ময়মনসিংহ , বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জুলাই নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার করতে হবে বললেন আখতার হোসেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বড় রদবদল: স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান ​জাতীয় নির্বাচনের পাঠ নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে নামছে নির্বাচন কমিশন পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায় বৃহস্পতিবার জনদুর্ভোগ লাঘবে নারী এমপির অনুদান; সড়ক সংস্কারে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল ​আর্জেন্টিনার প্রতি শুভকামনা মোস্তফা জিকোর, প্রত্যাশা আরও এক বিশ্বকাপের রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ: ‘টাকার বিনিময়ে ম্যাচ হেরেছি’, অভিযোগ মিশর কোচের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ-পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত ​কারবালার পথে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ ​ভারতের কেরালায় ভূমিধসে নিহত ৫, উদ্ধারকাজ ব্যাহত ভারী বৃষ্টিতে
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

নানা সংকটে ধুঁকছে গৌরীপুরের শতবর্ষী জংশন, যাত্রীদের ভোগান্তি

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৭ সালে ব্রহ্মপুত্রের পূর্বপাড়ে নির্মিত ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন।

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৭ সালে ব্রহ্মপুত্রের পূর্বপাড়ে এটি গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে জনবলসংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে শতাব্দীপ্রাচীন স্টেশনটির ভগ্নদশা। স্থানীয়দের দাবি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উন্নত অবকাঠামো দিয়ে এই পুরোনো স্টেশনটিকে অত্যাধুনিক করা হোক।

জানা গেছে, ব্যস্ততম এই জংশনে প্রতিদিন তিনটি আন্তনগর ট্রেন, দুটি কমিউটার, দুটি মেইল ও একটি লোকাল ট্রেন আসা-যাওয়া করে। জংশনে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক যাত্রী ট্রেনে ওঠানামা করে। তবে যাত্রীদের জন্য নেই কোনো বিশ্রামাগার। পুরো স্টেশনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাউনি দিয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি। স্টেশনের একমাত্র ফুটওভারব্রিজটি বহুদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে রয়েছে।

ব্রিটিশ আমলে নির্মিত দালানকোঠা, যাত্রীছাউনি, প্ল্যাটফর্ম, স্লিপার ও বিভিন্ন অবকাঠামোর মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে অনেক বছর আগে। ওয়েটিং রুমসহ টয়লেটগুলোর পানির সাপ্লাই লাইন বহুদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বারবার পরিদর্শন করে গেলেও অবকাঠামোর কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি আজও।

ঢাকা থেকে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ পর্যন্ত হাওর এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম থেকে জামালপুর পর্যন্ত বিজয় এক্সপ্রেস আন্তনগর ট্রেন, চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ হয়ে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত নাসিরাবাদ নামে দুটি মেইল ট্রেন, ঢাকা থেকে জারিয়া-ঝাঞ্জাই পর্যন্ত বলাকা ও ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত মহুয়া কমিউটার ট্রেন গৌরীপুর জংশন হয়ে যাওয়া-আসা করে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ থেকে জারিয়া পর্যন্ত একটি লোকাল ট্রেন এই জংশন হয়ে চারবার আপ-ডাউন করে।

গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার সফিকুল ইসলাম বলেন, স্টেশনের অবকাঠামো ব্রিটিশ আমলের। স্টেশনে আলাদা ৯টি দপ্তরে ৩৫ জনের স্থলে জনবল আছে ২৪ জন। লাইন ছয়টির স্থলে তিনটি সচল আছে। বিশেষ করে ট্রেনের সিগন্যাল ও লাইন পরিবর্তনের জন্য স্টেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্যানেল বোর্ডটি অনেক পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ। এটি প্রায়ই কাজ করে না।

ময়মনসিংহ রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে কিছু সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার করতে হবে বললেন আখতার হোসেন

নানা সংকটে ধুঁকছে গৌরীপুরের শতবর্ষী জংশন, যাত্রীদের ভোগান্তি

আপডেট সময় ০৩:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৭ সালে ব্রহ্মপুত্রের পূর্বপাড়ে নির্মিত ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন।

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৭ সালে ব্রহ্মপুত্রের পূর্বপাড়ে এটি গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে জনবলসংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে শতাব্দীপ্রাচীন স্টেশনটির ভগ্নদশা। স্থানীয়দের দাবি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উন্নত অবকাঠামো দিয়ে এই পুরোনো স্টেশনটিকে অত্যাধুনিক করা হোক।

জানা গেছে, ব্যস্ততম এই জংশনে প্রতিদিন তিনটি আন্তনগর ট্রেন, দুটি কমিউটার, দুটি মেইল ও একটি লোকাল ট্রেন আসা-যাওয়া করে। জংশনে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক যাত্রী ট্রেনে ওঠানামা করে। তবে যাত্রীদের জন্য নেই কোনো বিশ্রামাগার। পুরো স্টেশনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাউনি দিয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি। স্টেশনের একমাত্র ফুটওভারব্রিজটি বহুদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে রয়েছে।

ব্রিটিশ আমলে নির্মিত দালানকোঠা, যাত্রীছাউনি, প্ল্যাটফর্ম, স্লিপার ও বিভিন্ন অবকাঠামোর মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে অনেক বছর আগে। ওয়েটিং রুমসহ টয়লেটগুলোর পানির সাপ্লাই লাইন বহুদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বারবার পরিদর্শন করে গেলেও অবকাঠামোর কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি আজও।

ঢাকা থেকে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ পর্যন্ত হাওর এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম থেকে জামালপুর পর্যন্ত বিজয় এক্সপ্রেস আন্তনগর ট্রেন, চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ হয়ে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত নাসিরাবাদ নামে দুটি মেইল ট্রেন, ঢাকা থেকে জারিয়া-ঝাঞ্জাই পর্যন্ত বলাকা ও ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত মহুয়া কমিউটার ট্রেন গৌরীপুর জংশন হয়ে যাওয়া-আসা করে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ থেকে জারিয়া পর্যন্ত একটি লোকাল ট্রেন এই জংশন হয়ে চারবার আপ-ডাউন করে।

গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার সফিকুল ইসলাম বলেন, স্টেশনের অবকাঠামো ব্রিটিশ আমলের। স্টেশনে আলাদা ৯টি দপ্তরে ৩৫ জনের স্থলে জনবল আছে ২৪ জন। লাইন ছয়টির স্থলে তিনটি সচল আছে। বিশেষ করে ট্রেনের সিগন্যাল ও লাইন পরিবর্তনের জন্য স্টেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্যানেল বোর্ডটি অনেক পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ। এটি প্রায়ই কাজ করে না।

ময়মনসিংহ রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে কিছু সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি।