিমাত করেছেন কৃষক আজিজুল হক। তিনি উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের পল্টিপাড়া গ্রামের আজু মিয়ার পুত্র।

তিনি জানান, গত বছর মাত্র ৫শতাংশ জমিতে চাষ করেছিলেন। বিক্রিয় হয় প্রায় ৩০হাজার টাকা। খরচ হয়েছিলো মাত্র ১হাজার ৪৬০ টাকা। এবার তিনি ১৭শতাংশ জমিতে বিটরুট চাষ করেছেন।

২শতাংশ জমিনের বিটরুট বিক্রি হয়েছে ১৮হাজার টাকা। আরও প্রায় ৩-৫হাজার টাকা বিক্রি হবে। অপর জমিনে রয়েছে বিশাল বিটরুট। সেখালে বিক্রি হবে প্রায় দুই লাখ টাকা।

আজিজুল হকের পুত্র মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, দেখতেও রঙিন, দামেও ভালো পাচ্ছি। এলাকার অনেকেই খেতে বিটরুট দেখতে আসছে।

এ প্রসঙ্গে উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, প্রথমদিকে এ ফসল কেউ করতে আগ্রহী ছিলো না।

আজিজুল হকের সাফল্যে এখন এলাকার কৃষকদেরও মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। আজিজুল হকের অনুপ্রেরণায় পাছার গ্রারেম কছিম উদ্দিনের পুত্র মো. দুলাল মিয়া, পল্টিপাড়ার চানফর আলীর পুত্র আবুল বাসারও বিটরুট চাষ করেছেন।

ধোপাজাঙ্গালিয়ার কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চাষ অত্যন্ত সহজ, খরচও কম। অনেক লাভ। যা আগে কৃষকরা জানতো না। এখন অনেকেই এ ফসল চাষ করতে আগ্রহী।

কৃষি অফিসার নিলুফার ইয়াসমিন জলি জানান, এ উপজেলায় প্রথম বিটরুট আবাদ করেছেন কৃষক আজিজুল হক। তার সাফল্য চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এ ফসল চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মাঝে আগ্রহী বাড়ছে।

আমরাও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা কওে আসছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আনিছুর রহমান জানান, বিটরুট মূলত পুষ্টিকর সবজি। তবে এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

যা শরীরের জন্য যেমন উপকারী, তেমনি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তস্বল্পতা দূর করা, লিভার পরিষ্কার, হজম শক্তি, হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ানো, ক্যানসার প্রতিরোধসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকে।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, আজিজুল হকসহ অনেকেই বিটরুটে সাফল্য পেয়েছে। আজিজুল হক চাচা খেত দেখতে আসলাম। ভালো লেগেছে। আগামী মৌসুমে আমিও চাষ করবো।